খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ৫ হিন্দু শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ মোট সাতজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৫তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চাকরিচ্যুতদের মধ্যে রয়েছেন সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. পিন্টু চন্দ্র শীল, আইইএম বিভাগের অধ্যাপক ড. সুব্রত তলাপাত্র এবং ইএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিবিড় মণ্ডল। এ ছাড়া ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিমাই চন্দ্র মিস্ত্রি ও অফিস সহায়ক সত্যজিৎ কুমার দত্তের নামও রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়ম, প্রয়োজনীয় যোগ্যতার ঘাটতি, জাল অভিজ্ঞতার সনদ এবং দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অধ্যাপক ড. পিন্টু চন্দ্র শীলের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালে ক্যাম্পাসে নিয়মিত উপস্থিত না থাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে নাম থাকার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অধ্যাপক ড. সুব্রত তলাপাত্রের বিরুদ্ধে ২০১০ সালে প্রভাষক পদে আবেদনের সময় বয়সসীমা অতিক্রম করার অভিযোগ আনা হয়েছে। সহকারী অধ্যাপক নিবিড় মণ্ডলের বিরুদ্ধে প্রকল্পের অভিজ্ঞতা গণনার ক্ষেত্রে বিধি অনুসরণ না করা এবং বিদেশ থেকে ফিরে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিমাই চন্দ্র মিস্ত্রির বিরুদ্ধে বিভাগীয় কর্মকর্তা হিসেবে ভুয়া অভিজ্ঞতার তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অফিস সহায়ক সত্যজিৎ কুমার দত্তের বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স কমানোর অভিযোগ রয়েছে।
কুয়েটের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে ১১৫তম সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সাতজনকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মতামত