ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার ২নং দোড়া ইউনিয়নের শিবনগর বাঙ্গালিপুর (পালপাড়া) এলাকায় এক সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি, হামলা, জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও সামাজিকভাবে কোণঠাসা করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, স্থানীয় এক প্রভাবশালী “লেবাসধারী হিন্দু” ব্যক্তি ও তার পরিবারের প্রত্যক্ষ মদদে তাদের ওপর ধারাবাহিকভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে।


পরিবারটির দাবি, নিরাপদে বসবাসের জন্য সরকারি রাস্তার সংলগ্ন জমি ক্রয়ের চেষ্টা করলে সেখানেও বাধার মুখে পড়তে হয়। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় ১৭ শতাংশ জমি কিনতে সক্ষম হলেও পরবর্তীতে পাশের জমি জোরপূর্বক কিনে নিয়ে তাঁদের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তাঁদের জমির ফলদ গাছের ফল জোরপূর্বক তুলে নেওয়া, রাতে ভাড়াটিয়া লোক পাঠিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সামাজিকভাবে চাপে রাখার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ মে বিকেলে লক্ষীপুর বাজার এলাকায় অরবিন্দু পালের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যক্তিগত কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তরা তাঁর পথরোধ করে তাঁকে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে বাঁশের লাঠি ও গাছের ডাল দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। হামলায় তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এসময় অভিযুক্তরা তাঁর পকেটে থাকা প্রায় ৫ হাজার ২০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অরবিন্দু পালের চিৎকার শুনে স্থানীয় কয়েকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে দাবি পরিবারের।
এ ঘটনায় কোটচাঁদপুর মডেল থানা-এ ১১ মে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় সঞ্জয় প্রামানিক, মোঃ সিদ্দিক ও মোঃ রেজাউল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা নম্বর-৭, তারিখ ১১ মে ২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩৭৯/৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, তাঁদের দুই ছেলে বর্তমানে দেশের বাইরে থাকলেও বৃদ্ধ বাবা-মা এলাকায় চরম অনিরাপত্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারটি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি

মতামত