মহাদেবের সাথে পৌরাণিক যোগসূত্র:
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, সব সাধু নন, মূলত শৈব সম্প্রদায়ের (যারা ভগবান শিবের উপাসক) সাধুদের মধ্যেই এই প্রথা বিশেষভাবে প্রচলিত। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, সমুদ্র মন্থনের সময় ওঠা তীব্র হলাহল বিষ পান করার পর দেবাদিদেব মহাদেবের শরীরের অসহ্য জ্বালা শান্ত করতে গাঁজা বা ভাং ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই সুপ্রাচীন বিশ্বাস থেকেই এই সম্প্রদায়ের সাধুরা গাঁজাকে শিবের 'প্রসাদ' বা আশীর্বাদ হিসেবে গণ্য করেন এবং তা সেবনের মাধ্যমে নিজেদের আরাধ্য দেবতার সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করেন।
ধ্যান ও কঠোর তপস্যার হাতিয়ার:
তবে বিষয়টি শুধুই পৌরাণিক বিশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাধুদের দাবি, গাঁজা তাদের কাছে সাধারণ মানুষের মতো 'নেশার বস্তু' নয়, বরং তাদের কঠিন তপস্যার একটি সহায়ক উপাদান বা 'টুল'।
মনোসংযোগ বৃদ্ধি: সাধুরা বিশ্বাস করেন যে এটি সেবনে তাদের মন পার্থিব জগতের কোলাহল ও মোহ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে, যা তাদের দীর্ঘক্ষণ গভীর ধ্যানে মগ্ন থাকতে সাহায্য করে।
শারীরিক প্রতিকূলতা জয়: হিমালয়ের হাড়কাঁপানো শীত বা প্রখর রোদে কঠোর তপস্যা করার সময় শরীরের কষ্ট লাঘব করতে এবং চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে এই ভেষজটি তাদের সাহায্য করে বলে জানানো হয়।
পরিশেষে, সাধুদের এই গাঁজা সেবনকে সাধারণ সামাজিক দৃষ্টিতে দেখা সঠিক নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি তাদের হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্য, বিশ্বাস ব্যবস্থা এবং কঠোর সন্ন্যাস জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা তাদের জাগতিক মোহ থেকে মুক্তি এবং আধ্যাত্মিক মার্গে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে বলে তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।
মতামত