বরগুনার আমতলীতে আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও আনন্দঘন পরিবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা উদযাপিত হয়েছে। ‘সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে’—এই মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যা ও জ্ঞান অর্জনের কামনায় দেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন।
সকাল থেকেই আমতলী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাড়া-মহল্লা এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত মণ্ডপগুলোতে ভক্ত ও শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে আমতলী সরকারি কলেজ, আমতলী বন্দর সর্বজনীন দেবোত্তর মন্দির, এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী মণ্ডপগুলোতে পূজার আনুষ্ঠানিকতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
সকালে শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ ও অঞ্জলি প্রদান করা হয়। অনেক মণ্ডপে শিশুদের ‘হাতেখড়ি’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে শিশুদের প্রথম বর্ণমালার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
পূজাকে কেন্দ্র করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। বাসন্তী রঙের শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরে তরুণ-তরুণী ও শিশুরা উৎসবে মেতে ওঠে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মণ্ডপগুলোতে সন্ধ্যায় আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, এ বছর অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে পূজা উদযাপিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন সরস্বতী পূজা উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশি টহল জোরদার ছিল এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উৎসব সম্পন্ন হয়েছে।
বিদ্যার দেবীর এই আরাধনা শেষে আগামীকাল প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
মতামত