জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মন্দির স্থাপনের ন্যায্য দাবি জানিয়ে আসলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার “ জায়গাও নেই” বলে আবেদনটি নাকচ করে দেয়।
অথচ সেই একই প্রস্তাবিত স্থানে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা বা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ টয়লেট নির্মাণ শুরু করায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
সনাতনী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসনের এই আচরণ কেবল দ্বিচারিতাই নয়, বরং সরাসরি ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত এবং প্রতারণার শামিল।
যে জায়গাকে মন্দির স্থাপনের জন্য অপ্রতুল বলে দাবি করা হয়েছিল, সেখানে শৌচাগার নির্মাণ শুরু হওয়া প্রমাণ করে যে সমস্যাটি জায়গার নয়, বরং মানসিকতা ও সদিচ্ছার অভাব।
শিক্ষার্থীদের মতে, এই সিদ্ধান্ত পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় অবমাননার ইঙ্গিত বহন করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য তা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

তাদের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে টয়লেট নির্মাণ বন্ধ, প্রস্তাবিত স্থানেই মন্দির স্থাপনের অনুমোদন এবং “জায়গা নেই” বলে মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং ধর্মীয় সহাবস্থান ও সমঅধিকারের প্রশ্ন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান কর্মসূচির প্রতি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে তা বৃহত্তর সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে কীভাবে জবাবদিহি করে এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি পূরণে কী পদক্ষেপ নেয়।
মতামত