শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
হিন্দুস নিউজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

বৃথা প্রাণীহিংসা বনাম বৈধ বলিদান: বৈদিক ধর্মে মাংসাহারের প্রকৃত বিধান ও আধ্যাত্মিক সত্য


| প্রিন্ট সংস্করণ

বৃথা প্রাণীহিংসা বনাম বৈধ বলিদান: বৈদিক ধর্মে মাংসাহারের প্রকৃত বিধান ও আধ্যাত্মিক সত্য
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
সনাতন ধর্মে পরম ধর্ম হিসেবে করুণা ও অহিংসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও সামাজিক জীবন ও মানব স্বভাবের বাস্তবতায় খাদ্যরীতি নিয়ে বিশদ শাস্ত্রীয় পথনির্দেশ রয়েছে। সাধনজীবনের জন্য মাংসাহার কখনোই বিধেয় নয় এবং সনাতন ধর্মে বৃথা প্রাণীহিংসা বা কেবল জিহ্বার স্বাদের জন্য পশুবধ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তবে মহাকাব্য মহাভারত, মনুসংহিতা, মহানির্বাণতন্ত্র ও শ্রীমদ্ভাগবতের মতো ধর্মে প্রামাণ্য গ্রন্থসমূহে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে যে, যজ্ঞে বা দেবোদ্দেশে সমর্পণ করে প্রস্তুতকৃত আহার গ্রহণ করলে তা পাপে পরিণত হয় না। বৈদিক নীতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে যবচূর্ণ, খিচুড়ি, পায়স, পিঠা কিংবা মাংসের মতো সুস্বাদু ও উপাদেয় খাদ্য বস্তু কখনোই কেবল নিজের ভোগের জন্য প্রস্তুত বা একা ভক্ষণ করা উচিত নয়; বরং সর্বপ্রথমে তা দেবতায় নিবেদন ও সর্বজনের মধ্যে বণ্টনপূর্বক গ্রহণ করাই শাস্ত্রসম্মত মূল বিধান।


​মহাভারতের অনুশাসন পর্বে এ প্রসঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তিলতণ্ডুলসিদ্ধ অন্ন, কৃশর, পায়স কিংবা মাংস—কোনোটিই কেবল নিজের শারীরিক তৃপ্তির জন্য প্রস্তুত করা যাবে না, বরং ঐ সমস্ত বস্তু দেবোদ্দেশে প্রস্তুত করতে হবে। মহাভারতের এই সিদ্ধান্তের অনুরূপ বিধান পাওয়া যায় মনুসংহিতাতেও। সেখানে অসংস্কৃত পশুমাংস অর্থাৎ যে পশুকে যজ্ঞে দেবোদ্দেশে সমর্পণ করা হয়নি, সেই পশুর মাংস ভোজন করতে স্পষ্ট নিষেধ করা হয়েছে। শাস্ত্রের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত প্রথাগত বলিকৃত পশু সকল বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে সদ্গতি প্রাপ্ত হয়। পশুবলির প্রথা মূলত প্রতীকী অর্থে মানুষের শরীরস্থ ষড়রিপু অর্থাৎ কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসয্যের বিনাশের বার্তা বহন করে। পশুত্ব থেকে মনুষ্যত্ব এবং পরিশেষে দেবত্বে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় দেবোদ্দেশে বলিদানকে শাস্ত্রে ‘অহিংসা’ বলা হয়েছে। যজ্ঞের পুষ্টি ও বিধানের নিমিত্ত স্বয়ং প্রজাপতি পশু সৃষ্টি করেছেন; ফলে প্রথাগত যজ্ঞে যে পশুবধ, তা হিংসা বা পাপ নয়, বরং দেব সন্তুষ্টির জন্য আয়োজিত বৈধ কর্ম। ​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

​শাস্ত্রীয় বিধানে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, মহানির্বাণতন্ত্রে দেবোদ্দেশে উৎসর্গীকৃত বলিক্রিয়াকে 'বৈধ হিংসা' বলা হয়েছে, যা মানুষকে পাপে লিপ্ত করে না। তবে এই বিশেষ দৈব উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে অন্য কোনো স্থলে প্রাণীহিংসা করা সম্পূর্ণ বর্জনীয়। অথর্ববেদ ও শ্রীমদ্ভাগবতে মানুষের স্বভাবজাত বৃত্তির বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, মানব সমাজ স্বাভাবিকভাবেই সুরা, মাংস ও কায়িক ভোগের প্রতি আকৃষ্ট হয়। শাস্ত্রের মূল অভীষ্ট বিধিনিষেধের মাধ্যমে মানুষের এই উচ্ছৃঙ্খল প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ ও সংযমিত করে আধ্যাত্মিক নিবৃত্তিমার্গে পরিচালিত করা। শ্রীমদ্ভাগবতের একাদশ স্কন্ধে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যজ্ঞে পশু উৎসর্গ বা 'আলভন' মূলত আধ্যাত্মিক সংযমের একটি রূপ, বৃথা প্রাণী হত্যা নয়। কিন্তু শাস্ত্রীয় চেতনাহীন ও অহংকারী ব্যক্তিরা অনর্থক পশুবধ করে পাপের ভাগী হয়, যাদের জন্য পরকালে কঠোর পরিণতির কথা বলা হয়েছে।

​ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে কেবল উদ্ভিজ্জ খাদ্যের ওপর নির্ভর করে জীবনধারণ করা অনেকের জন্যই কঠিন। বৈদিক সাহিত্য অনুযায়ী, সাধনার উচ্চ মার্গে অবস্থানকারীদের জন্য প্রাণীজ আহার সম্পূর্ণ বর্জন করাই সর্বোত্তম পন্থা। তবে যারা সাধারণ সাংসারিক জীবনে প্রতিনিয়ত মাংস ভোজন করছেন, তাদের জন্য কসাইখানা থেকে কেনা অপ্রাপ্ত ও সংস্কারহীন মাংস পরিহার করে দেবতায় অর্পিত দৈব বিধিতে প্রস্তুত মাংস ভোজন করাই শ্রেয়। বিশেষ করে বঙ্গদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, সাধারণ মাংসের দোকানগুলোর প্রায় সবই ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের দ্বারা পরিচালিত, যারা নিজেদের ধর্মীয় বিধিতে পশু হত্যা করে থাকে। ফলে সনাতন ধর্মে বিশ্বাসীদের জন্য কসাইখানার সেই মাংসের পরিবর্তে দেবোদ্দেশে নিবেদিত ও দৈব বিধিতে সুসংস্কৃত মাংস ভক্ষণই আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় দিক থেকে পরম সঙ্গত ও উত্তম।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বৃথা প্রাণীহিংসা বনাম বৈধ বলিদান: বৈদিক ধর্মে মাংসাহারের প্রকৃত বিধান ও আধ্যাত্মিক সত্য

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image
সনাতন ধর্মে পরম ধর্ম হিসেবে করুণা ও অহিংসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও সামাজিক জীবন ও মানব স্বভাবের বাস্তবতায় খাদ্যরীতি নিয়ে বিশদ শাস্ত্রীয় পথনির্দেশ রয়েছে। সাধনজীবনের জন্য মাংসাহার কখনোই বিধেয় নয় এবং সনাতন ধর্মে বৃথা প্রাণীহিংসা বা কেবল জিহ্বার স্বাদের জন্য পশুবধ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তবে মহাকাব্য মহাভারত, মনুসংহিতা, মহানির্বাণতন্ত্র ও শ্রীমদ্ভাগবতের মতো ধর্মে প্রামাণ্য গ্রন্থসমূহে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে যে, যজ্ঞে বা দেবোদ্দেশে সমর্পণ করে প্রস্তুতকৃত আহার গ্রহণ করলে তা পাপে পরিণত হয় না। বৈদিক নীতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে যবচূর্ণ, খিচুড়ি, পায়স, পিঠা কিংবা মাংসের মতো সুস্বাদু ও উপাদেয় খাদ্য বস্তু কখনোই কেবল নিজের ভোগের জন্য প্রস্তুত বা একা ভক্ষণ করা উচিত নয়; বরং সর্বপ্রথমে তা দেবতায় নিবেদন ও সর্বজনের মধ্যে বণ্টনপূর্বক গ্রহণ করাই শাস্ত্রসম্মত মূল বিধান।


​মহাভারতের অনুশাসন পর্বে এ প্রসঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তিলতণ্ডুলসিদ্ধ অন্ন, কৃশর, পায়স কিংবা মাংস—কোনোটিই কেবল নিজের শারীরিক তৃপ্তির জন্য প্রস্তুত করা যাবে না, বরং ঐ সমস্ত বস্তু দেবোদ্দেশে প্রস্তুত করতে হবে। মহাভারতের এই সিদ্ধান্তের অনুরূপ বিধান পাওয়া যায় মনুসংহিতাতেও। সেখানে অসংস্কৃত পশুমাংস অর্থাৎ যে পশুকে যজ্ঞে দেবোদ্দেশে সমর্পণ করা হয়নি, সেই পশুর মাংস ভোজন করতে স্পষ্ট নিষেধ করা হয়েছে। শাস্ত্রের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত প্রথাগত বলিকৃত পশু সকল বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে সদ্গতি প্রাপ্ত হয়। পশুবলির প্রথা মূলত প্রতীকী অর্থে মানুষের শরীরস্থ ষড়রিপু অর্থাৎ কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসয্যের বিনাশের বার্তা বহন করে। পশুত্ব থেকে মনুষ্যত্ব এবং পরিশেষে দেবত্বে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় দেবোদ্দেশে বলিদানকে শাস্ত্রে ‘অহিংসা’ বলা হয়েছে। যজ্ঞের পুষ্টি ও বিধানের নিমিত্ত স্বয়ং প্রজাপতি পশু সৃষ্টি করেছেন; ফলে প্রথাগত যজ্ঞে যে পশুবধ, তা হিংসা বা পাপ নয়, বরং দেব সন্তুষ্টির জন্য আয়োজিত বৈধ কর্ম। ​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

​শাস্ত্রীয় বিধানে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, মহানির্বাণতন্ত্রে দেবোদ্দেশে উৎসর্গীকৃত বলিক্রিয়াকে 'বৈধ হিংসা' বলা হয়েছে, যা মানুষকে পাপে লিপ্ত করে না। তবে এই বিশেষ দৈব উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে অন্য কোনো স্থলে প্রাণীহিংসা করা সম্পূর্ণ বর্জনীয়। অথর্ববেদ ও শ্রীমদ্ভাগবতে মানুষের স্বভাবজাত বৃত্তির বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, মানব সমাজ স্বাভাবিকভাবেই সুরা, মাংস ও কায়িক ভোগের প্রতি আকৃষ্ট হয়। শাস্ত্রের মূল অভীষ্ট বিধিনিষেধের মাধ্যমে মানুষের এই উচ্ছৃঙ্খল প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ ও সংযমিত করে আধ্যাত্মিক নিবৃত্তিমার্গে পরিচালিত করা। শ্রীমদ্ভাগবতের একাদশ স্কন্ধে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যজ্ঞে পশু উৎসর্গ বা 'আলভন' মূলত আধ্যাত্মিক সংযমের একটি রূপ, বৃথা প্রাণী হত্যা নয়। কিন্তু শাস্ত্রীয় চেতনাহীন ও অহংকারী ব্যক্তিরা অনর্থক পশুবধ করে পাপের ভাগী হয়, যাদের জন্য পরকালে কঠোর পরিণতির কথা বলা হয়েছে।

​ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে কেবল উদ্ভিজ্জ খাদ্যের ওপর নির্ভর করে জীবনধারণ করা অনেকের জন্যই কঠিন। বৈদিক সাহিত্য অনুযায়ী, সাধনার উচ্চ মার্গে অবস্থানকারীদের জন্য প্রাণীজ আহার সম্পূর্ণ বর্জন করাই সর্বোত্তম পন্থা। তবে যারা সাধারণ সাংসারিক জীবনে প্রতিনিয়ত মাংস ভোজন করছেন, তাদের জন্য কসাইখানা থেকে কেনা অপ্রাপ্ত ও সংস্কারহীন মাংস পরিহার করে দেবতায় অর্পিত দৈব বিধিতে প্রস্তুত মাংস ভোজন করাই শ্রেয়। বিশেষ করে বঙ্গদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, সাধারণ মাংসের দোকানগুলোর প্রায় সবই ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের দ্বারা পরিচালিত, যারা নিজেদের ধর্মীয় বিধিতে পশু হত্যা করে থাকে। ফলে সনাতন ধর্মে বিশ্বাসীদের জন্য কসাইখানার সেই মাংসের পরিবর্তে দেবোদ্দেশে নিবেদিত ও দৈব বিধিতে সুসংস্কৃত মাংস ভক্ষণই আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় দিক থেকে পরম সঙ্গত ও উত্তম।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
বৃথা প্রাণীহিংসা বনাম বৈধ বলিদান: বৈদিক ধর্মে মাংসাহারের প্রকৃত বিধান ও আধ্যাত্মিক সত্য
0:00 0:00
1.0x