শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
হিন্দুস নিউজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

স্থাপত্যের গৌরব বনাম উগ্র ধর্মীয় বিদ্বেষ: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণে কেন এই বাধা?


| প্রিন্ট সংস্করণ

স্থাপত্যের গৌরব বনাম উগ্র ধর্মীয় বিদ্বেষ: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণে কেন এই বাধা?
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
বাংলাদেশ সংবিধানের ৪১(১) অনুচ্ছেদ দেশের প্রত্যেক নাগরিককে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় যেকোনো ধর্ম পালন, প্রচার এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার পূর্ণ অধিকার দিয়েছে। এই সাংবিধানিক রক্ষাকবচ থাকা সত্ত্বেও যখন রাষ্ট্রের বুকে কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ের অভ্যন্তরে চলমান কাজ উগ্রবাদী বা কাঠমোল্লাদের অযাচিত দাবির মুখে স্থগিত হয়ে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই আইনের শাসন ও অসাম্প্রদায়িকতার সমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রামমূর্তি নির্মাণের মহতী উদ্যোগটি আইনি ও রাষ্ট্রীয় সকল নিয়ম মেনেই এতদূর এগিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই এক অদৃশ্য মবের তুষ্টির জন্য এই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হলো। রাষ্ট্র ও প্রশাসন যেখানে আইন সমুন্নত রাখার কথা, সেখানে বিচার এবং সিদ্ধান্ত যদি রাজপথের মবের আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে চলতে শুরু করে, তবে সাধারণ নাগরিকের আইনের ওপর ভরসা রাখার আর কোনো জায়গা অবশিষ্ট থাকে না।


​আজকের এই সামগ্রিক বিচারহীনতা ও বৈষম্যের সংস্কৃতি আমাদের এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি, তনয়া বা রামিসাদের মতো ভাগ্যাহত ভিক্টিমদের ঘটনাগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল না হলে এ দেশে বিচারকার্য সুষ্ঠু ও কার্যকর সময়ে সম্পাদিত হয় না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দেশের প্রতিটি নির্যাতিত ছেলে বা মেয়ের ঘটনা কি রামিসার মতো ভাইরাল হবে? (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') কখনোই নয়। দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হয়তো বছরে অত্যন্ত সংবেদনশীল কোনো একটি ঘটনার শিকার পরিবারের বাড়িতে সান্ত্বনা দিতে যাবেন, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ও সক্রিয় আইন না থাকলে বাকি হাজারো ভিক্টিমের পরিণতি কী হবে? রামিসার ঘটনার কয়েক বাড়ি পরেই এক ভদ্রলোকের শিশুকন্যা নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছে। এখন সেই অসহায় বাবা-মা হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাদের কন্যার খুনের ঘটনাটি একটু ভাইরাল করার জন্য, যাতে রাষ্ট্র তাদের দিকে নজর দেয়। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকের জন্য এর চেয়ে বড়ো আত্মিক কষ্ট ও লজ্জার আর কী হতে পারে?

​যদি সংকীর্ণ ধর্মীয় বেষ্টনীর বাইরে গিয়ে উদার মানসিকতা নিয়ে দেশের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মানুষ বিষয়টিকে দেখতে পারত, তবে এই বিশাল রামমূর্তি নির্মাণ হতে পারত সমগ্র বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের বিষয়। ঢাকায় যদি পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম মসজিদ নির্মিত হয়, তবে স্থাপত্যের সৌন্দর্যে ও গৌরবে অন্য সব ধর্মের মানুষও আনন্দিত হতে পারে। তখন সেটি আর কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্মের প্রার্থনালয় থাকে না, বরং হয়ে ওঠে দেশের একটি অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন। কিন্তু বর্তমানের এই বিদ্বেষপূর্ণ পরিবেশে মুক্তচিন্তার আলো জ্বালানো যেন অপরাধ। প্রকৃতপক্ষে, অন্তরের বিশ্বাস যদি সত্য ও প্রগাঢ় হয়, তবে তা অপরের ধর্মীয় উপাসনালয় বা স্থাপত্য দেখে এভাবে দুমদাম আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে না। ঘরের চালা এবং বুনিয়াদ যদি ভেতর থেকে দুর্বল হয়, তবেই দূরদেশের ঝড়ের খবরে অন্তর কেঁপে ওঠে। এটি আসলে বাইরের ঝড়ের সমস্যা নয়, ঘরের নড়বড়ে কাঠামোরই লক্ষণ, যা একদিন এমনিতেই খসে পড়বে।

​আজকের বাস্তবতায় সংখ্যাগুরু সম্প্রদায় নিজেদের ক্ষমতার জোরে সরকারকে দিয়ে যেকোনো অযৌক্তিক দাবি বা সিদ্ধান্ত কার্যকর করিয়ে নিতে পারছে। তাদের ধর্মানুভূতি এতটাই ঠুনকো যে, অন্যের অধিকার হরণ করেই কেবল তা টিকিয়ে রাখতে হয়। তবে আপনাদের যদি সত্যিই ধর্মের ও আদর্শের জোর থাকে, তবে ক্ষমতার এই দাপটকে ইতিবাচক দিকে ঘুরিয়ে দিন। পারলে একবার এই দেশটাকে দুর্নীতিমুক্ত করে আর সুশাসনে চ্যাম্পিয়ন করে দেখান; দেশজুড়ে চলমান খুন-ধর্ষণের এই মহামারি থামিয়ে দিন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, যেখানে পরমতসহিষ্ণুতা আর মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করার কথা, সেখানে ধর্মের দোহাই দিয়ে কেবল ধ্বংসাত্মক ও বৈষম্যমূলক মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটছে, যা একটি সভ্য রাষ্ট্রের জন্য চরম অশনিসংকেত।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


স্থাপত্যের গৌরব বনাম উগ্র ধর্মীয় বিদ্বেষ: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণে কেন এই বাধা?

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

featured Image
বাংলাদেশ সংবিধানের ৪১(১) অনুচ্ছেদ দেশের প্রত্যেক নাগরিককে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় যেকোনো ধর্ম পালন, প্রচার এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার পূর্ণ অধিকার দিয়েছে। এই সাংবিধানিক রক্ষাকবচ থাকা সত্ত্বেও যখন রাষ্ট্রের বুকে কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ের অভ্যন্তরে চলমান কাজ উগ্রবাদী বা কাঠমোল্লাদের অযাচিত দাবির মুখে স্থগিত হয়ে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই আইনের শাসন ও অসাম্প্রদায়িকতার সমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রামমূর্তি নির্মাণের মহতী উদ্যোগটি আইনি ও রাষ্ট্রীয় সকল নিয়ম মেনেই এতদূর এগিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই এক অদৃশ্য মবের তুষ্টির জন্য এই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হলো। রাষ্ট্র ও প্রশাসন যেখানে আইন সমুন্নত রাখার কথা, সেখানে বিচার এবং সিদ্ধান্ত যদি রাজপথের মবের আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে চলতে শুরু করে, তবে সাধারণ নাগরিকের আইনের ওপর ভরসা রাখার আর কোনো জায়গা অবশিষ্ট থাকে না।


​আজকের এই সামগ্রিক বিচারহীনতা ও বৈষম্যের সংস্কৃতি আমাদের এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি, তনয়া বা রামিসাদের মতো ভাগ্যাহত ভিক্টিমদের ঘটনাগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল না হলে এ দেশে বিচারকার্য সুষ্ঠু ও কার্যকর সময়ে সম্পাদিত হয় না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দেশের প্রতিটি নির্যাতিত ছেলে বা মেয়ের ঘটনা কি রামিসার মতো ভাইরাল হবে? (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') কখনোই নয়। দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হয়তো বছরে অত্যন্ত সংবেদনশীল কোনো একটি ঘটনার শিকার পরিবারের বাড়িতে সান্ত্বনা দিতে যাবেন, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ও সক্রিয় আইন না থাকলে বাকি হাজারো ভিক্টিমের পরিণতি কী হবে? রামিসার ঘটনার কয়েক বাড়ি পরেই এক ভদ্রলোকের শিশুকন্যা নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছে। এখন সেই অসহায় বাবা-মা হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাদের কন্যার খুনের ঘটনাটি একটু ভাইরাল করার জন্য, যাতে রাষ্ট্র তাদের দিকে নজর দেয়। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকের জন্য এর চেয়ে বড়ো আত্মিক কষ্ট ও লজ্জার আর কী হতে পারে?

​যদি সংকীর্ণ ধর্মীয় বেষ্টনীর বাইরে গিয়ে উদার মানসিকতা নিয়ে দেশের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মানুষ বিষয়টিকে দেখতে পারত, তবে এই বিশাল রামমূর্তি নির্মাণ হতে পারত সমগ্র বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের বিষয়। ঢাকায় যদি পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম মসজিদ নির্মিত হয়, তবে স্থাপত্যের সৌন্দর্যে ও গৌরবে অন্য সব ধর্মের মানুষও আনন্দিত হতে পারে। তখন সেটি আর কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্মের প্রার্থনালয় থাকে না, বরং হয়ে ওঠে দেশের একটি অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন। কিন্তু বর্তমানের এই বিদ্বেষপূর্ণ পরিবেশে মুক্তচিন্তার আলো জ্বালানো যেন অপরাধ। প্রকৃতপক্ষে, অন্তরের বিশ্বাস যদি সত্য ও প্রগাঢ় হয়, তবে তা অপরের ধর্মীয় উপাসনালয় বা স্থাপত্য দেখে এভাবে দুমদাম আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে না। ঘরের চালা এবং বুনিয়াদ যদি ভেতর থেকে দুর্বল হয়, তবেই দূরদেশের ঝড়ের খবরে অন্তর কেঁপে ওঠে। এটি আসলে বাইরের ঝড়ের সমস্যা নয়, ঘরের নড়বড়ে কাঠামোরই লক্ষণ, যা একদিন এমনিতেই খসে পড়বে।

​আজকের বাস্তবতায় সংখ্যাগুরু সম্প্রদায় নিজেদের ক্ষমতার জোরে সরকারকে দিয়ে যেকোনো অযৌক্তিক দাবি বা সিদ্ধান্ত কার্যকর করিয়ে নিতে পারছে। তাদের ধর্মানুভূতি এতটাই ঠুনকো যে, অন্যের অধিকার হরণ করেই কেবল তা টিকিয়ে রাখতে হয়। তবে আপনাদের যদি সত্যিই ধর্মের ও আদর্শের জোর থাকে, তবে ক্ষমতার এই দাপটকে ইতিবাচক দিকে ঘুরিয়ে দিন। পারলে একবার এই দেশটাকে দুর্নীতিমুক্ত করে আর সুশাসনে চ্যাম্পিয়ন করে দেখান; দেশজুড়ে চলমান খুন-ধর্ষণের এই মহামারি থামিয়ে দিন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, যেখানে পরমতসহিষ্ণুতা আর মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করার কথা, সেখানে ধর্মের দোহাই দিয়ে কেবল ধ্বংসাত্মক ও বৈষম্যমূলক মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটছে, যা একটি সভ্য রাষ্ট্রের জন্য চরম অশনিসংকেত।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
স্থাপত্যের গৌরব বনাম উগ্র ধর্মীয় বিদ্বেষ: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণে কেন এই বাধা?
0:00 0:00
1.0x