সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে শিবরাত্রি উপলক্ষে বেলআমলা বারোশিবালয় মন্দিরে প্রসাদ বিতরণ চলাকালে স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের “জয়পুরহাট সনাতন পরিবার” নামের একটি গ্রুপে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টটি করেন শ্রবন দেবনাথ নামে এক ব্যক্তি। সংগঠনের দাবি, ওই পোস্টে তাদের প্রায় ৭০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও মন্দির কমিটির বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত শ্রবন দেবনাথ, সজিব রায় এবং বিরেন পাহান দ্বিতীয় দিনে মন্দিরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। সংগঠনের দাবি, বিরেন পাহান মন্দির কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া স্বেচ্ছাসেবক পরিচয়পত্র তৈরি করেছিলেন। বিষয়টি মন্দির কর্তৃপক্ষের নজরে এলে প্রথম দিন তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। এরই জেরে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ সংগঠনটির।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ হিন্দু যুব পরিষদ জয়পুরহাট জেলা শাখার সভাপতি প্রভাষক গোবিন্দ কুমার বাঁশফোর ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জয়পুরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক গ্রুপের সভাপতি, অ্যাডমিন ও মডারেটররা যাচাই-বাছাই ছাড়াই পোস্টটি অনুমোদন করে সাইবার অপরাধ আইন লঙ্ঘন করেছেন এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি করেছেন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, মন্দির কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব মারোয়াড়ী সম্প্রদায়ের হওয়ায় একটি কুচক্রী মহল বাঙালি ও মারোয়াড়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। জয়পুরহাটের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার যে কোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
লিখিত আবেদনে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে সাইবার অপরাধ আইনে মামলা দায়েরের পথ উন্মুক্ত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অভিযোগপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পোস্ট, মন্তব্যের কপি, অ্যাডমিন তালিকা, প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং অনুমোদিত স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকাসহ একাধিক নথি সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, “অপপ্রচার চালিয়ে সত্যকে ঢাকা যায় না। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যারা মিথ্যাচার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সবাইকে সতর্ক থাকার এবং গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
জয়পুরহাটে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মতামত