হিন্দুস নিউজ

সম্পত্তির লোভে শশুরকে ফাসাতে তারই বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ পুত্রবধূর


| প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পত্তির লোভে শশুরকে ফাসাতে তারই বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ পুত্রবধূর
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

ফেনীতে তমা দেব নাথ নামের এক নারীর করা ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আলোচিত ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসছে। অভিযোগের পর পুলিশ কয়েকজনকে আটক করলেও তদন্তে ঘটনার পেছনে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ ও পারিবারিক জটিলতার বিষয় উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তমা দেব নাথ প্রথমে ফেনী জয়কালী মন্দিরে এসে উচ্চস্বরে চিৎকার–চেচামেচি করতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে তার শ্বশুরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে চিৎকার করার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় কাঞ্চন নামের এক ব্যক্তি তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুকের ব্যথা নিয়ে তমা দেব নাথকে ভর্তি করা হয় এবং সারারাত তার পাশে থেকে দেখাশোনা করেন কাঞ্চন নামের ওই ব্যক্তি। হাসপাতালের একাধিক কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি রাতভর তমা দেব নাথের সেবা-যত্ন করেন।

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় তমা দেব নাথ দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কাছে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মর্মে একটি ডকুমেন্ট দেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে কর্তৃপক্ষ জানান, যেহেতু রোগী বুকের ব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন এবং এ সংক্রান্ত কোনো চিকিৎসা পরীক্ষা তখনো হয়নি, তাই সরাসরি এ ধরনের সনদ দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তখন তাকে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে পুলিশি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা করা যায়।

পরবর্তীতে তিনি মৌখিকভাবে থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তার শ্বশুরসহ আরও দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করে পুলিশ শ্বশুরকে ছেড়ে দেয়।

এদিকে তমা দেব নাথের স্বামীর বিষয়ে জানা গেছে, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং অনেকটা প্রতিবন্ধীর মতো অবস্থায় আছেন। পারিবারিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, তার শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি সংসারের দায়িত্ব বা স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনে অনেক ক্ষেত্রে অক্ষম। ফলে সংসারের দেখভাল, বাজার খরচসহ বিভিন্ন বিষয় দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরই দেখাশোনা করতেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, কিছু ব্যক্তি তমা দেব নাথকে প্ররোচনা দিয়ে থাকতে পারেন—এমন সন্দেহও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তাকে বোঝানো হয়েছিল যে তার স্বামী শারীরিকভাবে অক্ষম এবং শ্বশুর নাকি পাসপোর্ট করে ভারতে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সে ক্ষেত্রে সম্পত্তি থেকে তারা বঞ্চিত হতে পারেন—এমন আশঙ্কা দেখিয়ে শ্বশুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে প্ররোচিত করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পুলিশ বলছে, ঘটনার সব দিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে তমা দেব নাথের স্বামী সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তার স্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং কয়েকজন নিয়মিত তাদের বাসায় আসা–যাওয়া করতেন। তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সমীর নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাজতে রয়েছেন।

সমীরের দাবি, তমা দেব নাথের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভাই–বোনের মতো ছিল। তবে প্রকৃত সত্য কী, তা আদালতের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে একটি অনুসন্ধানী টিম তমা দেব নাথের শ্বশুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার বক্তব্য নেয়। তিনি এ ঘটনায় নিজেকে লজ্জিত ও হতভম্ব বলে উল্লেখ করে বলেন, “আমি ভাবতেই পারিনি একজন পুত্রবধূ সম্পত্তির জন্য তার শ্বশুরের নামে এমন অভিযোগ করতে পারে। আমি যতদিন জীবিত আছি ততদিন সম্পত্তির মালিক আমি। মৃত্যুর পর আইন অনুযায়ী ওয়ারিশরা তাদের প্রাপ্য পাবে। বর্তমানে আমি নিয়মিত তাদের খরচ দিচ্ছি।”

তিনি আরও জানান, সামাজিকভাবে পুত্রবধূ বা তার পরিবারের সম্মানহানি না হোক—এই বিবেচনায় তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে তেমন কিছু বলতে চাননি।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কারা তমা দেব নাথকে প্ররোচিত করেছেন—সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সম্পত্তির লোভে শশুরকে ফাসাতে তারই বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ পুত্রবধূর

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

ফেনীতে তমা দেব নাথ নামের এক নারীর করা ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আলোচিত ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসছে। অভিযোগের পর পুলিশ কয়েকজনকে আটক করলেও তদন্তে ঘটনার পেছনে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ ও পারিবারিক জটিলতার বিষয় উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তমা দেব নাথ প্রথমে ফেনী জয়কালী মন্দিরে এসে উচ্চস্বরে চিৎকার–চেচামেচি করতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে তার শ্বশুরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে চিৎকার করার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় কাঞ্চন নামের এক ব্যক্তি তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুকের ব্যথা নিয়ে তমা দেব নাথকে ভর্তি করা হয় এবং সারারাত তার পাশে থেকে দেখাশোনা করেন কাঞ্চন নামের ওই ব্যক্তি। হাসপাতালের একাধিক কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি রাতভর তমা দেব নাথের সেবা-যত্ন করেন।

হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় তমা দেব নাথ দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কাছে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মর্মে একটি ডকুমেন্ট দেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে কর্তৃপক্ষ জানান, যেহেতু রোগী বুকের ব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন এবং এ সংক্রান্ত কোনো চিকিৎসা পরীক্ষা তখনো হয়নি, তাই সরাসরি এ ধরনের সনদ দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তখন তাকে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে পুলিশি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা করা যায়।

পরবর্তীতে তিনি মৌখিকভাবে থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তার শ্বশুরসহ আরও দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করে পুলিশ শ্বশুরকে ছেড়ে দেয়।

এদিকে তমা দেব নাথের স্বামীর বিষয়ে জানা গেছে, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং অনেকটা প্রতিবন্ধীর মতো অবস্থায় আছেন। পারিবারিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, তার শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি সংসারের দায়িত্ব বা স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনে অনেক ক্ষেত্রে অক্ষম। ফলে সংসারের দেখভাল, বাজার খরচসহ বিভিন্ন বিষয় দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরই দেখাশোনা করতেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, কিছু ব্যক্তি তমা দেব নাথকে প্ররোচনা দিয়ে থাকতে পারেন—এমন সন্দেহও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তাকে বোঝানো হয়েছিল যে তার স্বামী শারীরিকভাবে অক্ষম এবং শ্বশুর নাকি পাসপোর্ট করে ভারতে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সে ক্ষেত্রে সম্পত্তি থেকে তারা বঞ্চিত হতে পারেন—এমন আশঙ্কা দেখিয়ে শ্বশুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে প্ররোচিত করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পুলিশ বলছে, ঘটনার সব দিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে তমা দেব নাথের স্বামী সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তার স্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং কয়েকজন নিয়মিত তাদের বাসায় আসা–যাওয়া করতেন। তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সমীর নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাজতে রয়েছেন।

সমীরের দাবি, তমা দেব নাথের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভাই–বোনের মতো ছিল। তবে প্রকৃত সত্য কী, তা আদালতের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে একটি অনুসন্ধানী টিম তমা দেব নাথের শ্বশুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার বক্তব্য নেয়। তিনি এ ঘটনায় নিজেকে লজ্জিত ও হতভম্ব বলে উল্লেখ করে বলেন, “আমি ভাবতেই পারিনি একজন পুত্রবধূ সম্পত্তির জন্য তার শ্বশুরের নামে এমন অভিযোগ করতে পারে। আমি যতদিন জীবিত আছি ততদিন সম্পত্তির মালিক আমি। মৃত্যুর পর আইন অনুযায়ী ওয়ারিশরা তাদের প্রাপ্য পাবে। বর্তমানে আমি নিয়মিত তাদের খরচ দিচ্ছি।”

তিনি আরও জানান, সামাজিকভাবে পুত্রবধূ বা তার পরিবারের সম্মানহানি না হোক—এই বিবেচনায় তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে তেমন কিছু বলতে চাননি।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কারা তমা দেব নাথকে প্ররোচিত করেছেন—সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
সম্পত্তির লোভে শশুরকে ফাসাতে তারই বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ পুত্রবধূর
0:00 0:00
1.0x