বান্দরবান পার্বত্য জেলার সনাতনী সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক কেন্দ্র ‘বান্দরবান সার্বজনীন কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির’-এর ‘নির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৬’ অত্যন্ত আনন্দঘন, শান্তিপূর্ণ ও সুসংগঠিত পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মন্দির প্রাঙ্গণের সভাকক্ষ ও মহামায়া হলরুমে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মোট নিবন্ধিত ৩০৭ জন ভোটারের মধ্যে নির্ধারিত সময়ে কাস্ট হওয়া মোট ব্যালট সংখ্যা ছিল ২৯৭টি, যা ভক্ত ও সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং ধর্মীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি তাঁদের সুদৃঢ় আস্থার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রজুড়ে বিরাজ করছিল এক উৎসবমুখর আমেজ। সুশৃঙ্খল সারিতে দাঁড়িয়ে সনাতন ধর্মের ধর্মপ্রাণ অনুসারীরা পরম উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে কাস্ট হওয়া ব্যালট সুন্দর ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে বাবু বিপ্লব কান্তি দাশ ২৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে 'না-ভোট' পড়ে ৩১টি এবং বাতিল হয় ৩টি ব্যালট (বৈধ ব্যালট ২৭৪টি)। সাধারণ সম্পাদক পদে বাবু রিটল কান্তি বিশ্বাস ১৩৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাবু সুজন চক্রবর্তী পান ১১৫ ভোট এবং বাবু তপন চক্রবর্তী পান ০৯ ভোট। এ পদে 'না-ভোট' ছিল ০২টি ও বাতিল হয় ০৪টি ব্যালট (বৈধ ব্যালট ২৯৩টি)। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') অন্যদিকে, কোষাধ্যক্ষ পদে বাবু দয়াল চৌধুরী ২২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, আর এ পদে 'না-ভোট' পড়েছে ৭১টি এবং বাতিল ব্যালট ছিল ০৪টি (বৈধ ব্যালট ২৯৩টি)।
সমগ্র নির্বাচন প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রশ্নাতীতভাবে পরিচালনা করার জন্য সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার শ্রী অর্পণ কুমার দাশ। এছাড়া নির্বাচন কমিশনার হিসেবে শ্রী অরুন কুমার দত্ত ও শ্রী দিলীপ চক্রবর্তী এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে শ্রী সুমন পাল ও শ্রী কিশোর দাশ দায়িত্ব পালন করেন। উপস্থিত বিজয়ী ও প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীদের স্বাক্ষর গ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফলাফল অনুমোদন ও প্রকাশ করা হয়। পার্বত্য অঞ্চলের সংখ্যালঘুদের সামাজিক ঐক্য, ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই সুসংগঠিত নির্বাচন সনাতনী সমাজের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করছেন স্থানীয় মানবাধিকার ও ধর্মানুরাগী সচেতন মহল।
মতামত