এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট ইভেন্ট থেকে কোনো পদক না পেয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে, যা ক্রীড়ামোদী ও সাধারণ মানুষের মাঝে চরম হতাশার সৃষ্টি করেছে। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রত্যাশিত পারফর্ম করতে ব্যর্থ হওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক লিটন দাস দলের টানা ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নিলেও অধিনায়কত্ব ছাড়ার দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে পরাস্ত হয় বাংলাদেশ। এরপর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে কোনো পদক ছাড়াই লজ্জাজনক বিদায় নিতে হয় দলকে। দুটি ম্যাচেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার হয় দল, যেখানে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন লিটন দাস নিজেও।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরাজয়ের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের পারফরম্যান্সের ঘাটতি এবং অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে লিটন দাস নিজের বাজে ফর্মের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। তিনি জানান যে দুটি ম্যাচেই তিনি ব্যাটে রান পাননি, যা দলকেও বড় চাপে ফেলেছে। তবে অধিনায়কত্ব ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান যে খেলায় জয়-পরাজয় ও উত্থান-পতন থাকবেই এবং খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে পদত্যাগ করার কোনো যৌক্তিকতা তিনি দেখেন না। উল্লেখ্য, টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে তিনি মাত্র ২ রান করেন এবং দ্বিতীয় ম্যাচে কোনো রান না করেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যান।
দলের এমন বিপর্যয় ও ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে কোনো একটি বিশেষ মহল সাধারণ খেলোয়াড়দের ওপর অন্যায়ভাবে দায় চাপানোর চক্রান্ত করতে পারে বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মানবাধিকার ও সর্বজনীন সুবিচারের দিক থেকে যেকোনো ক্ষেত্রে প্রতিটি ক্রীড়াবিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চে লক্ষ্য পূরণের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি অধিনায়ক লিটন দাস স্বীকার করেছেন যে দল হিসেবে পুরো টুর্নামেন্টে তারা সঠিক ও মানসম্মত ক্রিকেট খেলতে পারেননি।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের কারিগরি বিশ্লেষণে লিটন তুলে ধরেন যে তাদের বোলাররা ম্যাচের প্রথম আট ওভারে বেশ ভালো নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। তবে প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার এক ব্যাটারের ঝোড়ো ও অসাধারণ ব্যাটিং প্রদর্শনী পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বোলারদের ম্যাচ থেকে ছিটকে ফেলে। বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিং ব্যর্থতাও এই বিপর্যয়ের অন্যতম বড় কারণ ছিল বলে অধিনায়ক মন্তব্য করেন। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে খালি হাতে ফিরতে হওয়ায় অধিনায়ক হিসেবে নিজের চরম হতাশার কথা জানিয়ে তিনি শেষ করেন যে, একটি বড় স্বপ্ন নিয়ে এসে তা পূরণ করতে না পারলে অধিনায়কের খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক নিয়তি।
মতামত