শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
হিন্দুস নিউজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

সাধুদের গাঁজা সেবনের নেপথ্যে: ধর্মীয় বিশ্বাস নাকি আধ্যাত্মিক সাধনার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ?


| প্রিন্ট সংস্করণ

সাধুদের গাঁজা সেবনের নেপথ্যে: ধর্মীয় বিশ্বাস নাকি আধ্যাত্মিক সাধনার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ?
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
সাধু-সন্ন্যাসী, বিশেষ করে জটাধারী বা নাগা সাধুদের গাঁজা সেবনের দৃশ্য ভারতীয় সংস্কৃতিতে নতুন কিছু নয়। কুম্ভমেলা বা শিবরাত্রির মতো মহোৎসবে এই দৃশ্য প্রকাশ্যে দেখা যায়। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে প্রায়শই প্রশ্ন জাগে—এই অভ্যাসের আসল কারণ কী? এটি কি শুধুই নেশা, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো গভীর ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য? অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এর পেছনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

মহাদেবের সাথে পৌরাণিক যোগসূত্র:

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, সব সাধু নন, মূলত শৈব সম্প্রদায়ের (যারা ভগবান শিবের উপাসক) সাধুদের মধ্যেই এই প্রথা বিশেষভাবে প্রচলিত। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, সমুদ্র মন্থনের সময় ওঠা তীব্র হলাহল বিষ পান করার পর দেবাদিদেব মহাদেবের শরীরের অসহ্য জ্বালা শান্ত করতে গাঁজা বা ভাং ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই সুপ্রাচীন বিশ্বাস থেকেই এই সম্প্রদায়ের সাধুরা গাঁজাকে শিবের 'প্রসাদ' বা আশীর্বাদ হিসেবে গণ্য করেন এবং তা সেবনের মাধ্যমে নিজেদের আরাধ্য দেবতার সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করেন।

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

ধ্যান ও কঠোর তপস্যার হাতিয়ার:

তবে বিষয়টি শুধুই পৌরাণিক বিশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাধুদের দাবি, গাঁজা তাদের কাছে সাধারণ মানুষের মতো 'নেশার বস্তু' নয়, বরং তাদের কঠিন তপস্যার একটি সহায়ক উপাদান বা 'টুল'।


মনোসংযোগ বৃদ্ধি: সাধুরা বিশ্বাস করেন যে এটি সেবনে তাদের মন পার্থিব জগতের কোলাহল ও মোহ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে, যা তাদের দীর্ঘক্ষণ গভীর ধ্যানে মগ্ন থাকতে সাহায্য করে।


শারীরিক প্রতিকূলতা জয়: হিমালয়ের হাড়কাঁপানো শীত বা প্রখর রোদে কঠোর তপস্যা করার সময় শরীরের কষ্ট লাঘব করতে এবং চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে এই ভেষজটি তাদের সাহায্য করে বলে জানানো হয়।

পরিশেষে, সাধুদের এই গাঁজা সেবনকে সাধারণ সামাজিক দৃষ্টিতে দেখা সঠিক নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি তাদের হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্য, বিশ্বাস ব্যবস্থা এবং কঠোর সন্ন্যাস জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা তাদের জাগতিক মোহ থেকে মুক্তি এবং আধ্যাত্মিক মার্গে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে বলে তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাধুদের গাঁজা সেবনের নেপথ্যে: ধর্মীয় বিশ্বাস নাকি আধ্যাত্মিক সাধনার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ?

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
সাধু-সন্ন্যাসী, বিশেষ করে জটাধারী বা নাগা সাধুদের গাঁজা সেবনের দৃশ্য ভারতীয় সংস্কৃতিতে নতুন কিছু নয়। কুম্ভমেলা বা শিবরাত্রির মতো মহোৎসবে এই দৃশ্য প্রকাশ্যে দেখা যায়। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে প্রায়শই প্রশ্ন জাগে—এই অভ্যাসের আসল কারণ কী? এটি কি শুধুই নেশা, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো গভীর ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য? অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এর পেছনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

মহাদেবের সাথে পৌরাণিক যোগসূত্র:

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, সব সাধু নন, মূলত শৈব সম্প্রদায়ের (যারা ভগবান শিবের উপাসক) সাধুদের মধ্যেই এই প্রথা বিশেষভাবে প্রচলিত। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, সমুদ্র মন্থনের সময় ওঠা তীব্র হলাহল বিষ পান করার পর দেবাদিদেব মহাদেবের শরীরের অসহ্য জ্বালা শান্ত করতে গাঁজা বা ভাং ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই সুপ্রাচীন বিশ্বাস থেকেই এই সম্প্রদায়ের সাধুরা গাঁজাকে শিবের 'প্রসাদ' বা আশীর্বাদ হিসেবে গণ্য করেন এবং তা সেবনের মাধ্যমে নিজেদের আরাধ্য দেবতার সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করেন।

ধ্যান ও কঠোর তপস্যার হাতিয়ার:

তবে বিষয়টি শুধুই পৌরাণিক বিশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাধুদের দাবি, গাঁজা তাদের কাছে সাধারণ মানুষের মতো 'নেশার বস্তু' নয়, বরং তাদের কঠিন তপস্যার একটি সহায়ক উপাদান বা 'টুল'।


মনোসংযোগ বৃদ্ধি: সাধুরা বিশ্বাস করেন যে এটি সেবনে তাদের মন পার্থিব জগতের কোলাহল ও মোহ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে, যা তাদের দীর্ঘক্ষণ গভীর ধ্যানে মগ্ন থাকতে সাহায্য করে।


শারীরিক প্রতিকূলতা জয়: হিমালয়ের হাড়কাঁপানো শীত বা প্রখর রোদে কঠোর তপস্যা করার সময় শরীরের কষ্ট লাঘব করতে এবং চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে এই ভেষজটি তাদের সাহায্য করে বলে জানানো হয়।

পরিশেষে, সাধুদের এই গাঁজা সেবনকে সাধারণ সামাজিক দৃষ্টিতে দেখা সঠিক নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি তাদের হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্য, বিশ্বাস ব্যবস্থা এবং কঠোর সন্ন্যাস জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা তাদের জাগতিক মোহ থেকে মুক্তি এবং আধ্যাত্মিক মার্গে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে বলে তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
সাধুদের গাঁজা সেবনের নেপথ্যে: ধর্মীয় বিশ্বাস নাকি আধ্যাত্মিক সাধনার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ?
0:00 0:00
1.0x