ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মিথ্যা অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা ও মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার শিকার দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মৃত্যুঞ্জয় কুমার রায় (ডাঃ এম কে রায়)-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুর ১টা নাগাদ তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামে নিহত দীপু চন্দ্র দাসের বাড়িতে পৌঁছান।
প্রতিনিধি দলটি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন এবং গভীর শোক ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। এ সময় নিহতের বাবা রবিচন্দ্র দাস আবেগঘন কণ্ঠে তার একমাত্র উপার্জনক্ষম পুত্রকে হারানোর বেদনা ও বিচারহীনতার আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমার নিরপরাধ ছেলেকে মিথ্যা অভিযোগে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার দৃষ্টান্ত আগে কখনও দেখিনি। আমি এর ন্যায়বিচার চাই।”
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর ২০২৫) রাতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মিথ্যা অভিযোগ তুলে দীপু চন্দ্র দাসকে একদল উগ্র জনতা নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। হত্যার পরও ক্ষান্ত না হয়ে মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়—যা মানবতা ও সভ্যতার ইতিহাসে এক চরম বর্বরতার নজির।


বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এ ঘটনাকে “ঘৃণ্য, নৃশংস ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য অপরাধ” আখ্যা দিয়ে বলেন, কোনো অভিযোগ, গুজব কিংবা ধর্মীয় বিশ্বাসগত পার্থক্য কখনোই সহিংসতার অজুহাত হতে পারে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। একজন নিরপরাধ মানুষকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পৈশাচিক উল্লাসে হত্যা এবং তার মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা রাষ্ট্র, সমাজ ও মানবাধিকারের জন্য চরম হুমকি।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ড কেবল একটি পরিবারের ক্ষতি নয়—এটি সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের মব ভায়োলেন্স ও ধর্মীয় গুজবের মাধ্যমে আর কোনো নিরপরাধ মানুষের প্রাণ না যায়, সে বিষয়ে রাষ্ট্রকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
হিন্দু মহাজোটের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি আর্থিক সহায়তা হিসেবে নগদ ৫০,০০০ টাকা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে নেতৃবৃন্দ পরিবারটিকে আশ্বস্ত করে বলেন, দীপু চন্দ্র দাস হত্যার ন্যায়বিচার আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে।

সংগঠনের নেতারা আরও জোর দিয়ে বলেন, নিহত দীপু দাসের পরিবার যেন অনিশ্চয়তার মধ্যে না পড়ে—সে জন্য পুরো পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সরকারকেই নিতে হবে। এটি কোনো দয়া নয়, বরং একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।
প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মিঠু রঞ্জন দেব, সহ-সভাপতি তারক চন্দ্র রায় অ্যাডভোকেট (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট), কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মোহন চন্দ্র সরকার, ছাত্র মহাজোটের তনয় সূত্রধর ও প্রান্ত সূত্রধর।
পরিশেষে হিন্দু মহাজোট নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে এমন ঘটনা বারবার ঘটবে।”

মতামত