রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় এক অভিনব প্রেমের ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে ধর্মীয় সীমানা পেরিয়ে ভালোবাসার টানে হিন্দু যুবকের বাড়িতে এসে অনড় অবস্থান নিয়েছেন এক মুসলিম তরুণী। পুঠিয়া উপজেলার কৃষ্ণপুর বুড়া শিবতলা এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, শেরপুর জেলার বলাইচর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা আশরাফ আলীর ২২ বছরের কন্যার সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় স্থানীয় বিমল চন্দ্র দাসের ২১ বছর বয়সী পুত্র অনিক কুমার দাসের। প্রায় এক বছর ধরে চলা এই গভীর প্রেমের সম্পর্কের জের ধরেই গত শুক্রবার সকালে তরুণীটি সোজা প্রেমিকের বাড়িতে এসে উপস্থিত হন এবং বিয়ের দাবিতে অনড় অবস্থান নেন।
প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে পুঠিয়ায় পৌঁছানোর পর যুবকের পরিবারের সদস্যরাই তাঁকে বাসস্ট্যান্ড থেকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান। তরুণী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে তিনি অনিককেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে চান এবং প্রয়োজনে নিজের ধর্ম পরিবর্তন করে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করতেও তাঁর বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকার কিছু বাসিন্দা তরুণীকে তাঁর পরিবারে ফিরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। যুবকের বাবা বিমল দাস জানিয়েছেন যে তাঁরা ইতিমধ্যেই তরুণীর বাবা-মায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেছিলেন, জবাবে তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে মেয়ের বিষয়ে তাঁদের আর কোনো দাবি নেই এবং পরিবার যা ভালো মনে করে তাই করতে পারে।
(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন যে পুলিশ মুসলিম তরুণীর হিন্দু যুবকের বাড়িতে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং এই বিষয়ে আইনগত ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার, সামাজিক মূল্যবোধ এবং প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের প্রশ্নটি এই ঘটনায় নতুন করে সামনে চলে এসেছে। দুই ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের এই ভালোবাসার সম্পর্ক এবং বিয়ের আকুতি শেষ পর্যন্ত কোন পরিণতি লাভ করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে পুরো এলাকাবাসীর।
মতামত