হিন্দুস নিউজ

মহাসপ্তমীর পুণ্য তিথিতে মুখরিত সনাতনী সমাজ

পূজায় মুখর মণ্ডপ, আজও মহাসপ্তমী: নবপত্রিকা স্নান ও ভক্তিঘন পুষ্পাঞ্জলি


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ

পূজায় মুখর মণ্ডপ, আজও মহাসপ্তমী: নবপত্রিকা স্নান ও ভক্তিঘন পুষ্পাঞ্জলি
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

ভোরের আলো ফোটার আগেই বেজে ওঠে ঢাক। ধূপের সুবাস, কাঁসরের তোড়জোড়, শঙ্খধ্বনি আর বেদমন্ত্রের পবিত্র সুরধারায় মুখর হয়ে ওঠে সনাতন ধর্মের প্রাণকেন্দ্র ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণ। শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম প্রধান পর্ব মহাসপ্তমীতে রাজধানীসহ সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে নেমে এসেছে আনন্দ আর ভক্তির প্লাবন। জলাশয়ে নবপত্রিকা বা কলাবউয়ের মহাস্নান, দেবী প্রতিমার পাশে নবপত্রিকা স্থাপন, বিহিত পূজা, মহাবোধি ও ভক্তিঘন পুষ্পাঞ্জলির মধ্য দিয়ে পরম শ্রদ্ধায় পালিত হয়েছে মহাসপ্তমী। জগতের সকল অশুভ শক্তির বিনাশ, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মানুষের মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষা, সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মায়েরা, বোনেরা ও ভক্তবৃন্দ অশ্রুসজল নয়নে দেবী দুর্গার চরণে প্রার্থনা নিবেদন করেছেন।

​সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের পরম পবিত্র এই উৎসবে শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাই নয়, বরং ফুটে উঠেছে নিপীড়নমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মানবিক বিশ্ব গড়ার চিরন্তন বার্তা। শনিবার সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের বিপুল সমাগমে এক স্বর্গীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দিনভর পূজা-অর্চনা, আরতি ও অঞ্জলিতে অংশ নেন হাজারও সনাতনী। শাস্ত্রীয় বিধিমতে কলা, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মানকচু ও ধানগাছ একত্র করে তৈরি নবপত্রিকাকে লালপাড় সাদা শাড়ি পরিয়ে বধূরূপে সজ্জিত করা হয়। এরপর সুসজ্জিত পুরোহিত ও ভক্তদের দল নবপত্রিকা মাথায় নিয়ে পাশের জলাশয়ে গিয়ে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে স্নান সম্পন্ন করেন। স্নান শেষে দেবীর ডান পাশে নবপত্রিকা স্থাপনের পর সকাল ৭টা ৩৯ মিনিটে কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার মাধ্যমে শুরু হয় দিনের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

​জগজ্জননী দেবী দুর্গা অশুভকে বিনাশ করে সত্য ও সুন্দরের জয় ঘোষণা করেন। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে সনাতনী সমাজের সুরক্ষা, সকল নাগরিকের সমান অধিকার রক্ষা ও ভ্রাতৃত্বের বাণীই এই দুর্গোৎসবের মূল বার্তা। মহানগর পূজা কমিটির উপদেষ্টা মনীন্দ্র কুমার নাথ উল্লেখ করেন, মহাসপ্তমীর এই পুণ্য তিথিতে ভক্তরা মণ্ডপে এসে মা দুর্গার চরণে আকুতি জানাচ্ছেন। এই উৎসবের মূল শিক্ষা হলো একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক সমাজ ও দেশ গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি মানুষ যেন ভয়হীনচিত্তে শান্তিতে বসবাস করতে পারে। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ জানান, পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি শেষে বিশ্ববাসী ও দেশের সকল মানুষের নিরাপত্তা, শান্তি ও সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার পাশাপাশি সকল প্রকার হিংসা-বিদ্বেষ ও হানাহানি বন্ধে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

​উৎসবকে কেন্দ্র করে ঢাকেশ্বরী মন্দির চত্বর ও আশপাশের প্রাঙ্গণ বর্ণিল আলোকসজ্জা ও তোরণে সাজানো হয়েছে। প্রাঙ্গণে বসেছে আনন্দমেলা, যেখানে শাঁখা, সিঁদুর, পূজার সামগ্রী ও নানা খাবারের পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মণ্ডপ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সনাতনী স্বেচ্ছাসেবকরাও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। ধর্মীয় গণনা অনুযায়ী, আশ্বিন মাসের ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত মূল দুর্গোৎসব চললেও এবার মহাসপ্তমী তিথি দুদিন বিস্তৃত হওয়ায় উৎসবের আনন্দ ছড়িয়েছে ছয় দিনব্যাপী। আগামী সোমবার মহাঅষ্টমী, মঙ্গলবার মহানবমী এবং বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে এই মহাপর্ব। শাস্ত্রীয় মতানুসারে এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘোটকে (ঘোড়ায়) এবং গমন নৌকায়। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যানুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ৪৯৬টি বেশি। তবে ঢাকা মহানগরীতে ২৫৮টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মায়ের আগমনে দূর হোক সকল অন্ধকার, বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হোক সত্য, ন্যায় ও সনাতনী চেতনা।

বিষয় : সনাতনী দূর্গাপূজা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


পূজায় মুখর মণ্ডপ, আজও মহাসপ্তমী: নবপত্রিকা স্নান ও ভক্তিঘন পুষ্পাঞ্জলি

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভোরের আলো ফোটার আগেই বেজে ওঠে ঢাক। ধূপের সুবাস, কাঁসরের তোড়জোড়, শঙ্খধ্বনি আর বেদমন্ত্রের পবিত্র সুরধারায় মুখর হয়ে ওঠে সনাতন ধর্মের প্রাণকেন্দ্র ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণ। শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম প্রধান পর্ব মহাসপ্তমীতে রাজধানীসহ সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে নেমে এসেছে আনন্দ আর ভক্তির প্লাবন। জলাশয়ে নবপত্রিকা বা কলাবউয়ের মহাস্নান, দেবী প্রতিমার পাশে নবপত্রিকা স্থাপন, বিহিত পূজা, মহাবোধি ও ভক্তিঘন পুষ্পাঞ্জলির মধ্য দিয়ে পরম শ্রদ্ধায় পালিত হয়েছে মহাসপ্তমী। জগতের সকল অশুভ শক্তির বিনাশ, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মানুষের মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষা, সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মায়েরা, বোনেরা ও ভক্তবৃন্দ অশ্রুসজল নয়নে দেবী দুর্গার চরণে প্রার্থনা নিবেদন করেছেন।

​সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের পরম পবিত্র এই উৎসবে শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাই নয়, বরং ফুটে উঠেছে নিপীড়নমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মানবিক বিশ্ব গড়ার চিরন্তন বার্তা। শনিবার সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের বিপুল সমাগমে এক স্বর্গীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দিনভর পূজা-অর্চনা, আরতি ও অঞ্জলিতে অংশ নেন হাজারও সনাতনী। শাস্ত্রীয় বিধিমতে কলা, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মানকচু ও ধানগাছ একত্র করে তৈরি নবপত্রিকাকে লালপাড় সাদা শাড়ি পরিয়ে বধূরূপে সজ্জিত করা হয়। এরপর সুসজ্জিত পুরোহিত ও ভক্তদের দল নবপত্রিকা মাথায় নিয়ে পাশের জলাশয়ে গিয়ে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে স্নান সম্পন্ন করেন। স্নান শেষে দেবীর ডান পাশে নবপত্রিকা স্থাপনের পর সকাল ৭টা ৩৯ মিনিটে কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার মাধ্যমে শুরু হয় দিনের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

​জগজ্জননী দেবী দুর্গা অশুভকে বিনাশ করে সত্য ও সুন্দরের জয় ঘোষণা করেন। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে সনাতনী সমাজের সুরক্ষা, সকল নাগরিকের সমান অধিকার রক্ষা ও ভ্রাতৃত্বের বাণীই এই দুর্গোৎসবের মূল বার্তা। মহানগর পূজা কমিটির উপদেষ্টা মনীন্দ্র কুমার নাথ উল্লেখ করেন, মহাসপ্তমীর এই পুণ্য তিথিতে ভক্তরা মণ্ডপে এসে মা দুর্গার চরণে আকুতি জানাচ্ছেন। এই উৎসবের মূল শিক্ষা হলো একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক সমাজ ও দেশ গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি মানুষ যেন ভয়হীনচিত্তে শান্তিতে বসবাস করতে পারে। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ জানান, পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি শেষে বিশ্ববাসী ও দেশের সকল মানুষের নিরাপত্তা, শান্তি ও সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার পাশাপাশি সকল প্রকার হিংসা-বিদ্বেষ ও হানাহানি বন্ধে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

​উৎসবকে কেন্দ্র করে ঢাকেশ্বরী মন্দির চত্বর ও আশপাশের প্রাঙ্গণ বর্ণিল আলোকসজ্জা ও তোরণে সাজানো হয়েছে। প্রাঙ্গণে বসেছে আনন্দমেলা, যেখানে শাঁখা, সিঁদুর, পূজার সামগ্রী ও নানা খাবারের পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মণ্ডপ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সনাতনী স্বেচ্ছাসেবকরাও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। ধর্মীয় গণনা অনুযায়ী, আশ্বিন মাসের ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত মূল দুর্গোৎসব চললেও এবার মহাসপ্তমী তিথি দুদিন বিস্তৃত হওয়ায় উৎসবের আনন্দ ছড়িয়েছে ছয় দিনব্যাপী। আগামী সোমবার মহাঅষ্টমী, মঙ্গলবার মহানবমী এবং বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে এই মহাপর্ব। শাস্ত্রীয় মতানুসারে এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘোটকে (ঘোড়ায়) এবং গমন নৌকায়। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যানুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ৪৯৬টি বেশি। তবে ঢাকা মহানগরীতে ২৫৮টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মায়ের আগমনে দূর হোক সকল অন্ধকার, বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হোক সত্য, ন্যায় ও সনাতনী চেতনা।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
পূজায় মুখর মণ্ডপ, আজও মহাসপ্তমী: নবপত্রিকা স্নান ও ভক্তিঘন পুষ্পাঞ্জলি
0:00 0:00
1.0x