হিন্দুস নিউজ

দুর্গাপূজায় নিরামিষ-আমিষ বিতর্ক: কী বলছে আদি ইতিহাস ও শাস্ত্র!


| প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্গাপূজায় নিরামিষ-আমিষ বিতর্ক: কী বলছে আদি ইতিহাস ও শাস্ত্র!
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি আবহমান বাংলার ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক সাম্য এবং সার্বজনীনতার এক মহোত্তম প্রকাশ। ভারতজুড়ে শারদীয় আবহ ছড়িয়ে পড়লেও উত্তর ভারতের নবরাত্রি এবং বঙ্গভূমির দুর্গাপূজার উদযাপনে দেখা যায় মৌলিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। বিশেষ করে আহাররীতি ও উৎসবের আমেজে বাংলা এবং উত্তর ভারতের এই পার্থক্য সনাতনী সমাজের নিজস্ব বৈচিত্র্যের অনন্য রূপকে সামনে তুলে আনে।


​উত্তর ও মধ্য ভারতের একটি বড় অংশজুড়ে নবরাত্রির দিনগুলোতে কঠোরভাবে নিরামিষ আহার ও কৃচ্ছসাধন পালন করা হয়। প্রখ্যাত ধর্মীয় বক্তা ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর নিজ অঞ্চলসহ সংলগ্ন রাজ্যগুলোতে এই সময় অন্ন ও নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। ভারত সরকারের সাবেক আমলা ও গবেষক জহর সরকার তাঁর 'ওদের নবরাত্রি, আমাদের দুর্গা' শীর্ষক বিশ্লেষণাত্মক লেখায় উল্লেখ করেছেন যে, উত্তর ভারতের অনেক গোঁড়া পরিবারে নবরাত্রির সময় ভাত, রুটি, ময়দা, সুজি এমনকি সাধারণ চাল-আটাও খাওয়া চলে না। রান্নার মশলাপাতির ক্ষেত্রেও রয়েছে কঠিন বাঁধাধরা নিয়ম; সেখানে কেবল জিরে, ধনে, এলাচ, জোয়ান, পুদিনা, কাঁচা লঙ্কা, আমচুর ও আদা ব্যবহারের অনুমতি মেলে। তরিতরকারি ও ফলমূলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ ও হিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') অন্যদিকে, বাঙালি সনাতনী সমাজে এই উদযাপনের আমেজ সম্পূর্ণ ভিন্ন ও উৎসবমুখর। গুটিকয়েক গোঁড়া পরিবারে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম বা ব্রত পালনের নিয়ম থাকলেও, সাধারণ বাঙালিদের কাছে দুর্গাপূজা মানেই উৎসবের সর্বজনীন আনন্দ এবং ভুরিভোজের মহাশোভন আয়োজন। বাঙালিরা এই দিনগুলোতে ভক্তির পাশাপাশি মাছ-মাংস ও নানা মুখরোচক খাবারের আনন্দ উপভোগ করে।

 একদিকে যেমন মণ্ডপে মণ্ডপে ভোগ গ্রহণের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা থাকে, তেমনই পুজোর আগে থেকেই পরিবার ও বন্ধুদের আড্ডায় নির্ধারিত হয় কোন দিন খাসির কষা মাংস, কবে চাইনিজ আর কোথায় মিলবে সেরা মোগলাই খাবার। জহর সরকারের মতে, উত্তর ভারতে উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু যেখানে সংযম ও কৃচ্ছসাধন, সেখানে বাংলায় এটি শুধুই আনন্দ, সাম্য ও প্রাণের উৎসব। উত্তর ভারতে সাধারণের বড় উৎসব মূলত একদিনের দশেরাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হলেও, বাংলায় মণ্ডপ নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয় মাসের পর মাস ধরে এবং পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত সমগ্র সমাজ এক সাথে উৎসবে মেতে ওঠে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


দুর্গাপূজায় নিরামিষ-আমিষ বিতর্ক: কী বলছে আদি ইতিহাস ও শাস্ত্র!

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি আবহমান বাংলার ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক সাম্য এবং সার্বজনীনতার এক মহোত্তম প্রকাশ। ভারতজুড়ে শারদীয় আবহ ছড়িয়ে পড়লেও উত্তর ভারতের নবরাত্রি এবং বঙ্গভূমির দুর্গাপূজার উদযাপনে দেখা যায় মৌলিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। বিশেষ করে আহাররীতি ও উৎসবের আমেজে বাংলা এবং উত্তর ভারতের এই পার্থক্য সনাতনী সমাজের নিজস্ব বৈচিত্র্যের অনন্য রূপকে সামনে তুলে আনে।


​উত্তর ও মধ্য ভারতের একটি বড় অংশজুড়ে নবরাত্রির দিনগুলোতে কঠোরভাবে নিরামিষ আহার ও কৃচ্ছসাধন পালন করা হয়। প্রখ্যাত ধর্মীয় বক্তা ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর নিজ অঞ্চলসহ সংলগ্ন রাজ্যগুলোতে এই সময় অন্ন ও নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। ভারত সরকারের সাবেক আমলা ও গবেষক জহর সরকার তাঁর 'ওদের নবরাত্রি, আমাদের দুর্গা' শীর্ষক বিশ্লেষণাত্মক লেখায় উল্লেখ করেছেন যে, উত্তর ভারতের অনেক গোঁড়া পরিবারে নবরাত্রির সময় ভাত, রুটি, ময়দা, সুজি এমনকি সাধারণ চাল-আটাও খাওয়া চলে না। রান্নার মশলাপাতির ক্ষেত্রেও রয়েছে কঠিন বাঁধাধরা নিয়ম; সেখানে কেবল জিরে, ধনে, এলাচ, জোয়ান, পুদিনা, কাঁচা লঙ্কা, আমচুর ও আদা ব্যবহারের অনুমতি মেলে। তরিতরকারি ও ফলমূলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ ও হিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') অন্যদিকে, বাঙালি সনাতনী সমাজে এই উদযাপনের আমেজ সম্পূর্ণ ভিন্ন ও উৎসবমুখর। গুটিকয়েক গোঁড়া পরিবারে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম বা ব্রত পালনের নিয়ম থাকলেও, সাধারণ বাঙালিদের কাছে দুর্গাপূজা মানেই উৎসবের সর্বজনীন আনন্দ এবং ভুরিভোজের মহাশোভন আয়োজন। বাঙালিরা এই দিনগুলোতে ভক্তির পাশাপাশি মাছ-মাংস ও নানা মুখরোচক খাবারের আনন্দ উপভোগ করে।

 একদিকে যেমন মণ্ডপে মণ্ডপে ভোগ গ্রহণের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা থাকে, তেমনই পুজোর আগে থেকেই পরিবার ও বন্ধুদের আড্ডায় নির্ধারিত হয় কোন দিন খাসির কষা মাংস, কবে চাইনিজ আর কোথায় মিলবে সেরা মোগলাই খাবার। জহর সরকারের মতে, উত্তর ভারতে উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু যেখানে সংযম ও কৃচ্ছসাধন, সেখানে বাংলায় এটি শুধুই আনন্দ, সাম্য ও প্রাণের উৎসব। উত্তর ভারতে সাধারণের বড় উৎসব মূলত একদিনের দশেরাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হলেও, বাংলায় মণ্ডপ নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয় মাসের পর মাস ধরে এবং পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত সমগ্র সমাজ এক সাথে উৎসবে মেতে ওঠে।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
দুর্গাপূজায় নিরামিষ-আমিষ বিতর্ক: কী বলছে আদি ইতিহাস ও শাস্ত্র!
0:00 0:00
1.0x