অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জাগো হিন্দু পরিষদ (JHP)। সংগঠনটির রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত শাখার যৌথ অর্থায়নে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অসহায় শ্রীমতি গীতা রাণী দে-কে নতুন ঘর উপহার দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের আবাসনসংকট কাটিয়ে নতুন ঘর পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে তাঁর জীবনে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পশ্চিম কদমতলী এলাকার হিন্দুপাড়ায় গীতা রাণী দে-এর জন্য নির্মিত নতুন ঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপহার দেওয়া হয়। জাগো হিন্দু পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে নেওয়া এ উদ্যোগে সংগঠনটির রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত শাখাও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে।
এ মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করেন এলাকার কৃতিসন্তান বাপ্পা দে ও লিটন দে। তাঁদের সহযোগিতায় অসহায় ওই নারীর জন্য নতুন আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়।
ঘর উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাগো হিন্দু পরিষদের (JHP) সাধারণ সম্পাদক শ্রী সুভাষ শীল, সহসাধারণ সম্পাদক শ্রী এস কে রয়েল সেন ও শ্রী সঞ্জয় শীল, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী শান্তনু বিশ্বাস, তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শ্রী ছোটন দেবনাথ, সমাজবিষয়ক সম্পাদক শ্রী বাসু দত্ত, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক শ্রী চন্দন দেবনাথসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উপস্থিত বক্তারা বলেন, সমাজের অনেক অসহায় মানুষ আর্থিক সংকটের কারণে নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারেন না। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ও মানবিক দায়িত্বের অংশ। একটি ঘর শুধু বসবাসের স্থান নয়, এটি মানুষের নিরাপত্তা, স্বস্তি ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বন।
তাঁরা আরও বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সামর্থ্যবানরা এগিয়ে এলে অসহায় পরিবারগুলোর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
জাগো হিন্দু পরিষদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, একজন অসহায় নারীর জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় মানবিক উদ্যোগ।
সংগঠনটির সংশ্লিষ্টরা জানান, ভবিষ্যতেও অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা রয়েছে তাঁদের।
গীতা রাণী দে-এর জন্য নির্মিত নতুন ঘরটি কেবল একটি আবাসন নয়, বরং তাঁর জীবনে নিরাপত্তা, স্বস্তি ও নতুন করে বেঁচে থাকার আশার প্রতীক হয়ে থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
মতামত