হিন্দুস নিউজ

চাকরির মোহ ত্যাগ করে মন্দির আঙিনায় শিক্ষার আলো

যতদিন প্রাণ আছে দুর্গা মন্দিরেই শিক্ষা দেব’: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মাননা পেয়ে রমণী কান্ত


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ

যতদিন প্রাণ আছে দুর্গা মন্দিরেই শিক্ষা দেব’: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মাননা পেয়ে রমণী কান্ত
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে প্রতিদানহীন ভালোবাসায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এক অনন্য শিক্ষককে সম্মানিত করা হলো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বরিশালের আগৈলঝাড়ার প্রবীণ শিক্ষাব্রতী রমণী কান্ত বেপারীর এই দীর্ঘ ত্যাগের স্বীকৃতি নিশ্চিত করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একজন নিঃস্বার্থ সনাতনী গৃহী হিসেবে জীবনযাপন করলেও রমণী কান্তের এই শিক্ষা বিপ্লব পুরো অঞ্চলের অগণিত দরিদ্র পরিবারের শিশুদের অন্ধকার কাটিয়ে আলোর পথ দেখিয়েছে। ১৯৭৩ সালে চাঁদশী ঈশ্বর চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাস করার পর সরকারি গৌরনদী কলেজে ভর্তি হলেও পরিবারের তীব্র আর্থিক অনটনের কারণে উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনো সম্ভব হয়নি তাঁর। মেধার জোরে সে সময় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ আসলেও গ্রামের দুস্থ শিশুদের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি সেই চাকরি গ্রহণ করেননি। সরকারি চাকরির মোহ ত্যাগ করে নিজের গ্রামের শিশুদের শিক্ষাদানেই তিনি জীবনের পরম সার্থকতা খুঁজে নেন। রাজিহার-চাঁদশী সড়কের পাশে রাংতা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের আঙিনা ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে তাঁর সাধনার তীর্থস্থান, যা স্থানীয় মানুষের কাছে আজ ‘রমণী কান্তের পাঠশালা’ নামে সর্বজনবিদিত। প্রতি শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে চলে এই কোমলমতি শিশুদের আনন্দের পাঠদান। এই পাঠশালায় শিশুদের কোনো মাসিক বেতন গুণতে হয় না, দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা যেন অর্থের অভাবে শিক্ষা থেকে ঝরে না পড়ে, সেটাই তাঁর জীবনের একমাত্র ব্রত।

​দীর্ঘ এই কর্মযজ্ঞের মাঝেও রমণী কান্তের ব্যক্তিগত জীবন অত্যন্ত সাদাসিধে ও দারিদ্র্যপীড়িত। স্ত্রী রুম্পা বেপারীকে নিয়ে একটি জীর্ণ দোচালা টিনের ঘরেই কাটে তাঁর দিন যাপন, আর একমাত্র ছেলে তাপস বেপারী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সামান্য বেতনে কর্মরত রয়েছেন। কিছুটা কৃষিজমি আর সীমাহীন অভাব-অনটনের মাঝেও অন্ন-বস্ত্রের চিন্তা ভুলে শিশুদের পড়ানোর মহান আনন্দকেই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মনে করেন এই আলোকের দিশারী।

​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

​প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট থেকে পাওয়া এই অভাবনীয় রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রাপ্তি প্রসঙ্গে আবেগপ্লুত রমণী কান্ত জানান, স্বাধীনতার পূর্বকাল থেকে এই দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে বসে তিনি এলাকার শিশুদের পাঠদান করে আসছেন এবং যতদিন দেহে প্রাণ আছে, এভাবেই ভালোবাসার আলো ছড়াতে চান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সম্মান ও মর্যাদা তাঁকে দিয়েছেন, তাতে তাঁর এই সুদীর্ঘ শিক্ষক জীবন সার্থক হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই প্রসঙ্গে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরুপম মজুমদার গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে বলেন, রমণী কান্তের এই ঐতিহ্যবাহী পাঠশালার পাঠদান পদ্ধতি যে কাউকে মুগ্ধ করে এবং এমন নিঃস্বার্থ ও মহৎ ব্যক্তিত্ব সমাজে বিরাজ করছেন বলেই আমাদের দেশ ও সংস্কৃতি আজও এত সুন্দর ও সমৃদ্ধ।

বিষয় : সনাতনী শিক্ষা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


যতদিন প্রাণ আছে দুর্গা মন্দিরেই শিক্ষা দেব’: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মাননা পেয়ে রমণী কান্ত

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে প্রতিদানহীন ভালোবাসায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এক অনন্য শিক্ষককে সম্মানিত করা হলো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বরিশালের আগৈলঝাড়ার প্রবীণ শিক্ষাব্রতী রমণী কান্ত বেপারীর এই দীর্ঘ ত্যাগের স্বীকৃতি নিশ্চিত করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একজন নিঃস্বার্থ সনাতনী গৃহী হিসেবে জীবনযাপন করলেও রমণী কান্তের এই শিক্ষা বিপ্লব পুরো অঞ্চলের অগণিত দরিদ্র পরিবারের শিশুদের অন্ধকার কাটিয়ে আলোর পথ দেখিয়েছে। ১৯৭৩ সালে চাঁদশী ঈশ্বর চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাস করার পর সরকারি গৌরনদী কলেজে ভর্তি হলেও পরিবারের তীব্র আর্থিক অনটনের কারণে উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনো সম্ভব হয়নি তাঁর। মেধার জোরে সে সময় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ আসলেও গ্রামের দুস্থ শিশুদের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি সেই চাকরি গ্রহণ করেননি। সরকারি চাকরির মোহ ত্যাগ করে নিজের গ্রামের শিশুদের শিক্ষাদানেই তিনি জীবনের পরম সার্থকতা খুঁজে নেন। রাজিহার-চাঁদশী সড়কের পাশে রাংতা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের আঙিনা ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে তাঁর সাধনার তীর্থস্থান, যা স্থানীয় মানুষের কাছে আজ ‘রমণী কান্তের পাঠশালা’ নামে সর্বজনবিদিত। প্রতি শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে চলে এই কোমলমতি শিশুদের আনন্দের পাঠদান। এই পাঠশালায় শিশুদের কোনো মাসিক বেতন গুণতে হয় না, দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা যেন অর্থের অভাবে শিক্ষা থেকে ঝরে না পড়ে, সেটাই তাঁর জীবনের একমাত্র ব্রত।

​দীর্ঘ এই কর্মযজ্ঞের মাঝেও রমণী কান্তের ব্যক্তিগত জীবন অত্যন্ত সাদাসিধে ও দারিদ্র্যপীড়িত। স্ত্রী রুম্পা বেপারীকে নিয়ে একটি জীর্ণ দোচালা টিনের ঘরেই কাটে তাঁর দিন যাপন, আর একমাত্র ছেলে তাপস বেপারী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সামান্য বেতনে কর্মরত রয়েছেন। কিছুটা কৃষিজমি আর সীমাহীন অভাব-অনটনের মাঝেও অন্ন-বস্ত্রের চিন্তা ভুলে শিশুদের পড়ানোর মহান আনন্দকেই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মনে করেন এই আলোকের দিশারী।

​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

​প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট থেকে পাওয়া এই অভাবনীয় রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রাপ্তি প্রসঙ্গে আবেগপ্লুত রমণী কান্ত জানান, স্বাধীনতার পূর্বকাল থেকে এই দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে বসে তিনি এলাকার শিশুদের পাঠদান করে আসছেন এবং যতদিন দেহে প্রাণ আছে, এভাবেই ভালোবাসার আলো ছড়াতে চান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সম্মান ও মর্যাদা তাঁকে দিয়েছেন, তাতে তাঁর এই সুদীর্ঘ শিক্ষক জীবন সার্থক হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই প্রসঙ্গে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরুপম মজুমদার গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে বলেন, রমণী কান্তের এই ঐতিহ্যবাহী পাঠশালার পাঠদান পদ্ধতি যে কাউকে মুগ্ধ করে এবং এমন নিঃস্বার্থ ও মহৎ ব্যক্তিত্ব সমাজে বিরাজ করছেন বলেই আমাদের দেশ ও সংস্কৃতি আজও এত সুন্দর ও সমৃদ্ধ।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
যতদিন প্রাণ আছে দুর্গা মন্দিরেই শিক্ষা দেব’: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মাননা পেয়ে রমণী কান্ত
0:00 0:00
1.0x