বিশেষজ্ঞদের মতে, অপ্রাপ্তির বেদনা ও অতিরিক্ত চাহিদাই মানুষের আত্মসম্মান ক্ষুণ্ণ হওয়ার অন্যতম কারণ। নিজের সামর্থ্যের বাইরে জীবনযাপন কিংবা সামাজিক মর্যাদা রক্ষার নামে ঋণের বোঝা টেনে নেওয়া অনেক সময় মানুষকে অন্যের করুণার পাত্রে পরিণত করে। আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় অপমান ও অবমূল্যায়নের আশঙ্কা।
অন্যদিকে, যারা নিজেদের অর্জন ও বর্তমান অবস্থাকে মেনে নিয়ে কৃতজ্ঞ থাকতে শেখেন, তারা মানসিকভাবে দৃঢ় থাকেন। তাদের আত্মমর্যাদা অন্যের স্বীকৃতির ওপর নির্ভর করে না। ফলে সামাজিক প্রতিযোগিতার চাপ বা কারো অবহেলা তাদের বিচলিত করতে পারে না।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসার তুলনামূলক মানসিকতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যের সাফল্যের ঝলক দেখে অনেকেই নিজেদের জীবনকে তুচ্ছ ভাবতে শুরু করেন। এই হীনম্মন্যতা থেকে মুক্তির পথ হলো আত্মতৃপ্তি ও কৃতজ্ঞতা চর্চা।
তবে সন্তুষ্টির অর্থ স্থবিরতা নয়। উন্নতির চেষ্টা অবশ্যই থাকবে, কিন্তু তা যেন আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে না হয়— এটাই মূল শিক্ষা। নিজের চাহিদা ও সামর্থ্যের ভারসাম্য বজায় রাখলেই জীবনে আসে মানসিক প্রশান্তি।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, প্রকৃত সুখ কোনো বাহ্যিক বস্তুতে নয়; তা নিহিত থাকে মানুষের মনের ভেতর। যে ব্যক্তি অল্পে তুষ্ট থাকতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে ধনী ও শক্তিশালী। কারণ তাকে ছোট করার বা তুষ্ট করার ক্ষমতা তখন আর কারো হাতে থাকে না।
মতামত