হিন্দুস নিউজ
Topic Ads 1
রসিক রায় জিউ মন্দিরে জমি ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

রসিক রায় জিউ মন্দিরে জমি ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে যখন চারদিকে আনন্দের আবহ তৈরি হওয়ার কথা, ঠিক তখনই ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের শিকদার হাট এলাকার ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী রসিক রায় জিউ মন্দিরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক অপ্রীতিকর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্দিরের মালিকানা ও কর্তৃত্ব বিস্তার নিয়ে স্থানীয় সনাতনী ধর্মাবলম্বী ও ইসকন অনুসারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নিতেন্দ্র নাথ বর্মন, জীতেন্দ্র নাথ বর্মন, চাম্পা রানী, দৈত্য নাথ বাবু, পায়েল প্রভূ ও নূপুরসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভূল্লী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায়। বর্তমানে এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও পুলিশের কঠোর পদক্ষেপে আপাতত শান্ত রয়েছে।​আউলিয়াপুরের এই শ্রী শ্রী রসিক রায় জিউ মন্দিরের জমি এবং দুর্গাপূজা আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ইসকন সমর্থকদের মধ্যকার বিরোধ ও উত্তেজনার ইতিহাস নতুন নয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এর আগেও ২০০৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এই দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের চরম পরিণতিতে স্থানীয় প্রশাসন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে মন্দির প্রাঙ্গণে টানা ১৬ বছর ১৪৪ ধারা জারি রাখতে বাধ্য হয় এবং উক্ত দীর্ঘ সময় সেখানে সমস্ত প্রকার পূজা অর্চনা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। দীর্ঘ ১৬ বছরের বিবাদ কাটিয়ে গত বছর জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রতিনিধি ও উভয় পক্ষের সমঝোতায় ঐতিহাসিক এই মন্দিরে পুনরায় সাড়ম্বরে দুর্গাপূজা আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়, যা স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে এক পরম স্বস্তি ও উৎসবের মেজাজ ফিরিয়ে এনেছিল। কিন্তু রক্তক্ষয়ী অতীত পার করে এক বছর যেতে না যেতেই ফের একই জমি দখলকে কেন্দ্র করে পুনরায় এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ সনাতনী ভক্তবৃন্দের মনে চরম আতঙ্ক ও গভীর অনিশ্চয়তার মেঘ সৃষ্টি করেছে। সনাতনীদের মৌলিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় উৎসব পালনের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসন ইতোমধ্যে তৎপর হয়েছে এবং ভূল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরে আলম সিদ্দিকী জানিয়েছেন যে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ও উভয় পক্ষের মধ্যকার এই নতুন বিরোধ নিরসনে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জরুরি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।

সেপ্টেম্বর জুড়ে সনাতনীদের অব্যাহত হত্যা, হামলা ও মন্দির ভাঙচুরের পরিসংখ্যান

বাংলাদেশে সনাতনী হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত হয়রানি, নির্যাতন ও নিরাপত্তার চরম সংকট ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। অতি সম্প্রতি প্রকাশিত একটি উদ্বেগজনক নথিতে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘুদের ওপর অন্তত ৫০টি পৃথক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। Sanatani Research & IT Ltd.-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে 'SAMIDH' কর্তৃক প্রস্তুতকৃত "Fact Sheet on Minority Persecution"-এ এই শিউরে ওঠার মতো চিত্র উঠে এসেছে। নথিতে প্রদর্শিত তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমানে দেশের হিন্দু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক মানবাধিকার এবং অস্তিত্ব মারাত্মক হুমকির মুখোমুখি।​সেপ্টেম্বর মাসের এই সামগ্রিক নথিতে সবচেয়ে বেদনার বিষয় হলো জীবনহানির ঘটনা। এক মাসের ব্যবধানেই কেবল ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে ৯ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রাণকেন্দ্র ও বিশ্বাসের প্রতীক পবিত্র উপাসনালয়গুলোর ওপরও চলেছে নৃশংস তাণ্ডব। এক মাসেই ৮টি মন্দির ভাঙচুর ও অপবিত্র করা হয়েছে, যা সনাতনী আত্মপরিচয়ের ওপর চরম আঘাত। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলা ঘটেছে ৯টি, চুরি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে ৯টি এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩ জন। এমনকি প্রকাশ্যে বন্দুক উঁচিয়ে গুলিবর্ষণের ২টি ঘটনা এবং ১টি অপহরণের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।​নিরাপত্তাহীনতা ও অধিকার লঙ্ঘনের এই সার্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপরও চরম আঘাত আনা হচ্ছে। জমি জোরপূর্বক দখলের ২টি এবং চাঁদাবাজির ২টি ঘটনা সরাসরি সংখ্যালঘুদের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল করে দেওয়ার অপচেষ্টাকে নির্দেশ করে। পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার ৩টি এবং ধর্ম অবমাননার ২টি ঘটনা সনাতনীদের মধ্যে সার্বিক আতঙ্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এই সব তথ্য কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক অপরাধের অংশ নয়, বরং দেশের একাধিক অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা এসব ঘটনার ধরন থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও উৎখাতের একটি ধারাবাহিক নকশা ক্রিয়াশীল রয়েছে। দুর্বল আইন প্রয়োগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়া, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক মনোভাবই এই সংকটকে দিন দিন আরও গভীর করে তুলছে।​পূর্ববর্তী মাসের তুলনামূলক চিত্র পর্যালোচনা করলেও পরিস্থিতি শিহরণ জাগানিয়া। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের শুরুতে টাঙ্গাইল ও মাদারীপুর সহ বিভিন্ন জেলায় মন্দির ও দেব-দেবী প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল, যা সনাতনী সমাজকে গভীরভাবে ব্যথিত ও আতঙ্কিত করেছে। নথির তথ্যানুযায়ী, কেবল ভৌগোলিক বা বস্তুগত ক্ষতি নয়, বরং এই নিপীড়ন মানবতাবোধ ও সকল জাতির মানবাধিকারের মূল ভিত্তিতে আঘাত হানছে। ফলে অনেকেই নিজেদের ভিটামাটি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন এবং সামাজিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হচ্ছে। প্রসেনজিৎ কুমার হালদারের সম্পাদনা, দেবব্রত সরকারের দায়িত্বশীল তদারকি এবং নিরব সরকারের তথ্য বিশ্লেষণে তৈরি এই প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজকে অনতিবিলম্বে এই অরাজকতা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। সংখ্যালঘুদের সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিতকরণ, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল এই মানবাধিকার সংকট থেকে মুক্তির পথ উন্মোচিত হতে পারে।

সেপ্টেম্বর জুড়ে সনাতনীদের অব্যাহত হত্যা, হামলা ও মন্দির ভাঙচুরের পরিসংখ্যান

৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে সনাতনী প্রবাসীর বাড়ীতে বোমাবাজি-হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের মৌরাট গ্রামের ঋষিপাড়ায় এক সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রবাসীর বাড়িতে চাঁদার দাবিতে মধ্যরাতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও বোমাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবীন ও অসহায় সুশীল ঋষির বসতবাড়িতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। এ সময় বাড়িতে অবস্থানরত নারী ও শিশুদের ভয়ভীতি দেখিয়ে দুর্বৃত্তরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান বিদেশি লাইট লুট করে নিয়ে যায়। আকস্মিক বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুরো ঋষিপাড়ার নিরিহ সনাতনী পরিবারের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।​ভুক্তভোগী সুশীল ঋষি জানান, এর আগে প্রায় ১৫ দিন আগেও একইভাবে তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে দুর্বৃত্তরা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় আবারও তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এই নৃশংস হামলা ও লুটপাট চালায়। সুশীল ঋষির অভিযোগ, একই গ্রামের খিরোদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত ও সামাজিক বিরোধ চলে আসছে এবং তার প্রত্যক্ষ ইন্ধনেই বারবার তাদের বাড়িতে এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') প্রবাসীর মেয়ে অর্পণা ঋষি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, প্রবাসে থাকা তার দুই ভাইকে ফোন করে দুর্বৃত্তরা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে তাদের বৃদ্ধ বাবাকে প্রাণনাশের প্রকা‌শ্য হুমকি দেওয়া হয়েছে।​ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই পাংশা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে ঘটনার বিষয়ে পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মইনূল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল, কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি বলে মনে হচ্ছে। তিনি বিষয়টিকে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে দেখছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশের এই ধরনের শিথিল ভূমিকায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। বারবার প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর এমন হামলায় এলাকায় গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে সনাতনী প্রবাসীর বাড়ীতে বোমাবাজি-হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি

রামু ট্র্যাজেডির ১৪ বছর: বিচারহীনতার দীর্ঘ ছায়ায় ক্ষুব্ধ ও শঙ্কিত

কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে সংঘটিত নারকীয় তাণ্ডবের দীর্ঘ ১৪ বছর অতিবাহিত হলেও বিচার প্রক্রিয়ার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয় ধর্মীয় সংখ্যালঘু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর ক্ষোভ, হতাশা ও বিচারহীনতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে এক বৌদ্ধ যুবকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে রাতের অন্ধকারে রামুর ১২টি দৃষ্টিনন্দন বৌদ্ধ বিহার এবং ৩০টি বসতঘরে নৃশংস হামলা, ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়। একই সময়ে উখিয়া ও টেকনাফেও ছড়িয়ে পড়া এই সহিংসতায় আরো সাতটি বৌদ্ধ বিহার ও ১১টি বসতঘর পুড়িয়ে ছারখার করা হয়, যেখানে আরো শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত উপাসনালয় ও ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ করা হলেও এবং বাহ্যিক সম্প্রীতির আবহ তৈরি হলেও মূল অপরাধীরা এখনো শাস্তি না পাওয়ায় সংক্ষুব্ধ জনগোষ্ঠীর মনের ক্ষত একটুও শুকায়নি।​বাঙালি সনাতনী ও অসাম্প্রদায়িক ধারার সুরক্ষায় নিবেদিত অংশ হিসেবে উল্লেখ্য যে, দেশে যেকোনো ধর্মীয় বা জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নটি সর্বদা মৌলিক মানবাধিকারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই সহিংসতার পর পুলিশ এজাহারভুক্ত ৩৭৮ জনসহ অজ্ঞাতনামা সাড়ে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে ২০টি মামলা দায়ের করে এবং ৯৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও মাত্র একটি মামলা আপোসে নিষ্পত্তি ছাড়া বাকি মামলাগুলোর বিচারকাজ প্রায় স্থবির হয়ে আছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') স্থানীয় প্রবীণ ও ধর্মীয় প্রতিনিধিরা অভিযোগ তুলেছেন যে, পুলিশের দায়ের করা এসব মামলায় মূল অপরাধীদের বাদ দিয়ে নিরপরাধ বহু মানুষকে জড়ানো হয়েছে এবং সঠিক প্রমাণের অভাব দেখিয়ে কিংবা সাক্ষীদের অনিয়মের অজুহাতে বিচারপ্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বিচারসংশ্লিষ্টদের একাংশ সাক্ষীর অনুপস্থিতিকে কারণ হিসেবে দেখালেও ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলার সময়কার ছবি ও ভিডিওচিত্রগুলোকে ডিজিটাল সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করলেই সঠিক বিচার পাওয়া সম্ভব হতো।​ঐতিহাসিক রামু ট্র্যাজেডির ১৪তম বর্ষপূর্তিতে রামু বুড্ডিস্ট সোশ্যাল মুভমেন্ট বুদ্ধ উপাসনা, চিত্র প্রদর্শনী ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটিকে স্মরণ করার পাশাপাশি ঘটনার পুনস্তদন্ত ও সরকারি নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় প্রবীণ ধর্মীয় গুরু শীলপ্রিয় মহাথের ও বৌদ্ধ নেতাদের মতে, বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি কেবল রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক নয়, বরং ভবিষ্যতে অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সুরক্ষাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। যেকোনো অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে সব জাতির মানবাধিকার রক্ষা অধরাই থেকে যাবে, তাই অবিলম্বে রামু ট্র্যাজেডির নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করাই এখন সময়ের দাবি।

রামু ট্র্যাজেডির ১৪ বছর: বিচারহীনতার দীর্ঘ ছায়ায় ক্ষুব্ধ ও শঙ্কিত

নির্দোষ সনাতনী তরুণকে পিটিয়ে ‘ভুল স্বীকার’ সাংবাদিকের

ধর্মীয় সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে কোনো অকাট্য প্রমাণ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে একজন নিরীহ হিন্দু তরুণকে সামাজিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটেছে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে। স্থানীয় বাসিন্দা খেটে- খাওয়া সাধারণ যুবক রনি বৈদ্যকে লক্ষ্য করে সাংবাদিক মোশাহিদ আহমেদ তার নিজ ফেসবুক আইডিতে একটি বিভ্রান্তিকর ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটিতে সম্পূর্ণ অসত্য দাবি করে বলা হয় যে, রনি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা অবস্থায় ধরা পড়েছেন। সংবাদ ছড়ানোর পর কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই স্থানীয় মাদ্রাসার কিছু উগ্রপন্থী যুবক সেখানে জড়ো হয়ে ওই তরুণকে নির্মমভাবে মারধর করে। হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত হওয়ায় সম্পূর্ণ অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়েও রনি অসহায়ভাবে এই নির্যাতন সহ্য করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​ঘটনার চার ঘণ্টা অতিক্রম করার পর অভিযুক্ত সাংবাদিক মোশাহিদ তার আইডি থেকে মূল ভিডিওটি মুছে ফেলেন এবং একটি নতুন পোস্ট দেন। পরবর্তী সেই পোস্টে তিনি স্বীকার করেন যে, রনি সম্পূর্ণ নির্দোষ একজন ভালো ছেলে এবং ঘটনার সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়েও রনির বিরুদ্ধে অনৈতিক কোনো তথ্যের প্রমাণ মেলেনি জানিয়ে মোশাহিদ অন্য ব্যবহারকারীদেরও ভিডিওটি মুছে ফেলার অনুরোধ জানান। কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই একজন সনাতনী সংখ্যালঘু মানুষকে 'মব' বা উগ্র জনতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে, শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে ও মানসম্মান ক্ষুণ্ন করার পর সাধারণ একটি ফেসবুক পোস্টে নির্দোষ দাবি করা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের আলোকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো প্রমাণের আগেই ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে হয়রানি বন্ধে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

নির্দোষ সনাতনী তরুণকে পিটিয়ে ‘ভুল স্বীকার’ সাংবাদিকের

সুনামগঞ্জে সংখ্যালঘু শিক্ষককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় অন্যায়ের প্রতিবাদ ও সরকারি খাস জমি দখল রোধ করতে গিয়ে এক হিন্দু শিক্ষক নির্মম হামলার শিকার হয়েছেন। রোববারে সকালে উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের পাথারিয়াকান্দা এলাকায় পাথারিয়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মণকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত শিক্ষকের শরীরে ছয়টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে এসে টিনু মিয়া নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে পাথারিয়াকান্দা এলাকায় সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখলের পাঁয়তারা করছিলেন। রোববার সকালে পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণকাজ শুরু করেন। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মণ এই বেআইনি দখলের তীব্র প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে টিনু মিয়া ও তার সঙ্গীরা শিক্ষক বর্মণের ওপর চড়াও হয় এবং উত্তপ্ত কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে।​এলাকাবাসীর অভিযোগ, হামলাকারী টিনু মিয়া ওই পাথারিয়াকান্দা এলাকার বাসিন্দা নন; প্রায় তিন কিলোমিটার দূর থেকে এসে তিনি জোরপূর্বক সরকারি সম্পদ ও খাস জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। News copied from- 'হিন্দুস নিউজ'—এর পাশাপাশি ওই এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে বসবাসরত সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরীহ মানুষের ওপর ক্রমাগত হুমকি-ধামকি ও গালিগালাজ করে আসছিলেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মণ অবৈধ দখলে বাধা দেওয়ায় গত কয়েক দিন ধরেই টিনু মিয়া তাকে প্রকাশ্যে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন। সেই পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই শিক্ষকের ওপর এই সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়।​ঘটনার পর অভিযুক্ত টিনু মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, সরকারি খাস জমি দখল ও বাধাদানকে কেন্দ্র করেই এই সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ না পেলেও লিখিত অভিযোগ জমা হলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সুনামগঞ্জে সংখ্যালঘু শিক্ষককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম

বাগেরহাটে কালীমন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর, মাথা কেটে দিল দুর্বত্তরা

বাগেরহাট সদর উপজেলার খাড়াসম্বল গ্রামের দক্ষিণপাড়া সর্বজনীন শ্রীশ্রী কালী মন্দিরে কালী প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিমার বিভিন্ন অংশ ভাঙচুরের পাশাপাশি মাথাও কেটে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্দির সংশ্লিষ্টরা।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাপ্তাহিক পূজার আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে স্থানীয়রা মন্দিরে গেলে ভাঙচুর করা অবস্থায় প্রতিমাটি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে মন্দির সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিমাটি ভাঙচুরের বিষয়টি দেখতে পান।খবর পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত কাউকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি।খাড়াসম্বল দক্ষিণপাড়া সর্বজনীন শ্রীশ্রী কালী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সর্বজিৎ হালাদার জানান, প্রতি মঙ্গলবার মন্দিরে কালীপূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজার প্রস্তুতির জন্য সোমবার দুপুরের দিকে তাদের পরিবারের দুই সদস্য মন্দিরে যান। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, মা কালীর প্রতিমাটি বিভিন্নভাবে ভাঙচুর করা হয়েছে। এমনকি প্রতিমার মাথাও কেটে ফেলা হয়েছে।তিনি বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত মন্দির সংশ্লিষ্টরা সেখানে গিয়ে ভাঙচুর করা অবস্থায় প্রতিমাটি পড়ে থাকতে দেখেন। তবে কারা বা কী কারণে প্রতিমাটি ভাঙচুর করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।ঘটনার পর স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বাগেরহাটে কালীমন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর, মাথা কেটে দিল দুর্বত্তরা