চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ সাবেক রাঙ্গুনিয়ায় ঐতিহ্যের ৬ষ্ঠ বর্ষে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করেছে মা ভবানী একতা সংঘ। এবারের দুর্গোৎসবে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি পরিবার ও সামাজিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে বাবাকে ঘিরে বিশেষ থিম উপস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি।
‘শ্রীচরণেষু—বাবা’ শিরোনামের এবারের থিমে বাবার নীরব ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিষয়গুলো তুলে ধরা হচ্ছে। সন্তান ও পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়তে গিয়ে নিজের স্বপ্ন, ইচ্ছা ও চাওয়া-পাওয়াকে অনেক সময় আড়ালে রেখে দেওয়া বাবাদের জীবনের না-বলা গল্পই এ থিমের মূল ভাবনা।
আয়োজকদের ভাষ্য, “কিছু গল্প বলা হয় না, কিছু গল্প শুধু অনুভব করতে হয়।” পরিবারের জন্য বাবার দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সংগ্রামের অনেকটাই নীরবে থেকে যায়। সন্তানের শিক্ষা, ভবিষ্যৎ ও পরিবারের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে অনেক বাবা নিজের ব্যক্তিগত স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে বিসর্জন দেন। সেই বাস্তবতাকে শিল্প ও নান্দনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে।
আয়োজকরা জানান, ‘শ্রীচরণেষু—বাবা’ কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের গল্প নয়। বরং সমাজের অসংখ্য বাবার জীবন, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি সাধারণ বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। থিমটির মাধ্যমে বাবার প্রতি সন্তানের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার অনুভূতিকে তুলে ধরার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিজেদের পারিবারিক স্মৃতির সঙ্গেও বিষয়টি মিলিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি হবে।
এবারের দুর্গোৎসবের মাতৃরূপায়ণে রয়েছেন শ্রী রতন কৃষ্ণ পাল, রূপশ্রী শিল্পালয়, চট্টগ্রাম।
মা ভবানী একতা সংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়েই এবারের আয়োজন সাজানো হচ্ছে। দুর্গোৎসবকে ঘিরে থিম নির্মাণ, মণ্ডপসজ্জা, সাংস্কৃতিক আয়োজনসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।
‘যাঁর ত্যাগের কাছে পৃথিবীর সব অর্জনই যেন ছোট’— এই ভাবনাকে সামনে রেখে ঐতিহ্যের ৬ষ্ঠ বর্ষে মা ভবানী একতা সংঘের দুর্গোৎসবে ‘শ্রীচরণেষু—বাবা’ থিমটি এবারের আয়োজনের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
মতামত