নতুন সংসদের প্রথম দায়িত্ব স্পিকার নির্বাচন
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হলে নবনির্বাচিত সংসদের অন্যতম প্রধান কাজ হলো স্পিকার নির্বাচন। অধিবেশনের শুরুতে একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য অস্থায়ীভাবে সভাপতিত্ব করেন এবং তার তত্ত্বাবধানে স্পিকার নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
স্পিকার পদে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে সংসদের যেকোনো সদস্য প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারেন, যা অপর একজন সদস্য কর্তৃক সমর্থিত হতে হয়। যদি একাধিক প্রার্থী থাকেন, তবে সংসদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে স্পিকার নির্বাচিত হন।
স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি শপথ গ্রহণ করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
স্পিকারের দায়িত্ব ও ক্ষমতা
স্পিকার জাতীয় সংসদের সর্বোচ্চ নিরপেক্ষ কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হন। তার প্রধান দায়িত্বসমূহ হলো—
সংসদের অধিবেশন পরিচালনা করা
আলোচনার শৃঙ্খলা বজায় রাখা
সংসদীয় বিধি প্রয়োগ নিশ্চিত করা
বিল, প্রস্তাব ও প্রশ্নোত্তর কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা
সংসদ সদস্যদের বক্তব্য প্রদানের সুযোগ নির্ধারণ করা
সংসদীয় গণতন্ত্রে স্পিকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন পদ্ধতি
স্পিকার নির্বাচনের পর একই অধিবেশনে অথবা পরবর্তী অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। নির্বাচন পদ্ধতি স্পিকার নির্বাচনের অনুরূপ।
ডেপুটি স্পিকার মূলত স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং সংসদ পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেন।
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদ গঠনের পর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক। এই দুটি পদ ছাড়া সংসদের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব নয়।
পদ শূন্য হলে করণীয় ব্যবস্থা
কোনো কারণে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য হলে সংসদ পুনরায় নির্বাচন আয়োজন করে নতুন সদস্য নির্বাচন করে। প্রয়োজনে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাদের অপসারণের বিধানও বিদ্যমান রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কার্যকর সংসদ পরিচালনা ও গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করতে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মতামত