হিন্দুস নিউজ

জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রায় খুলবে ভাগ্যের দুয়ার: জানুন পুণ্য তিথি ও অলৌকিক সুখ-সমৃদ্ধির শাস্ত্রীয় নিয়মাবলী


| প্রিন্ট সংস্করণ

জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রায় খুলবে ভাগ্যের দুয়ার: জানুন পুণ্য তিথি ও অলৌকিক সুখ-সমৃদ্ধির শাস্ত্রীয় নিয়মাবলী
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
সনাতন ধর্মের অন্যতম মহাসমাবেশ ও আধ্যাত্মিক চেতনার প্রতীক শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের পরম পবিত্র স্নানযাত্রা উৎসব সমাগত। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি সনাতন ধর্মাবলম্বী ও মানবতাবাদী মানুষের কাছে জগন্নাথ সংস্কৃতি কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি সাম্য, অহিংসা ও সর্বজনীন মানবাধিকারের এক শাশ্বত বার্তা বহন করে। পুরুষোত্তম ধাম পুরী থেকে শুরু করে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে, ভারতের হুগলির মাহেশ কিংবা আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) প্রতিটি মন্দিরে এই মহোৎসবকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব আনন্দঘন পরিবেশ। সনাতনী শাস্ত্রীয় ঐতিহ্য অনুসারে, মহা রথযাত্রার পূর্বে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীজগন্নাথ, অগ্রজ বলরাম এবং ভগিনী সুভদ্রা দেবীকে ১০৮ ঘড়া সুবাসিত জল দিয়ে মহাস্নান করানোর বিধান রয়েছে, যা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়।


​সনাতনী বিশ্বাস মতে, এই পরম পবিত্র তিথিতে শাস্ত্রীয় নিয়ম ও শুদ্ধাচার মেনে চললে ভক্তের জীবনে পরম কল্যাণ সাধিত হয় এবং ঘোর কলিযুগেও রাতারাতি ভাগ্যের চাকা ঘুরে গিয়ে পরিবারে নেমে আসে সুখ, শান্তি ও অনাবিল সমৃদ্ধি। স্নানযাত্রার এই পুণ্যলগ্নে ভক্তদের অত্যন্ত ভোরে শয্যা ত্যাগ করে সম্ভব হলে গঙ্গাস্নান অথবা স্থানীয় কোনো পবিত্র জলাশয়ে স্নান সমাপনপূর্বক শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করতে হয়। এরপর উদীয়মান সূর্যদেবকে প্রণাম জানিয়ে মন্দিরে বা গৃহবিগ্রহের চরণে পূজানিবেদন করার নিয়ম রয়েছে। তবে এই বিশেষ পূজার পূর্বে শ্রীবিগ্রহগণকে গঙ্গাজল, কাঁচা দুধ, আতর, চন্দন ও কর্পূর মিশ্রিত সুবাসিত জল দিয়ে স্নান করানো হয় এবং স্নানান্তে মহাপ্রভুর চরণে ১০৮টি তুলসী পত্র অর্পণ করা আবশ্যক। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') পূজার নৈবেদ্য হিসেবে পাঁচ রকমের ফল ও মিষ্টান্ন নিবেদন করে গোলাপ ফুলের অর্ঘ্য সাজিয়ে আরতি সমাপন করতে হয় এবং এই বিশেষ দিনে ব্রাহ্মণ ভোজন করালে পরম আশীর্বাদ লাভ সম্ভব হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।

​বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকার গণনা অনুযায়ী, এ বছর পরম পবিত্র পূর্ণিমা তিথিটি শুরু হয়েছে রবিবার রাত ৩:০৮ মিনিটে এবং এই তিথির সমাপ্তি ঘটবে সোমবার ভোর ৫:২৭ মিনিটে, যার ফলে ২৯ জুন সোমবারই জগন্নাথদেবের মহাস্নানযাত্রা উদযাপনের সবচেয়ে মাহেন্দ্রক্ষণ ও সর্বোত্তম সময়। এই মহাস্নানযাত্রার পর আগামী ১৬ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে সাড়ম্বরে উদযাপিত হবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব, যার দ্বিতীয়া তিথি শুরু হচ্ছে ১৫ জুলাই দুপুর ১:৪৬ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৬ জুলাই সকাল ১১:৪৪ মিনিটে। পরবর্তীতে আগামী ২৪ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার ভক্তকূলের পরম আনন্দের মধ্য দিয়ে উল্টোরথ যাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। মানবাধিকার ও বিশ্বজনীন সৌভ্রাতৃত্বের বাণী ছড়িয়ে দিতে এবং সনাতনী ঐতিহ্য রক্ষার্থে এই রথযাত্রা ও স্নানযাত্রা উৎসব প্রতিটি মানুষের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি ও আধ্যাত্মিক মুক্তি, এটাই এই পুণ্যলগ্নের মূল প্রার্থনা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রায় খুলবে ভাগ্যের দুয়ার: জানুন পুণ্য তিথি ও অলৌকিক সুখ-সমৃদ্ধির শাস্ত্রীয় নিয়মাবলী

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image
সনাতন ধর্মের অন্যতম মহাসমাবেশ ও আধ্যাত্মিক চেতনার প্রতীক শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের পরম পবিত্র স্নানযাত্রা উৎসব সমাগত। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি সনাতন ধর্মাবলম্বী ও মানবতাবাদী মানুষের কাছে জগন্নাথ সংস্কৃতি কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি সাম্য, অহিংসা ও সর্বজনীন মানবাধিকারের এক শাশ্বত বার্তা বহন করে। পুরুষোত্তম ধাম পুরী থেকে শুরু করে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে, ভারতের হুগলির মাহেশ কিংবা আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) প্রতিটি মন্দিরে এই মহোৎসবকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব আনন্দঘন পরিবেশ। সনাতনী শাস্ত্রীয় ঐতিহ্য অনুসারে, মহা রথযাত্রার পূর্বে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীজগন্নাথ, অগ্রজ বলরাম এবং ভগিনী সুভদ্রা দেবীকে ১০৮ ঘড়া সুবাসিত জল দিয়ে মহাস্নান করানোর বিধান রয়েছে, যা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়।


​সনাতনী বিশ্বাস মতে, এই পরম পবিত্র তিথিতে শাস্ত্রীয় নিয়ম ও শুদ্ধাচার মেনে চললে ভক্তের জীবনে পরম কল্যাণ সাধিত হয় এবং ঘোর কলিযুগেও রাতারাতি ভাগ্যের চাকা ঘুরে গিয়ে পরিবারে নেমে আসে সুখ, শান্তি ও অনাবিল সমৃদ্ধি। স্নানযাত্রার এই পুণ্যলগ্নে ভক্তদের অত্যন্ত ভোরে শয্যা ত্যাগ করে সম্ভব হলে গঙ্গাস্নান অথবা স্থানীয় কোনো পবিত্র জলাশয়ে স্নান সমাপনপূর্বক শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করতে হয়। এরপর উদীয়মান সূর্যদেবকে প্রণাম জানিয়ে মন্দিরে বা গৃহবিগ্রহের চরণে পূজানিবেদন করার নিয়ম রয়েছে। তবে এই বিশেষ পূজার পূর্বে শ্রীবিগ্রহগণকে গঙ্গাজল, কাঁচা দুধ, আতর, চন্দন ও কর্পূর মিশ্রিত সুবাসিত জল দিয়ে স্নান করানো হয় এবং স্নানান্তে মহাপ্রভুর চরণে ১০৮টি তুলসী পত্র অর্পণ করা আবশ্যক। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') পূজার নৈবেদ্য হিসেবে পাঁচ রকমের ফল ও মিষ্টান্ন নিবেদন করে গোলাপ ফুলের অর্ঘ্য সাজিয়ে আরতি সমাপন করতে হয় এবং এই বিশেষ দিনে ব্রাহ্মণ ভোজন করালে পরম আশীর্বাদ লাভ সম্ভব হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।

​বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকার গণনা অনুযায়ী, এ বছর পরম পবিত্র পূর্ণিমা তিথিটি শুরু হয়েছে রবিবার রাত ৩:০৮ মিনিটে এবং এই তিথির সমাপ্তি ঘটবে সোমবার ভোর ৫:২৭ মিনিটে, যার ফলে ২৯ জুন সোমবারই জগন্নাথদেবের মহাস্নানযাত্রা উদযাপনের সবচেয়ে মাহেন্দ্রক্ষণ ও সর্বোত্তম সময়। এই মহাস্নানযাত্রার পর আগামী ১৬ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে সাড়ম্বরে উদযাপিত হবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব, যার দ্বিতীয়া তিথি শুরু হচ্ছে ১৫ জুলাই দুপুর ১:৪৬ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৬ জুলাই সকাল ১১:৪৪ মিনিটে। পরবর্তীতে আগামী ২৪ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার ভক্তকূলের পরম আনন্দের মধ্য দিয়ে উল্টোরথ যাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। মানবাধিকার ও বিশ্বজনীন সৌভ্রাতৃত্বের বাণী ছড়িয়ে দিতে এবং সনাতনী ঐতিহ্য রক্ষার্থে এই রথযাত্রা ও স্নানযাত্রা উৎসব প্রতিটি মানুষের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি ও আধ্যাত্মিক মুক্তি, এটাই এই পুণ্যলগ্নের মূল প্রার্থনা।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রায় খুলবে ভাগ্যের দুয়ার: জানুন পুণ্য তিথি ও অলৌকিক সুখ-সমৃদ্ধির শাস্ত্রীয় নিয়মাবলী
0:00 0:00
1.0x