কেন জীবনের দীর্ঘদিনের আবেগ আর্জেন্টিনা ছেড়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের সমর্থক হলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে শিবু অত্যন্ত খোলামেলাভাবে তার মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের কথা জানান। তিনি বলেন, মূলত ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই তিনি এতদিন আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে আসছিলেন। তবে সময়ের অমোঘ নিয়মে ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে পারে মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। এর পাশাপাশি বর্তমান আর্জেন্টিনা দলে আগের মতো বিশ্বমানের তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড না থাকায় দলের প্রতি আগের সেই সুদৃঢ় আস্থা তিনি আর খুঁজে পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, ব্রাজিলের চিরচেনা শৈল্পিক ফুটবল এবং সাম্বা নৃত্যের মতো নান্দনিক খেলার ধরন, পাশাপাশি নেইমারের প্রতি ব্যক্তিগত ভালো লাগার বিষয়টি তাকে গভীরভাবে আকর্ষণ করেছে। এসব যৌক্তিক ও আবেগীয় কারণ বিবেচনা করেই তিনি ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের মিশনে শামিল হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শিবুর এই সাহসিকতাপূর্ণ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তার বন্ধুরা ও স্থানীয় ক্রীড়ামোদিরা। শিবুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও কট্টর ব্রাজিল সমর্থক মো. আলিম বলেন, আর্জেন্টিনার প্রতি শিবুর ভালোবাসার মূল ভিত্তিই ছিলেন মেসি। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনি যখন স্বাধীনভাবে নতুন করে ব্রাজিলকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তখন তাদের সমর্থক গোষ্ঠী তাকে পরম আন্তরিকতায় আপন করে নিয়েছে। মানবাধিকার ও ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আরেক ব্রাজিল সমর্থক মেহের খান অপু বলেন, বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে সমর্থকদের এমন আবেগঘন সিদ্ধান্ত বা দল পরিবর্তনের ঘটনা মোটেই অস্বাভাবিক নয়। তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন এই সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে এবার সেলেসাওরা বিশ্বমঞ্চে ষষ্ঠবারের মতো শিরোপা উঁচিয়ে ধরবে। বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যকার ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভাতৃত্ববোধ বহুদিনের পুরনো, আর শেরপুরের এই ব্যতিক্রমী ঘটনাটি সেই চিরন্তন ফুটবল আবেগেরই এক অনন্য ও অহিংস উদাহরণ হয়ে থাকবে।
মতামত