তবে সনাতনী এই মহা-উৎসবের আনন্দ-আয়োজনের আড়ালে শিল্পীদের দীর্ঘশ্বাসও কম নয়। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির এই বাজারে প্রতিটি প্রতিমা তৈরিতে গত বছরের তুলনায় দুই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ বাড়লেও পূজা কমিটিগুলো সেই অনুপাতে দাম দিতে চাইছে না। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') পূজার অন্তত দুই মাস আগে থেকে কাজ শুরু না করলে নির্দিষ্ট সময়ে দেবীকে মণ্ডপে পৌঁছে দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। বর্তমানে মাটি দেওয়ার কাজ শেষ পর্যায়ে, আর কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হবে রঙ, কাপড় ও গহনা পরানোর সূক্ষ্ম কাজ। রাজশাহী হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ জানান, পালবাড়িতে শিল্পীরা চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন, যদিও এ বছর মোট কতটি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে জেলার ৪৬২টি ও ২০২৪ সালে ৪৬৮টি মণ্ডপে সর্বজনীন ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছিল। সমস্ত বাধা-বিপত্তি ও আর্থিক সংকট পেরিয়ে সনাতনীদের এই পবিত্র ধর্মীয় অধিকার ও সামাজিক আনন্দ অক্ষুণ্ণ রাখতে দিনরাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা।
ঢাকের কাঠি বাজার আগেই আলুপট্টিতে ব্যস্ততা: সনাতনী ঐতিহ্যে দেবীকে বরণ করার তোড়জোড়
শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে রাজশাহীর পালপাড়ায় এখন বইছে আনন্দের হাওয়া। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবের বাকি আর মাত্র একমাস। ঢাকের কাঠি বাজার আগেই সনাতনী মণ্ডপগুলোতে দেবীকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতির কোনো খামতি রাখতে চান না মৃৎশিল্পীরা। নগরীর আলুপট্টি এলাকা থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দিন-রাত এক করে তড়িঘড়ি করে চলছে প্রতিমা তৈরির মূল কাজ। মৃৎশিল্পী কার্তিক কুমারের কাঁদা-মাটির মাখামাখিতে গড়া উঠোনে এখন উৎসবের আবহাওয়া। কেবল কার্তিক কুমারই নন, তার সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও কারিগররা। কার্তিকের শাশুড়ি কবরী বসু তুলি হাতে কাদা লাগাচ্ছেন প্রতিমার গায়ে, আর ভক্তদের চাহিদা অনুযায়ী প্রতি বছরই ফুটিয়ে তুলছেন নতুন নতুন দৃষ্টিনন্দন নকশা। সনাতনী সংস্কৃতির এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে তাদের এই অক্লান্ত পরিশ্রম কেবল পেশা নয়, বরং এক পরম ভক্তি ও বিশ্বাসের প্রকাশ।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত