হিন্দুস নিউজ

সাজা শেষেও শরীয়তপুরের কারাগারে ১৭ ভারতীয়: কাটছে মানবেতর জীবন, তিনজনের সৎকারে সরকারের ব্যয় ২৯ লাখ


| প্রিন্ট সংস্করণ

সাজা শেষেও শরীয়তপুরের কারাগারে ১৭ ভারতীয়: কাটছে মানবেতর জীবন, তিনজনের সৎকারে সরকারের ব্যয় ২৯ লাখ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
শরীয়তপুর জেলা কারাগারে এক মানবিক সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে আদালতের দেওয়া সাজা ভোগ শেষ করার পরও ১৭ জন ভারতীয় নাগরিক বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। সাজা শেষ হলেও সঠিক পরিচয় যাচাই ও জটিল প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তারা বর্তমানে 'রিলিজ প্রিজনার' (আরপি) হিসেবে কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ ও তিনজন নারী। জানা গেছে, ২০২২ ও ২০২৩ সালে জাজিরা উপজেলার পদ্মা সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে ২০ জন ভারতীয় নাগরিককে আটক করে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা ও জাজিরা থানা পুলিশ। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হলেও, সাজা মেয়াদের পর বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও নিজ দেশে ফেরার অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন, যা মৌলিক মানবাধিকারের এক চরম লঙ্ঘন।


​কারাগারে বন্দি এই বিদেশি নাগরিকদের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে ও স্বজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় তারা তীব্র মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। শরীয়তপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, বন্দিদের মধ্যে অনেকেই ভাষাগত সমস্যার কারণে স্বাভাবিক যোগাযোগ করতে পারছেন না। চরম মানসিক অবসাদ থেকে অনেক বন্দিই ঠিকমতো খাবার গ্রহণ করছেন না এবং পোশাক পরতে চাচ্ছেন না। ফলে তাদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই অসহায় মানুষদের মানবিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন মহলে বারবার চিঠি লিখলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সুরাহা মেলেনি। ​(News copied from- HINDUS NEWS)

​এই দীর্ঘ বন্দিদশার ট্র্যাজেডি এখানেই শেষ নয়, কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই চিরতরে হারিয়ে গেছেন ৩ জন ভারতীয় নাগরিক। বন্দি থাকা অবস্থায় সত্যেন্দ্র কুমার ও বাবুল সিং নামের দুই ব্যক্তি ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এবং রাজন নামের আরেকজন ২০২৫ সালের ২৯ মে মারা যান। মৃত্যুর পরও তাদের মরদেহ নিয়ে চলে দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। মৃতদের লাশ দীর্ঘদিন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের হিমাগারে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। অবশেষে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুজনের এবং ডিসেম্বর মাসে একজনের লাশ স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করা হয়। দীর্ঘ সময় লাশ সংরক্ষণ ও সৎকারের পেছনে সরকারের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব অর্থাৎ মোট ২৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। সনাতনী মূল্যবোধ ও মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই বন্দিদের জীবিতাবস্থায় সশরীরে তাদের পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো সম্ভব হলে হয়তো এই অকাল মৃত্যু ও বিপুল অর্থের অপচয় রোধ করা যেত।

​আইনি বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে মানবাধিকারের চরম বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন। শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল কবীর বলেন, পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে এই জটিলতার দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন, যাতে বন্দিরা তাদের স্বজনদের কাছে এবং নিজ দেশে নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরত যেতে পারেন। অন্যদিকে, চিকন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট আইনজীবী আব্দুল মান্নান তালুকদার বলেন, বিদেশি বন্দিদের মৃত্যুর পর লাশ সংরক্ষণ ও সৎকারের জন্য সরকারের যে লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হচ্ছে, তা এড়ানো সম্ভব যদি সময়মতো তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায়। 

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

তবে এই সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং তারা কী পরিস্থিতিতে রয়েছেন তা ফাইল না দেখে বলতে পারবেন না। একজন জেলা প্রশাসকের এমন উদাসীনতা ও অজ্ঞতা বন্দিদের মানবাধিকারকে আরও বেশি অন্ধকারাচ্ছন্ন করে তুলছে। অবিলম্বে ভারতীয় দূতাবাস ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই অসহায় সনাতনী ও ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত পরিচয় নিশ্চিত করে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাজা শেষেও শরীয়তপুরের কারাগারে ১৭ ভারতীয়: কাটছে মানবেতর জীবন, তিনজনের সৎকারে সরকারের ব্যয় ২৯ লাখ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image
শরীয়তপুর জেলা কারাগারে এক মানবিক সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে আদালতের দেওয়া সাজা ভোগ শেষ করার পরও ১৭ জন ভারতীয় নাগরিক বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। সাজা শেষ হলেও সঠিক পরিচয় যাচাই ও জটিল প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তারা বর্তমানে 'রিলিজ প্রিজনার' (আরপি) হিসেবে কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ ও তিনজন নারী। জানা গেছে, ২০২২ ও ২০২৩ সালে জাজিরা উপজেলার পদ্মা সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে ২০ জন ভারতীয় নাগরিককে আটক করে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা ও জাজিরা থানা পুলিশ। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হলেও, সাজা মেয়াদের পর বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও নিজ দেশে ফেরার অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন, যা মৌলিক মানবাধিকারের এক চরম লঙ্ঘন।


​কারাগারে বন্দি এই বিদেশি নাগরিকদের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে ও স্বজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় তারা তীব্র মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। শরীয়তপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, বন্দিদের মধ্যে অনেকেই ভাষাগত সমস্যার কারণে স্বাভাবিক যোগাযোগ করতে পারছেন না। চরম মানসিক অবসাদ থেকে অনেক বন্দিই ঠিকমতো খাবার গ্রহণ করছেন না এবং পোশাক পরতে চাচ্ছেন না। ফলে তাদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই অসহায় মানুষদের মানবিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন মহলে বারবার চিঠি লিখলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সুরাহা মেলেনি। ​(News copied from- HINDUS NEWS)

​এই দীর্ঘ বন্দিদশার ট্র্যাজেডি এখানেই শেষ নয়, কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই চিরতরে হারিয়ে গেছেন ৩ জন ভারতীয় নাগরিক। বন্দি থাকা অবস্থায় সত্যেন্দ্র কুমার ও বাবুল সিং নামের দুই ব্যক্তি ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এবং রাজন নামের আরেকজন ২০২৫ সালের ২৯ মে মারা যান। মৃত্যুর পরও তাদের মরদেহ নিয়ে চলে দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। মৃতদের লাশ দীর্ঘদিন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের হিমাগারে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। অবশেষে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুজনের এবং ডিসেম্বর মাসে একজনের লাশ স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করা হয়। দীর্ঘ সময় লাশ সংরক্ষণ ও সৎকারের পেছনে সরকারের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব অর্থাৎ মোট ২৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। সনাতনী মূল্যবোধ ও মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই বন্দিদের জীবিতাবস্থায় সশরীরে তাদের পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো সম্ভব হলে হয়তো এই অকাল মৃত্যু ও বিপুল অর্থের অপচয় রোধ করা যেত।

​আইনি বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে মানবাধিকারের চরম বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন। শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল কবীর বলেন, পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে এই জটিলতার দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন, যাতে বন্দিরা তাদের স্বজনদের কাছে এবং নিজ দেশে নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরত যেতে পারেন। অন্যদিকে, চিকন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট আইনজীবী আব্দুল মান্নান তালুকদার বলেন, বিদেশি বন্দিদের মৃত্যুর পর লাশ সংরক্ষণ ও সৎকারের জন্য সরকারের যে লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হচ্ছে, তা এড়ানো সম্ভব যদি সময়মতো তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায়। 

তবে এই সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং তারা কী পরিস্থিতিতে রয়েছেন তা ফাইল না দেখে বলতে পারবেন না। একজন জেলা প্রশাসকের এমন উদাসীনতা ও অজ্ঞতা বন্দিদের মানবাধিকারকে আরও বেশি অন্ধকারাচ্ছন্ন করে তুলছে। অবিলম্বে ভারতীয় দূতাবাস ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই অসহায় সনাতনী ও ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত পরিচয় নিশ্চিত করে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
সাজা শেষেও শরীয়তপুরের কারাগারে ১৭ ভারতীয়: কাটছে মানবেতর জীবন, তিনজনের সৎকারে সরকারের ব্যয় ২৯ লাখ
0:00 0:00
1.0x