ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ভারতবর্ষের সামাজিক ও ধর্মীয় অবক্ষয়ের ক্রান্তিলগ্নে আবির্ভূত এই মহাপুরুষের অবদানকে স্মরণ করে বক্তারা বলেন, তিনি ছিলেন জাতিভেদ প্রথা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এক জীবন্ত আলোকবর্তিকা। ১৮৭১ সালের ২৮ এপ্রিল (১৬ বৈশাখ, ১২৭৮ বঙ্গাব্দ) মুর্শিদাবাদের ডাহাপাড়ায় জন্ম নেওয়া এই ‘প্রেমের ঠাকুর’ ফরিদপুরের ব্রাহ্মণকান্দা ও শ্রীঅঙ্গনকে তাঁর প্রধান লীলাভূমিতে পরিণত করেছিলেন।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তৎকালীন সময়ে অশিক্ষা ও দারিদ্র্যে নিমজ্জিত নিম্ন শ্রেণির বুনা, বাগদী ও সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দর নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিলেন। বুনা সর্দার রজনী বাগদীকে 'হরিদাস মোহন্ত' নাম দিয়ে তিনি যে মানবিক বিপ্লব শুরু করেছিলেন, তা তৎকালীন 'ভারতবর্ষ' ও 'আবকারী'র মতো জাতীয় পত্রিকাগুলোতেও প্রশংসিত হয়েছিল। অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধী বা মাদার তেরেসার আন্দোলনের বহু আগেই প্রভু সুন্দর কলকাতার ডোমপল্লি ও সোনাগাছির অবহেলিত নারীদের উদ্ধারে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন।
উৎসবের সমাপনী দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবল চন্দ্র সাহা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দর কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা গোষ্ঠীর সীমায় আবদ্ধ ছিলেন না। তাঁর বিশ্বাস ছিল—সমগ্র মানবগোষ্ঠী একটিই জাতি, যার নাম ‘নরজাতি’ এবং এই জাতির প্রধান ধর্ম হলো ‘মনুষ্যত্ব’।৯ দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে ছিল নামসংকীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা সভা, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং প্রসাদ বিতরণ। উৎসব কমিটি জানায়, বর্তমান সমাজে বিরাজমান হিংসা ও অসহিষ্ণুতা দূর করতে প্রভুর প্রেমের বাণী প্রচার করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।সবশেষে, জাতি-বর্ণভেদ ভুলে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা বজায় রেখে মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
মতামত