দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ৩নং শতগ্রাম ইউনিয়নের একটি শ্মশান কালীমন্দিরে গভীর রাতে অনধিকার প্রবেশ করে পূজা অর্চনার ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে সংঘটিত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনে চরম নিরাপত্তা হীনতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যখন শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে ও আয়োজনে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক সেই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে গত ১৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে কথিত তান্ত্রিক মকছেদ আলী নেন্দু এবং তাঁর দুই সহযোগী বদীর আলী ও মঙ্গলু গোপনে শ্মশান কালীমন্দিরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা অনুমতি ছাড়াই পূজায় অংশ নেন এবং গভীর রাতে এই ধরনের রহস্যজনক কর্মকাণ্ড চলতে দেখে স্থানীয় কয়েকজন উৎসুক ব্যক্তি তাদের হাতেনাতে আটক করে জনরোষের মুখে ফেলেন।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। অভিযোগ উঠেছে, গভীর রাতে শুধু পূজাই নয়, বরং তান্ত্রিক চর্চার নামে ওই শ্মশানের পবিত্র মাটি, দাহ করা মরদেহের ছাই এবং কবরসংক্রান্ত বিভিন্ন গোপন সামগ্রীও চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিলেন নেন্দু কবিরাজ। এ ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
ঘটনাস্থল থেকে আটকের পর অভিযুক্ত মকছেদ আলী নেন্দুকে স্থানীয় শতগ্রাম ইউনিয়নের বিএনপি নেতা ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাবিবুর রহমান হবির নিকট হস্তান্তর করা হয়। এই হস্তান্তর পর্বকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে মারধর ও অপমানের পাল্টাপাল্টি কিছু অভিযোগও গণমাধ্যমে সামনে আসে, যা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে। নিউজ কপিড ফ্রম- 'হিন্দুস নিউজ'। তবে মন্দিরের সেবায়েত গোরাচাঁন ও স্থানীয় সচেতন মহলের জোরালো দাবি, মূল অপরাধ এবং মন্দিরের পবিত্রতা হানীর ঘটনাকে ধামাচাপা দিতেই পরবর্তীতে নানা বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে অভিযুক্ত মকছেদ আলী নেন্দু ও তার সহযোগীরা ভুল স্বীকার করেছেন এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার এবং উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মন্দির কমিটির সেবায়েত গোরাচাঁন বলেন, এই আকস্মিক ঘটনার পর থেকে পুরো সনাতন সমাজ তীব্র আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে এবং উপাসনালয়ের পবিত্রতা ও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠায় রয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উপাসনালয়ের পবিত্রতা রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অবিলম্বে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন যেন এই ঘটনার পেছনের মূল রহস্য উন্মোচনে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করা হয় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে শ্মশান ও কালীমন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
মতামত