প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, আজ হঠাৎ করেই বৃন্দাবনের শান্ত পরিবেশ নরকে পরিণত হয়। কংসের নির্দেশে কেশী নামের এক অসুর বিশাল এক ঘোড়ার রূপ ধারণ করে এলাকায় প্রবেশ করে। তার শরীর ছিল পর্বতের মতো বিশাল, আর চোখের দৃষ্টিতে ছিল আগুনের ফুলকি। কেশীর বিকট হ্রেষাধ্বনিতে কেঁপে ওঠে চারপাশ, খুরের আঘাতে ধুলোয় অন্ধকার হয়ে যায় আকাশ। প্রাণভয়ে গোপ-গোপীরা দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছুটতে থাকেন।
তীব্র আতঙ্কের মাঝেও বিন্দুমাত্র বিচলিত হতে দেখা যায়নি যশোদা-দুলালকে। শান্ত পদক্ষেপে তিনি এগিয়ে যান সেই মদমত্ত ঘোড়ার দিকে। শ্রীকৃষ্ণকে দেখেই ক্রোধে ফেটে পড়ে কেশী অসুর। সে তার বিশাল মুখ হাঁ করে শ্রীকৃষ্ণকে গিলে ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা।
উপস্থিত জনতা জানান, কেশী যখন আক্রমণ করতে উদ্যত হয়, তখন শ্রীকৃষ্ণ অবলীলায় নিজের ডান হাতটি অসুরের মুখের ভেতর ঢুকিয়ে দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কৃষ্ণের সেই হাত মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত লোহার মতো ভারী ও গরম হয়ে ওঠে। অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে কেশী। তার শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আসে এবং মুখ দিয়ে রক্তবমি করতে করতে বিশাল দেহটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কংসের এই দুর্ধর্ষ অনুচরের।
অসুর নিধনের পর মুহূর্তেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। কথিত আছে, কৃষ্ণের এই বীরত্ব দেখে দেবতারা স্বর্গ থেকে পুষ্পবৃষ্টি শুরু করেন। ব্রজবাসীরা আনন্দে মেতে ওঠেন এবং শ্রীকৃষ্ণকে জড়িয়ে ধরেন। গ্রামবাসীদের মতে, এই বালক কোনো সাধারণ মানব সন্তান নয়, স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর অবতার।
এই ঘটনার আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা দিয়ে ঋষি-মুনিরা জানিয়েছেন, কেশী অসুর ছিল আসলে মানুষের ‘অহংকার’ ও ‘দম্ভের’ প্রতীক। শ্রীকৃষ্ণ তাকে বধ করে এই বার্তাই দিলেন যে, অধর্ম ও অন্যায়ের বিনাশ অনিবার্য। ধর্মের পথে থাকলে ভগবান নিজেই ভক্তের রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়ান।
এই ঘটনার পর মথুরার রাজপ্রাসাদে কংসের সিংহাসন টলমল করে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে। একের পর এক অসুর নিধনের পর এখন সবার নজর
মতামত