গাইবান্ধার পর এবার পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি থেকে এক গভীর উদ্বেগজনক পরিস্থিতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। রাঙ্গামাটির বাঙ্গালহালিয়ায় প্রতিষ্ঠিত সনাতনী ঋষি আশ্রমটি বহু বছর ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে ধর্মীয় চর্চা, মানবসেবা ও বিভিন্ন ধরনের সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। পরম আরাধ্যা গুরুদেব সনাতন ঋষি মহারাজের যোগ্য নেতৃত্বে এই পবিত্র আশ্রমটি দীর্ঘকাল ধরে পার্বত্য অঞ্চলের সনাতনী সমাজসহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষের গভীর আস্থা, চিরন্তন বিশ্বাস ও পরম শান্তির এক অনন্য কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, সম্প্রতি এই ঐতিহ্যবাহী আশ্রম এবং স্বয়ং ঋষি মহারাজকে ঘিরে যে এক বৈরী ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে, তা দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুপরিকল্পিতভাবে উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন শান্তিকামী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মঠ-মন্দির এবং পরম শ্রদ্ধেয় মহারাজদের টার্গেট করে একের পর এক সাজানো বিতর্ক ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। একের পর এক এ ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানি চলতে থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান বা কোনো কার্যকর কঠোর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। রাষ্ট্রীয় নীরবতার কারণে ভুক্তভোগী সাধারণ জনমনে আজ তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠছে যে, সরকার কি কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অপেক্ষা করছে? বাংলাদেশের মাটিতে কোনো ধর্মীয় গুরু, প্রাচীন আশ্রম, ঐতিহ্যবাহী মঠ কিংবা উপাসনালয়কে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা, মনস্তাত্ত্বিক হয়রানি বা চরম অনিরাপত্তার মধ্যে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এটি স্বাধীন দেশের নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
এই সংকটময় মুহূর্তে রাষ্ট্রের কাছে সনাতনী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ঋষি মহারাজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা অবিলম্বে নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হচ্ছে। একই সাথে ঋষি আশ্রমসহ দেশের সকল মঠ-মন্দির ও তৎসংলগ্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষা জোরদার করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। যেকোনো ধরনের ভিত্তিহীন গুজব, সাম্প্রদায়িক উসকানি বা সহিংসতার আশঙ্কাকে শুরুতেই কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলতে চাই, দেশের কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত মানে তা কেবল একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত নয়, বরং এটি সমগ্র বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সম্প্রীতি, আইনের শাসন এবং প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। দেশের সনাতনী সমাজ আজ আর কোনো অন্যায়ের মুখে নীরব দর্শক হয়ে থাকতে রাজি নয়। সনাতনীরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাজে ন্যায়বিচার, জানমালের নিরাপত্তা এবং নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানাচ্ছে এবং এখনই সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার উপযুক্ত সময়।
মতামত