খুলনা জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে থেকে সদর সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে কয়েকজন ব্যক্তি তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ৪০ মিনিট পর তাকে আবার কার্যালয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দুপুরের খাবারের বিরতির সময় কার্যালয় থেকে বের হয়ে রিকশায় ওঠেন তন্ময় কুমার মণ্ডল। এ সময় চারটি মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন যুবক তাকে ঘিরে ফেলেন। তাদের মধ্যে দুজন তার সঙ্গে রিকশায় ওঠেন। একজন তার মুখ চেপে ধরেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
পরে কিছু দূর যাওয়ার পর তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নগরীর কালীবাড়ি ঘাট এলাকার একটি দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান শুরু করে। প্রায় ৪০ মিনিট পর তন্ময় কুমার মণ্ডলকে রিকশায় করে আবার তার কার্যালয়ে ফিরতে দেখা যায়। এ সময় তাকে আতঙ্কিত দেখাচ্ছিল।
ফিরে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডল বলেন, কয়েকজন যুবক তাকে কালীবাড়ি ঘাটের কাছে একটি দোকানে নিয়ে কিছু কাগজপত্র দেখিয়েছিলেন। সেগুলো সঠিক কি না, তা যাচাই করতে তাকে নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। কাজ শেষ হওয়ার পর তারাই তাকে রিকশায় তুলে দেন বলেও জানান তিনি।
তবে কারা তাকে নিয়ে গিয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তন্ময়।
পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি এখানে চাকরি করতে এসেছি, দুর্নীতি করার জন্য আসিনি। কোনো দুর্নীতিবাজের সঙ্গে আমি আপস করব না। দুর্নীতি করে কেউ আমাকে টাকা দিতে পারবে না, কারও টাকা আমি অন্যায়ভাবে নেব না।’
ঘটনার পর জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের কেউ কেউ কালীবাড়ি এলাকায় একটি অপরাধী চক্রের তৎপরতার কথা উল্লেখ করলেও, তন্ময় কুমার মণ্ডলকে তুলে নেওয়ার ঘটনার সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট চক্রের সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। কিছু সময়ের মধ্যেই সাব-রেজিস্ট্রার ফিরে আসেন।
ওসি বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকজন ব্যক্তি কিছু কাগজপত্র দেখার জন্য তাকে ঘাট এলাকায় নিয়ে গিয়েছিল এবং পরে ছেড়ে দেয়। তবে কারা তাকে নিয়ে গিয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
মতামত