পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা এলাকায় ক্ষুদ্র ঋণ অনুমোদনের কথা বলে এক হিন্দু নারীকে আবাসিক হোটেলে যাওয়ার প্রস্তাব ও নগদ অর্থ ঘুষ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন-এর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মামুন তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগকারী নারী উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। স্বামীহারা ঐ নারী একটি ছোট ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তিনি জানান, ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রথমে ফাউন্ডেশন থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন এবং নিয়মিত কিস্তির মাধ্যমে তা পরিশোধ করেন। পরবর্তীতে এক লাখ টাকা ঋণ নেন এবং সেটিরও উল্লেখযোগ্য অংশ পরিশোধ করেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি তার মেয়ের বিয়ের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ অবস্থায় তিনি তিন লাখ টাকা ঋণের জন্য উপজেলা কার্যালয়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তা মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ রয়েছে, ঋণ অনুমোদনের আশ্বাস দিয়ে ওই কর্মকর্তা তাকে একটি বোর্ডিং বা আবাসিক হোটেলে যাওয়ার প্রস্তাব দেন এবং ঋণ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।
ভুক্তভোগী ঐ হিন্দু নারী অভিযোগ করে বলেন, কিস্তি আদায়ের অজুহাতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা প্রায়ই তার বাসায় যেতেন। বাসায় তিনি ও তার মেয়ে ছাড়া অন্য কেউ না থাকায় বিষয়টির সুযোগ নিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে ঘরে প্রবেশ করতেন বলে দাবি করেন তিনি। একই ধরনের আচরণের অভিযোগ স্থানীয়ভাবে আরেক সদস্য হনুফার ক্ষেত্রেও শোনা যাচ্ছে। এছাড়া কিছু স্বাবলম্বী ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ঋণ দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মোসাঃ ফরিদা আক্তার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, তার মুঠোফোনে কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ আগে তার জানা ছিল না। গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা মামুন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তার বক্তব্য, তিনি কোনো অনৈতিক প্রস্তাব বা ঘুষ দাবি করেননি। বরং ঋণের কিস্তি পরিশোধ এড়াতে ইচ্ছাকৃতভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, অভিযোগকারী থানায় যে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন, সেটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী গৌরী রানী শীল অভিযোগ প্রত্যাহারের কথা অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো অভিযোগ প্রত্যাহার করেননি। বরং এক লাখ টাকা ঋণ অনুমোদনের সময় অভিযুক্ত কর্মকর্তা তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মতামত