ধর্মঘটের ফলে বহির্নোঙরে অন্তত ৮০টি বড় জাহাজ (মাদার ভেসেল) আটকা পড়েছে। বন্দরের ইয়ার্ডে ৪১ হাজারেরও বেশি টিইইউএস কনটেইনার জট সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি ডিপোগুলোতে আটকে রয়েছে ১৩ হাজার ৪৮৩টি কনটেইনার, যেগুলো বন্দরে প্রবেশ করতে পারছে না। এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ভয়াবহ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বন্দর ভবনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এখনও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। এটি সরকার টু সরকার (জিটুজি) প্রক্রিয়ার আওতায় চলমান দরকষাকষি মাত্র। তিনি চলমান আন্দোলনকে ‘দেশবিরোধী অপপ্রচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দাবি করেন, এনসিটির যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা বর্তমানে ৭০ শতাংশে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে আধুনিকায়ন জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে আন্দোলনরত চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ অভিযোগ করেছে, আন্দোলন দমাতে প্রশাসনিক চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পথ নেওয়া হয়েছে। পরিষদের নেতাদের দাবি, তাঁদের চারজন শীর্ষ নেতা—আবুল কালাম, শামসুল মিয়া টুকু, রিপন ও আসাদুলকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫ জন নেতার বিরুদ্ধে সম্পদের তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং একই সঙ্গে তাঁদের বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে। এসব কর্মীর বাসার বরাদ্দও বাতিল করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ, যা ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে। তবে ডিবি পুলিশ কাউকে আটকের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে এনসিটি ইজারা দেওয়ার কোনো চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা নেই, কারণ ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে দরকষাকষি এখনও শেষ হয়নি।
আইনি জটিলতাও পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়েছে, যার শুনানি আজ সোমবার চেম্বার আদালতে হওয়ার কথা রয়েছে।
চলমান ধর্মঘটের কারণে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ হয়ে আছে। পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি, শিল্প উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মতামত