জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়। তাকে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব বাতিলের উপযুক্ত ও চূড়ান্ত প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার জন্য ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নাগরিকত্ব বাতিল সংক্রান্ত কোনও চূড়ান্ত সনদ বা প্রমাণপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, মাহবুবুল আলম সালেহী বর্তমানে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক। তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করেছেন বলে ই-মেইল ও পেমেন্ট সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিলেও যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বাংলাদেশে অবস্থিত ব্রিটিশ হাইকমিশন থেকে নাগরিকত্ব বাতিলের কোনও চূড়ান্ত সনদ পাওয়া যায়নি।
মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২(গ) দফা অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি যদি বিদেশি নাগরিক হন বা বিদেশি রাষ্ট্রের আনুগত্য স্বীকার করেন, তবে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য নন। প্রার্থী নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করেছেন—এমন কাগজ দিয়েছেন, কিন্তু চূড়ান্ত প্রমাণপত্র পাওয়া যায়নি। আমরা তাকে সময় দিয়েছিলাম, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দাখিল করা হয়নি। তাই সংবিধান অনুযায়ী তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।”
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই সেখানে উপস্থিত জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী কথা বলার সুযোগ চান। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে কোনও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার পরামর্শ দেন।

বিক্ষোভের সময় জামায়াতের জেলা পর্যায়ের নেতারা ছাড়াও কুড়িগ্রাম-২ আসনে দলটির প্রার্থী ইয়াসিন আলী সরকার উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এ বিষয়ে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন, “আজ আমাকে ডাকা হলেও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু তা দেখানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি। রিটার্নিং কর্মকর্তা শুরু থেকেই বায়াসড ছিলেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।”
প্রসঙ্গত, কুড়িগ্রাম জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৩০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে কুড়িগ্রাম-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী পনির উদ্দিন আহমেদ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমানের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী ও স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেকের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। বাকি ২৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মতামত