সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা আট দিনের জন্য স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। দুই দেশের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও বন্দর কর্তৃপক্ষের পারস্পরিক সমন্বয়ে আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বেনাপোল ও ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন এ সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৫০০ ট্রাক পণ্য যাতায়াত করে এবং গড়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব অর্জিত হয়, যা দুর্গাপূজার এই উৎসবকালীন দীর্ঘ বিরতির কারণে সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর সরবরাহে টান পড়ে বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ী মহলের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকরা। তবে এ দীর্ঘ ছুটি সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী নাগরিকদের যাতায়াত সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকছে, যা চিকিৎসা, পারিবারিক বন্ধন ও পূজার আনন্দে ভারত-বাংলাদেশে যাতায়াতকারী সনাতনী ও সর্বস্তরের মানুষের যাতায়াতে এক বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।
(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
উৎসবের এই দীর্ঘ বিরতির মধ্যেও বেনাপোল বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ১৮ ও ১৯ অক্টোবর খোলা রেখে দেশের অভ্যন্তরীণ পণ্য খালাস ও শুল্কায়ন কার্যক্রম সচল রাখার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে জানা গেছে যে, সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির মিলনে এবার সর্বজনীন শারদীয় উৎসবে এক দীর্ঘ অবকাশের সৃষ্টি হয়েছে, যা দুই দেশের সীমান্ত কর্মীদের মধ্যেও আনন্দময় আবহ তৈরি করেছে। আগামী ২৫ অক্টোবর রবিবার সকাল থেকে পুনরায় দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক আদান-প্রদান স্বাভাবিক নিয়মে শুরু হবে। উৎসবের এই দিনগুলোতে সীমান্ত ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক সচল রেখে ভারতগামী ও বাংলাদেশগামী সকল ভ্রমণকারীদের নির্বিঘ্ন সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ, যা সীমান্ত অঞ্চলে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহের বার্তা বহন করে।
মতামত