রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র দুই বছর বয়সী সনাতনী শিশু আদভিক আগরওয়ালার অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজবাড়ী–কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের কালুখালী কলেজ মোড় এলাকায় একটি দ্রুতগামী প্রাইভেট কার ও যাত্রীবাহী ইজিবাইকের মধ্যে এই মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুর মা ও চাচাসহ অন্তত আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত শিশু আদভিক ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার অম্বিকাপুর এলাকার বাসিন্দা জয় আগরওয়ালার একমাত্র পুত্র সন্তান। এই নিষ্পাপ সনাতনী শিশুর অকাল মৃত্যুতে পরিবারসহ গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং মানবাধিকার সচেতন নাগরিকদের মনে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আদভিকের মা জ্যোতি খেতান আগরওয়ালা তাঁর বাবার বাড়ি জয়পুরহাট থেকে সন্তান ও দেবরকে সঙ্গে নিয়ে প্রাইভেট কারযোগে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। গাড়িটি কালুখালী কলেজ মোড়ের কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী ইজিবাইকের সঙ্গে সেটির প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে ইজিবাইকটি মুহূর্তেই দুমড়েমুচড়ে যায় এবং প্রাইভেট কারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা একটি গভীর ডোবায় পড়ে যায়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') দুর্ঘটনার ঠিক ওই মুহূর্তেই মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর জখম হয় নিষ্পাপ শিশু আদভিক এবং পরবর্তীতে ঘটনাস্থলেই তার করুণ মৃত্যু ঘটে। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপদ জীবনের অধিকার রক্ষায় যেখানে রাষ্ট্র দায়বদ্ধ, সেখানে প্রতিনিয়ত এমন বেপরোয়া গতির বলি হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিরা হলেন নিহত শিশুর মা জ্যোতি খেতান আগরওয়ালা এবং চাচা মহাদেব আগরওয়ালা, ইজিবাইকের চালক সোহাগ মিয়া ও যাত্রী সেলিনা বেগমসহ ইসলাম মণ্ডল। আহতদের মধ্যে জ্যোতি ও মহাদেব আগরওয়ালার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাংশা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, নিহত শিশুর মরদেহ রাতেই আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ডোবায় পড়ে যাওয়া কারটি ক্রেনের সাহায্যে উদ্ধার করা হয়েছে। সড়ক-মহাসড়কে প্রতিনিয়ত ঝরে যাওয়া এই নিষ্পাপ প্রাণগুলোর নিরাপত্তা এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কঠোর ও মানবিক ভূমিকা কাম্য।
মতামত