ঘরে ঘরে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বাণী পৌঁছে দেওয়া এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ‘শ্রীকৃষ্ণ জ্ঞানালয় গীতা সংঘ’ নামে একটি গীতা স্কুলের উদ্বোধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, খাতা-কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।
গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী জলদাশ পাড়ায় সার্বজনীন শ্রীশ্রী জগন্নাথ ও মা কালী মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ গীতা স্কুলের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। অনলাইনভিত্তিক সামাজিক ও ধর্মীয় প্ল্যাটফর্ম ‘চট্টগ্রাম সনাতনী বন্ধু জোন’-এর তত্ত্বাবধানে এ আয়োজন করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, শিশু-কিশোরদের মধ্যে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া, নিয়মিত গীতা পাঠের সুযোগ সৃষ্টি এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই ‘শ্রীকৃষ্ণ জ্ঞানালয় গীতা সংঘ’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটি ‘চট্টগ্রাম সনাতনী বন্ধু জোন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত গীতা স্কুল উদ্বোধন ও গীতা দান কর্মসূচির ১৪তম আয়োজন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করতে তাদের হাতে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় মোট ৫০টি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, ৫০টি স্টেন, কলম এবং একটি হোয়াইট বোর্ডসহ বিভিন্ন শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। শিক্ষা উপকরণ হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা শুধু একটি ধর্মীয় গ্রন্থ নয়; এটি মানুষের জীবন পরিচালনা, নৈতিকতা, কর্তব্যবোধ, আত্মসংযম, মানবিকতা ও সত্যের পথে চলার শিক্ষা দেয়। গীতার দর্শন ও মূল্যবোধ শিশু-কিশোরদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলে তাদের মধ্যে নৈতিক চেতনা ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটানো সম্ভব।
তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত গীতা পাঠ ও এর মর্মবাণী অনুধাবনের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে সত্য, ন্যায়, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও পরোপকারের মানসিকতা গড়ে উঠতে পারে। তাই প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এ ধরনের গীতা স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘চট্টগ্রাম সনাতনী বন্ধু জোন’-এর উপদেষ্টা শ্রীমান অধীর শীল। বিশেষ অতিথি ছিলেন চকরিয়া হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য ছাত্র পরিষদের সভাপতি শ্রীমান প্রসেনজিৎ ধর রুবেল।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ‘চট্টগ্রাম সনাতনী বন্ধু জোন’-এর এডমিন শ্রীমান দিগন্ত শীল, সজল দাশ এবং মডারেটর জয় দাশ উপস্থিত ছিলেন।
‘শ্রীকৃষ্ণ জ্ঞানালয় গীতা সংঘ’-এর সভাপতি রায় গোপাল দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অভিরণ দাশ অভি, অর্থ সম্পাদক বিভীষণ দাশ, কালামহন দাশ, হরিশেন দাশ ও সুমঙ্গল দাশসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা গীতা স্কুলটির কার্যক্রম নিয়মিত ও সুন্দরভাবে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের নিয়মিত গীতা পাঠে উৎসাহিত করা, তাদের সঙ্গে গীতার বিভিন্ন শ্লোক ও জীবনদর্শন নিয়ে আলোচনা এবং নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আয়োজকেরা বলেন, শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে ‘শ্রীকৃষ্ণ জ্ঞানালয় গীতা সংঘ’-এর কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে শিশু-কিশোরদের গীতা পাঠ, শ্লোক শিক্ষা, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিষয়ক আলোচনা এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হবে।
তাদের মতে, সমাজে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সঠিক শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় গীতা স্কুল প্রতিষ্ঠা ও গীতা বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে ‘চট্টগ্রাম সনাতনী বন্ধু জোন’। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আয়োজকেরা।
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত গীতা পাঠের পাশাপাশি নিজেদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া, বাবা-মা ও গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানানো হয়।
মতামত