হিন্দুস নিউজ

হিসাব মিলল স্বপ্নের

মানিকগঞ্জে শিশু-কিশোরদের হাত ধরে দেড়শ বছর পর প্রথম দুর্গোৎসব


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ

মানিকগঞ্জে শিশু-কিশোরদের হাত ধরে দেড়শ বছর পর প্রথম দুর্গোৎসব
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

​মানিকগঞ্জের পালড়া সূত্রধরপাড়ায় এবার সৃষ্টি হয়েছে এক নতুন ইতিহাস। দীর্ঘ ১০০ থেকে ১৫০ বছরের অচলায়তন ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে অবশেষে সেখানে বাজছে ঢাকের বাদ্য, উদযাপিত হচ্ছে আদ্যশক্তি মহামায়ার শারদীয় দুর্গোৎসব। যে পাড়ায় এতদিন কোনো পূজার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা যাদের উৎসবের আনন্দ থেকে দূরে রেখেছিল, সেখানে আজ শিশু-কিশোর ও তরুণদের হাতধরে নতুন প্রভাতের সূচনা হয়েছে। ১০ থেকে ১৫ জন অদম্য শিক্ষার্থী ও তরুণ বিগত প্রায় ছয় মাস ধরে তাদের টিফিনের হাতখরচের টাকা জমিয়ে এবং স্থানীয় সনাতনী ধর্মপ্রাণ মানুষদের সহযোগিতা নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন একটি সমিতি। তাদের সেই সম্মিলিত ত্যাগ, বিশ্বাস ও প্রচেষ্টাই আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে প্রথম দুর্গাপূজার মণ্ডপ হিসেবে।

​উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের এই পাড়ার মানুষের কাছে এটি কেবল একটি পুজো নয়, বরং বহুকালের সঞ্চিত সামাজিক ও ধর্মীয় অধিকারের এক নতুন উন্মোচন। আগে পূজার দিনগুলোতে পাড়ার গৃহবধূ, বয়োজ্যেষ্ঠ ও শিশুদের অন্য এলাকা বা দূরবর্তী মণ্ডপে গিয়ে উৎসবের ছোঁয়া নিতে হতো। নিজেদের পাড়ায় দেবী দুর্গার আরাধনা করতে না পারার যে অদৃশ্য বেদনা এতদিন জমেছিল, তা আজ এক মহা আনন্দে রূপ নিয়েছে। পূজা মণ্ডপজুড়ে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত আবালবৃদ্ধবনিতার মিলনমেলা ও আনন্দের জোয়ার দেখা যাচ্ছে, যা স্থানীয় প্রতিটি সনাতনী পরিবারের অন্তরে আত্মমর্যাদা ও উৎসবের গভীর অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছে।

​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

​আয়োজক কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা আনন্দ সূত্রধরের মতে, নিজেদের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় উৎসব নিজস্ব আঙিনায় পালন করতে পেরে তাদের আনন্দের শেষ নেই। মন্দির কমিটির ৬০ বছর বয়সী সভাপতি শ্যামল সূত্রধর আবেগপ্লুত কণ্ঠে জানান, নিজের দীর্ঘ জীবনে তিনি এই পাড়ায় দুর্গাপূজা হতে দেখেননি। পূজার বিশাল ব্যয়ভার একা কয়েকটি পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব ছিল না বলেই এতদিন তারা উৎসবহীন ছিলেন, কিন্তু এবার তরুণদের উদ্যোগ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। দীর্ঘ ৩৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিমাশিল্পী বিশ্ব পাল অত্যন্ত স্বল্প পারিশ্রমিকে পরম ভক্তি ও আন্তরিকতা দিয়ে এখানকার প্রথম প্রতিমা গড়েছেন, যা সনাতনী সংস্কৃতির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসারই এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।

​সংকটের অন্ধকার কাটিয়ে তরুণদের সংকল্প আর এলাকাবাসীর আন্তরিকতায় মানিকগঞ্জের সূত্রধরপাড়ায় আজ যে সনাতনী সংস্কৃতির সূচনা হলো, তা অধিকার বঞ্চিত প্রতিটি প্রান্তিক মানুষের মনে আশার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের মানুষের সহমর্মিতায় উৎসবের এই ধারা যেন আগামী দিনগুলোতেও অবিচল থাকে—এটাই এখন পালড়া সূত্রধরপাড়ার প্রতিটি মানুষের আকুল প্রার্থনা।

বিষয় : সনাতনী দূর্গাপূজা সনাতনী

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


মানিকগঞ্জে শিশু-কিশোরদের হাত ধরে দেড়শ বছর পর প্রথম দুর্গোৎসব

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

​মানিকগঞ্জের পালড়া সূত্রধরপাড়ায় এবার সৃষ্টি হয়েছে এক নতুন ইতিহাস। দীর্ঘ ১০০ থেকে ১৫০ বছরের অচলায়তন ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে অবশেষে সেখানে বাজছে ঢাকের বাদ্য, উদযাপিত হচ্ছে আদ্যশক্তি মহামায়ার শারদীয় দুর্গোৎসব। যে পাড়ায় এতদিন কোনো পূজার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা যাদের উৎসবের আনন্দ থেকে দূরে রেখেছিল, সেখানে আজ শিশু-কিশোর ও তরুণদের হাতধরে নতুন প্রভাতের সূচনা হয়েছে। ১০ থেকে ১৫ জন অদম্য শিক্ষার্থী ও তরুণ বিগত প্রায় ছয় মাস ধরে তাদের টিফিনের হাতখরচের টাকা জমিয়ে এবং স্থানীয় সনাতনী ধর্মপ্রাণ মানুষদের সহযোগিতা নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন একটি সমিতি। তাদের সেই সম্মিলিত ত্যাগ, বিশ্বাস ও প্রচেষ্টাই আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে প্রথম দুর্গাপূজার মণ্ডপ হিসেবে।

​উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের এই পাড়ার মানুষের কাছে এটি কেবল একটি পুজো নয়, বরং বহুকালের সঞ্চিত সামাজিক ও ধর্মীয় অধিকারের এক নতুন উন্মোচন। আগে পূজার দিনগুলোতে পাড়ার গৃহবধূ, বয়োজ্যেষ্ঠ ও শিশুদের অন্য এলাকা বা দূরবর্তী মণ্ডপে গিয়ে উৎসবের ছোঁয়া নিতে হতো। নিজেদের পাড়ায় দেবী দুর্গার আরাধনা করতে না পারার যে অদৃশ্য বেদনা এতদিন জমেছিল, তা আজ এক মহা আনন্দে রূপ নিয়েছে। পূজা মণ্ডপজুড়ে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত আবালবৃদ্ধবনিতার মিলনমেলা ও আনন্দের জোয়ার দেখা যাচ্ছে, যা স্থানীয় প্রতিটি সনাতনী পরিবারের অন্তরে আত্মমর্যাদা ও উৎসবের গভীর অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছে।

​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

​আয়োজক কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা আনন্দ সূত্রধরের মতে, নিজেদের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় উৎসব নিজস্ব আঙিনায় পালন করতে পেরে তাদের আনন্দের শেষ নেই। মন্দির কমিটির ৬০ বছর বয়সী সভাপতি শ্যামল সূত্রধর আবেগপ্লুত কণ্ঠে জানান, নিজের দীর্ঘ জীবনে তিনি এই পাড়ায় দুর্গাপূজা হতে দেখেননি। পূজার বিশাল ব্যয়ভার একা কয়েকটি পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব ছিল না বলেই এতদিন তারা উৎসবহীন ছিলেন, কিন্তু এবার তরুণদের উদ্যোগ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। দীর্ঘ ৩৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিমাশিল্পী বিশ্ব পাল অত্যন্ত স্বল্প পারিশ্রমিকে পরম ভক্তি ও আন্তরিকতা দিয়ে এখানকার প্রথম প্রতিমা গড়েছেন, যা সনাতনী সংস্কৃতির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসারই এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।

​সংকটের অন্ধকার কাটিয়ে তরুণদের সংকল্প আর এলাকাবাসীর আন্তরিকতায় মানিকগঞ্জের সূত্রধরপাড়ায় আজ যে সনাতনী সংস্কৃতির সূচনা হলো, তা অধিকার বঞ্চিত প্রতিটি প্রান্তিক মানুষের মনে আশার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের মানুষের সহমর্মিতায় উৎসবের এই ধারা যেন আগামী দিনগুলোতেও অবিচল থাকে—এটাই এখন পালড়া সূত্রধরপাড়ার প্রতিটি মানুষের আকুল প্রার্থনা।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
মানিকগঞ্জে শিশু-কিশোরদের হাত ধরে দেড়শ বছর পর প্রথম দুর্গোৎসব
0:00 0:00
1.0x