রোববার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মোখলেসুর। পোস্টে তিনি দাবি করেন, এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই দায় স্বীকার নয়; বরং দেশের ক্রিকেট ও বিসিবির ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বিপিএলে স্পট ফিক্সিং নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিম এক প্রতিবেদনে দাবি করেন, বিপিএল চলাকালীন ফিক্সিং কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন বিসিবি পরিচালক মোখলেসুর রহমান খান। প্রতিবেদনে কোথায়, কীভাবে এবং কার মাধ্যমে ফিক্সিং কার্যক্রম পরিচালিত হতো—সে বিষয়ে একাধিক তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে বিসিবির অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের বেশ কয়েকটি অডিও ক্লিপও ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বিসিবির ভেতরেও নড়চড় শুরু হয়। অভিযোগের মুখে শেষ পর্যন্ত অডিট কমিটির চেয়ারম্যানসহ বিসিবির সব দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন মোখলেসুর।
ফেসবুক পোস্টে মোখলেসুর লেখেন,“সাম্প্রতিক সময়ে আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অডিট কমিটির চেয়ারম্যানসহ আমার সব দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেন একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করা যায়। এটি কোনোভাবেই দায় স্বীকার নয়; বরং দেশের ক্রিকেট ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার প্রতি আমার দায়বদ্ধতার প্রকাশ।”
তিনি আরও বলেন, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন এবং সত্য উদঘাটিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।“বাংলাদেশ ক্রিকেট আমার কাছে শুধু দায়িত্ব নয়—এটি আবেগ, ভালোবাসা ও সম্মানের জায়গা। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া কষ্টের হলেও বিশ্বাস করি, ব্যক্তিগত অবস্থানের চেয়ে দেশের ক্রিকেটের সুনাম সবার আগে,”—লেখেন মোখলেসুর।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে বিপিএলে স্পট ফিক্সিং নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে অভিযোগের কারণে এনামুল হক বিজয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতসহ কয়েকজন ক্রিকেটারকে নিলামে রাখেনি বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। ফিক্সিং রোধে বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান হিসেবে অ্যালেক্স মার্শালকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও পুরোপুরি এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
সর্বশেষ বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কাছে হারের পর সিলেট টাইটান্সের উপদেষ্টা ফাহিম আল চৌধুরি তাঁর দলের এক ক্রিকেটারের বিরুদ্ধেও ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তোলেন, যা নতুন করে বিতর্ককে উসকে দেয়।
বিসিবি পরিচালক মোখলেসুর রহমান খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও তাঁর পদত্যাগের ঘটনায় বিপিএলের স্বচ্ছতা এবং বিসিবির অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এখন তদন্তে কী উঠে আসে এবং বিসিবি কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে দেশের ক্রিকেটাঙ্গন।
মতামত