আধুনিকতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে সনাতনী তরুণীদের নৈতিক অবক্ষয় এবং তথাকথিত ভালোবাসার ফাঁদে পড়ে আত্মাহুতির ঘটনা সমাজে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সম্প্রতি আম আদমী পার্টির নেত্রী নন্দিনীর নির্মম পরিণতি আবারও প্রমাণ করেছে যে, মোহের বশবর্তী হয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পারিবারিক অনুশাসনকে বিসর্জন দেওয়ার শেষ পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।
"মেরা আব্দুল আলাদা হ্যায়" অর্থাৎ নিজের পছন্দের পাত্রটি অন্য সবার চেয়ে ব্যতিক্রম—এমন অন্ধ বিশ্বাস বুকে নিয়ে নন্দিনী তার প্রেমিক আব্দুলের সাথে বিবাহবহির্ভূত 'লিভ-ইন রিলেশনে' জড়িয়েছিলেন। কিন্তু দিনশেষে তাকেও সেই চিরন্তন ও নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, যেখানে নিজের অস্তিত্ব ও প্রাণ দুটোই হারাতে হয়। পদে পদে লাঞ্ছনার শিকার হয়ে এবং পরিবারকে চরম সামাজিক ভোগান্তিতে ফেলে সুখের সন্ধানে যাওয়া এই তরুণীদের শেষ ঠিকানা হচ্ছে হিমঘরের নিথর শয্যা অথবা পোস্টমর্টেম টেবিলের শূন্যতা। যেখানে তাদের ক্ষতবিক্ষত দেহকে কাটাছেঁড়া করে 'আলাদা আব্দুলের' নির্মম ভালোবাসার প্রমাণ খুঁজতে হয়।
তথাকথিত প্রগতিশীলতার আড়ালে এই সমাজব্যবস্থায় একশ্রেণীর যুবকদের বাহ্যিক আচরণ ভিন্ন হলেও তাদের মূল অভিসন্ধি ও মনস্তাত্ত্বিক লক্ষ্য যেন একই সুতোয় গাঁথা। (News copied from- 'HINDUS NEWS') "ধর্মের চেয়ে ভালোবাসা বড়"—এমন চটকদার ও বিভ্রান্তিকর ধারণা তরুণীদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণ বা ম্যানিপুলেট করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত সনাতনী মেয়েদের একটি নির্দিষ্ট ফাঁদের পণ্য বানিয়ে তোলে। মিষ্টি কথা ও মোহের তাড়নায় পড়ে যারা নিজের ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মা-বাবার পছন্দকে অবলীলায় বিসর্জন দেয়, একটা সময় তাদের নিজের মূল্যবান জীবনটাকেই উৎসর্গ করতে হয়। সচেতন মহলে এখন একটাই বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এই আধুনিক সমাজব্যবস্থায় আর কত প্রাণ ঝরে যাওয়ার পর সনাতনী নারীদের চোখ খুলবে। ছদ্মবেশী ভালোবাসার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সুগভীর ফাঁদ এবং রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে থাকা ধর্মীয় আগ্রাসনের এই রূপটি কবে তারা অনুধাবন করতে পারবে, নাকি সচেতনতার অভাবে এই আত্মহননের মিছিল চলতেই থাকবে, তা সময়ই বলে দেবে।
মতামত