রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে পরম শ্রদ্ধায় ও সর্বজনীন ভাবগাম্ভীর্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সনাতনী সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও সনাতনীদের স্বাধিকার সুরক্ষার বার্তা নিয়ে এবার ঢাকেশ্বরীতে দুর্গাপূজার আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিশাল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ। দেশের সার্বভৌমত্ব, শান্তি-সম্প্রীতি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরতে এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘পরিবেশবান্ধব দুর্গাপূজা’। বাংলাদেশ জুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকসহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়েই বাস্তবায়িত হচ্ছে এ বছরের সুবিশাল আয়োজন।
এবারের দুর্গাপূজার সার্বিক আয়োজনে বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা, যা সম্পূর্ণভাবে বিভিন্ন অনুদান ও স্পন্সরশিপের মাধ্যমে সংগৃহীত হচ্ছে। পূজা আয়োজনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ১০ লাখ টাকা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান ৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেছেন। সুদীর্ঘ সময় ধরে মন্দির মেলাঙ্গনের প্রতিমা গড়ে আসা প্রবীণ শিল্পী সুকুমার পাল প্রায় দেড় মাস ধরে রাতদিন পরিশ্রম করে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে গড়ে তুলেছেন মা দুর্গার মৃণ্ময়ী রূপ। ইতিমধ্যে প্রতিমা নির্মাণের মূল কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং চূড়ান্ত ছোঁয়ার পর ষষ্ঠীর সকালেই ভক্তদের প্রার্থনার জন্য প্রতিমা উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। মূল মণ্ডপে কৈলাস পর্বতের আবহে আবহমান সনাতনী ঐতিহ্যের নান্দনিক রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
সনাতনী জনগোষ্ঠীর উৎসব যেন সর্বোচ্চ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে পারে, সে লক্ষ্যে মেলাঙ্গনজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) পক্ষ থেকে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণে ৬৪টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিক নজরদারির জন্য পুলিশের একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষও চালু থাকছে। মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আন্তরিক সহযোগিতায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো প্রকার শঙ্কা নেই।
(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
উৎসবের মহিমাকে আরও অর্থবহ করতে রাষ্ট্র ও ধর্মীয় নেতৃত্বের মিলনমেলা ঘটবে এবারের ঢাকেশ্বরীতে। পূজাকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেলাঙ্গন পরিদর্শনে আসবেন। মহাঅষ্টমীতে বিশেষ প্রসাদ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার। উল্লেখযোগ্য যে, সারাদেশের পূজা মণ্ডপগুলোর সুবিধার্থে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। এছাড়া পূজায় ঘরমুখী ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর জানিয়েছেন, এ বছর সারা দেশে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি মন্দির ও মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা বিগত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ঢাকা মহানগরীতে এ বছর ২৫৭টি মণ্ডপে উদযাপিত হবে মহাপূজা। ঐতিহ্য, অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতাকামী সকল নাগরিকের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে ১০ অক্টোবরের মহালয়ার পর থেকে সূচিত হওয়া এই পূজোৎসব আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পাবে।
মতামত