উত্সবকে ঘিরে বর্তমানে শিল্পীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, সংস্থার সম্পাদক পীযূষ বড়ুয়া, নির্বাহী সভাপতি কাজল মুখার্জি ও খায়রুন আনাম কাইয়ুমের সরাসরি তত্ত্বাবধানে উৎসবের চূড়ান্ত প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। রবীন্দ্রসংগীতের আধ্যাত্মিক ও নান্দনিক আবেদনকে মূর্ত করে তুলতে শিল্পীরা এখন নিয়মিত মহড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
প্রস্তুতির বিষয়ে বিশিষ্ট শিল্পী তানজিনা তমা জানান যে, গত দুই সপ্তাহ ধরে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে নিবিড় মহড়া চলছে। তাঁর মতে, সংস্থার শিল্পীরা অডিশনের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হন বলে এটি কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং শিল্পীদের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। মহড়ার এই দিনগুলো শিল্পীদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে উৎসবের পূর্বেই এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। সারা বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই বড় আয়োজনে অংশ নিতে শিল্পীরা অত্যন্ত উদগ্রীব হয়ে আছেন।
এবারের উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে প্রয়াত সংগীতজ্ঞ আশা ভোঁসলে, শাহজাহান হাফিজ এবং মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট নজরুলসংগীত শিল্পী ডালিয়া নওশীনের স্মৃতি স্মরণে। উৎসবের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বরেণ্য শিল্পী কলিম শরাফীর জন্মদিনে বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ইফফাত আরা দেওয়ানকে ‘কলিম শরাফী পদক’ ও সম্মাননা প্রদান করা হবে।
আগামী ৮ মে, শুক্রবার বিকেল ৪টায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রথিতযশা কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক মফিদুল হক।
দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে সংস্থার নিজস্ব প্রায় ১৫০ জন শিল্পী ছাড়াও দেশের প্রথিতযশা বরেণ্য অতিথি শিল্পী, আবৃত্তিকার ও নৃত্যশিল্পীরা তাঁদের শিল্পকর্ম পরিবেশন করবেন। প্রতিদিন সকাল ১০টায় প্রাতঃকালীন অধিবেশন এবং বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রধান অধিবেশনগুলো গান, কবিতা ও নৃত্যের সংমিশ্রণে সাজানো হয়েছে, যা রাজধানীর সংস্কৃতিমনা দর্শকদের রবীন্দ্রনাথের চিরকালীন চেতনার সাথে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবে।
মতামত