বিশ্বশান্তি, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্য জোরদারের লক্ষ্যে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালা ও মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে হলে ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও প্রথাগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার মনোভাবই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রধান ভিত্তি।
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মিলনায়তনে এ কর্মশালা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক শান্তি ও সেবামূলক সংস্থা হ্যাভেনলি কালচার, ওয়ার্ল্ড পিস, রিস্টোরেশন অব লাইট (এইচডব্লিউপিএল) এবং পিস সেন্টার যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সহযোগিতায় ছিল রিসসো কোসেই কাই (আরকেকে) বাংলাদেশ ইয়ুথ এডুকেশন ফাউন্ডেশন, যুব দক্ষতা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, অতীশ দীপঙ্কর মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স ও নাগরি থিয়েটার।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক ও সমাজসেবীসহ ২২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি আলোচনায় অংশ নেন।
রিসসো কোসেই কাই বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অশোক বড়ুয়া বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, সব ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানো সম্ভব। বাংলাদেশের শান্তি ও উন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়া ও বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এইচডব্লিউপিএল বাংলাদেশের পিস এডুকেটর ও টিম লিডার সাফায়েত হোসেন বলেন, শান্তির কোনো একক সংজ্ঞা নেই। তবে শান্তি অর্জনের জন্য মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করা জরুরি। তিনি বলেন, বৌদ্ধ, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে এবং একে অপরের প্রতি সহনশীল ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। হিংসা-বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসার পরিবর্তে মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করেই একটি সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণ সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হবিগঞ্জের সেন্ট্রাল ক্রিয়েটিভ কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ জালালউদ্দিন রুমি বলেন, এ ধরনের আয়োজন বিভিন্ন মত ও দৃষ্টিভঙ্গির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চাকে উৎসাহিত করে। যৌথ উদ্যোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
সভায় বক্তারা বাংলাদেশে শান্তি, সম্প্রীতি ও আন্তধর্মীয় সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে দক্ষিণ কোরিয়া ও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শান্তি, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জোরদারের লক্ষ্যে এইচডব্লিউপিএলের সঙ্গে বাংলাদেশের আটটি প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রশংসাপত্র বিতরণ করা হয়।
মতামত