অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ইউটিউবার ও ফেসবুক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তার দোকানে নিয়মিত ভিড় জমাচ্ছেন। চা খাওয়ার পাশাপাশি তারা বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে তার ভিডিও ধারণ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে তার সরলতা ও অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে ভিডিওগুলো ধারণ করা হচ্ছে বলেও স্থানীয়দের দাবি। পরে এসব ভিডিও কেটে-ছেঁটে আকর্ষণীয় ও বিতর্কিত ক্যাপশন দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে দ্রুত ভিউ পাওয়া যায়।
এর ফলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ভিডিওগুলোর কমেন্ট বক্স ভরে যাচ্ছে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে, যা একজন নারী হিসেবে তার সম্মান ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য হুমকির কারণ হতে পারে। একজন সংগ্রামী নারী, যিনি পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে কঠোর পরিশ্রম করছেন, তাকে এভাবে উপস্থাপন করা সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে না।
স্থানীয়দের মতে, ওই নারী একজন মা ও একজন স্ত্রী। জীবনের তাগিদে তিনি এই পেশায় নেমেছেন এবং নিজের পরিশ্রমে সংসার চালাচ্ছেন। তার মতো আরও অনেক নারী একইভাবে সংগ্রাম করছেন, কিন্তু তারা আলোচনায় আসেন না, কারণ সেখানে ‘ভিউ’ বা ‘গ্ল্যামার’ নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতি-ভাইরাল হওয়া অনেক সময় ব্যক্তির জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। জনসমক্ষে অতিরিক্ত পরিচিতি অনাকাঙ্ক্ষিত দৃষ্টি ও নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যার দায় কেউ নেয় না।
এই পরিস্থিতিতে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি। কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, যেন তারা মানুষের সম্মান ও ব্যক্তিগত মর্যাদাকে অক্ষুণ্ণ রেখে কাজ করেন। একইসঙ্গে স্থানীয়দেরও অনুরোধ করা হচ্ছে, ওই নারীর নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় সচেতন ভূমিকা রাখতে।
ভিউ ও ভাইরালের দৌড়ে মানবিকতা যেন হারিয়ে না যায়—এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের। একজন সংগ্রামী নারীর গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক, বিনোদনের উপকরণ নয়।
মতামত