হিন্দুস নিউজ

দেড় লাখ দিয়াশলাই কাঠি ও রেশমি সুতায় মহালয়ার আগে ফুটে উঠলেন দেবী দুর্গা


| প্রিন্ট সংস্করণ

দেড় লাখ দিয়াশলাই কাঠি ও রেশমি সুতায় মহালয়ার আগে ফুটে উঠলেন দেবী দুর্গা
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
বাংলার আবহমান সনাতনী ঐতিহ্যে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরা। প্রতিটি মণ্ডপে চলছে দেবী দুর্গার অনন্য রূপ ফুটিয়ে তোলার নিরন্তর প্রচেষ্টা। তবে এবারের দুর্গোৎসবে বিশেষ এক আকর্ষণ তৈরি হয়েছে সাতক্ষীরার ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন দুর্গাপূজা মন্দিরে। যেখানে মাটির ছোঁয়া ছাড়াই কেবল দিয়াশলাই কাঠি ও রেশমি সুতার নিখুঁত বুননে ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার রূপ। এমন ব্যতিক্রমী ও উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা একদিকে যেমন শৈল্পিক নান্দনিকতাকে তুলে ধরছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের সনাতনীদের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি তাদের অবিচল নিষ্ঠাকে উজ্জ্বল করে তুলছে।


​সনাতনী রীতিনীতি অনুযায়ী প্রতি বছর মা, খড় ও বাঁশের মাধ্যমে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করা হলেও ব্রহ্মরাজপুরের আয়োজকরা এবার বেছে নিয়েছেন একেবারে ভিন্ন মাধ্যম। গত বছর একশো কেজি চিনিগুঁড়া চাল দিয়ে তৈরি প্রতিমা ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল, এবার তারা দেড় লাখেরও বেশি দিয়াশলাই কাঠি এবং প্রায় দশ কেজি রেশমি সুতা ব্যবহার করে এই অনন্য কাজটি করছেন। এটি কেবল একটি সৃজনশীল প্রয়াসই নয়, বরং সনাতনী সংস্কৃতির প্রতি তাদের বিশেষ শ্রদ্ধা ও উৎসর্গকেও প্রকাশ করে।

​চারজন দক্ষ প্রতিমা শিল্পী গত কয়েক মাস ধরে দিনরাত পরিশ্রম করে অত্যন্ত নিখুঁত কারুকাজের মাধ্যমে প্রতিটি দিয়াশলাই কাঠি ও সুতার বুননে দেবীর ভিন্ন ভিন্ন রূপ গড়ে তুলেছেন। প্রতিটি আঙ্গিককে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সাজানো হচ্ছে, যা দর্শকদের জন্য এক অনন্য আধ্যাত্মিক ও শৈল্পিক অভিজ্ঞতা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিল্পীদের পারিশ্রমিক ও উপকরণের ব্যয় মিলিয়ে আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে এই প্রতিমা তৈরিতে। এটি সাতক্ষীরা জেলার পাশাপাশি পুরো বাংলাদেশের সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি উদাহরণের সৃষ্টি করবে।

​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

​এই ব্যতিক্রমী প্রতিমা দেখার জন্য শুধু স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই নন, বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা আসবে বলে মন্দির কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে। এই ধরনের অভিনব আয়োজনের মাধ্যমে তারা আশা করেন যে, সনাতনী সংস্কৃতি ও ধর্মের প্রতি বিশেষ বার্তা দেওয়া যাবে। দিয়াশলাই কাঠি ও সুতার সংমিশ্রণে দেবীর দশভুজা রূপে দুর্গার মূর্তি এক অনন্য শিল্পের নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এছাড়া দাহ্যতা নিয়ে সচেতনতার অংশ হিসেবে মন্দির কর্তৃপক্ষ বিশেষ কেমিক্যাল ব্যবহার করে আগুনের ঝুঁকি কমিয়ে এনেছে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এর কার্যকারিতাও যাচাই করা হয়েছে।

​শারদীয় দুর্গোৎসব মানেই নতুনত্ব আর আনন্দের উৎসব। ব্রহ্মরাজপুরের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন সেই আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বিশ্বাস সনাতনী সম্প্রদায়ের। এই ধরনের সাহসী ও অভিনব উদ্যোগ বাঙালি সনাতনীদের সৃজনশীলতা ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের উজ্জ্বল স্বাক্ষর হয়ে থাকবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


দেড় লাখ দিয়াশলাই কাঠি ও রেশমি সুতায় মহালয়ার আগে ফুটে উঠলেন দেবী দুর্গা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image
বাংলার আবহমান সনাতনী ঐতিহ্যে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরা। প্রতিটি মণ্ডপে চলছে দেবী দুর্গার অনন্য রূপ ফুটিয়ে তোলার নিরন্তর প্রচেষ্টা। তবে এবারের দুর্গোৎসবে বিশেষ এক আকর্ষণ তৈরি হয়েছে সাতক্ষীরার ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন দুর্গাপূজা মন্দিরে। যেখানে মাটির ছোঁয়া ছাড়াই কেবল দিয়াশলাই কাঠি ও রেশমি সুতার নিখুঁত বুননে ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার রূপ। এমন ব্যতিক্রমী ও উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা একদিকে যেমন শৈল্পিক নান্দনিকতাকে তুলে ধরছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের সনাতনীদের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি তাদের অবিচল নিষ্ঠাকে উজ্জ্বল করে তুলছে।


​সনাতনী রীতিনীতি অনুযায়ী প্রতি বছর মা, খড় ও বাঁশের মাধ্যমে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করা হলেও ব্রহ্মরাজপুরের আয়োজকরা এবার বেছে নিয়েছেন একেবারে ভিন্ন মাধ্যম। গত বছর একশো কেজি চিনিগুঁড়া চাল দিয়ে তৈরি প্রতিমা ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল, এবার তারা দেড় লাখেরও বেশি দিয়াশলাই কাঠি এবং প্রায় দশ কেজি রেশমি সুতা ব্যবহার করে এই অনন্য কাজটি করছেন। এটি কেবল একটি সৃজনশীল প্রয়াসই নয়, বরং সনাতনী সংস্কৃতির প্রতি তাদের বিশেষ শ্রদ্ধা ও উৎসর্গকেও প্রকাশ করে।

​চারজন দক্ষ প্রতিমা শিল্পী গত কয়েক মাস ধরে দিনরাত পরিশ্রম করে অত্যন্ত নিখুঁত কারুকাজের মাধ্যমে প্রতিটি দিয়াশলাই কাঠি ও সুতার বুননে দেবীর ভিন্ন ভিন্ন রূপ গড়ে তুলেছেন। প্রতিটি আঙ্গিককে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সাজানো হচ্ছে, যা দর্শকদের জন্য এক অনন্য আধ্যাত্মিক ও শৈল্পিক অভিজ্ঞতা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিল্পীদের পারিশ্রমিক ও উপকরণের ব্যয় মিলিয়ে আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে এই প্রতিমা তৈরিতে। এটি সাতক্ষীরা জেলার পাশাপাশি পুরো বাংলাদেশের সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি উদাহরণের সৃষ্টি করবে।

​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

​এই ব্যতিক্রমী প্রতিমা দেখার জন্য শুধু স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই নন, বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা আসবে বলে মন্দির কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে। এই ধরনের অভিনব আয়োজনের মাধ্যমে তারা আশা করেন যে, সনাতনী সংস্কৃতি ও ধর্মের প্রতি বিশেষ বার্তা দেওয়া যাবে। দিয়াশলাই কাঠি ও সুতার সংমিশ্রণে দেবীর দশভুজা রূপে দুর্গার মূর্তি এক অনন্য শিল্পের নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এছাড়া দাহ্যতা নিয়ে সচেতনতার অংশ হিসেবে মন্দির কর্তৃপক্ষ বিশেষ কেমিক্যাল ব্যবহার করে আগুনের ঝুঁকি কমিয়ে এনেছে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এর কার্যকারিতাও যাচাই করা হয়েছে।

​শারদীয় দুর্গোৎসব মানেই নতুনত্ব আর আনন্দের উৎসব। ব্রহ্মরাজপুরের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন সেই আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বিশ্বাস সনাতনী সম্প্রদায়ের। এই ধরনের সাহসী ও অভিনব উদ্যোগ বাঙালি সনাতনীদের সৃজনশীলতা ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের উজ্জ্বল স্বাক্ষর হয়ে থাকবে।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
দেড় লাখ দিয়াশলাই কাঠি ও রেশমি সুতায় মহালয়ার আগে ফুটে উঠলেন দেবী দুর্গা
0:00 0:00
1.0x