শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
হিন্দুস নিউজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

চন্দ্রনাথের সতীর অপ্রকাশিত বিগ্রহই কি আজকের ত্রিপুরেশ্বরী মা? ভক্তকুলের কৌতূহল মেটাতে পৌরাণিক ব্যাখ্যা


| প্রিন্ট সংস্করণ

চন্দ্রনাথের সতীর অপ্রকাশিত বিগ্রহই কি আজকের ত্রিপুরেশ্বরী মা? ভক্তকুলের কৌতূহল মেটাতে পৌরাণিক ব্যাখ্যা
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
ত্রিপুরার উদয়পুরস্থিত বিশ্ববিখ্যাত মা ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির বা 'মাতাবাড়ি'কে ঘিরে ভক্ত মহলে এক চিরন্তন জিজ্ঞাসা—মা ত্রিপুরেশ্বরী কি আসলেই বাংলাদেশের চট্টগ্রামের চন্দ্রনাথ ধাম থেকে আগরতলার সন্নিকটে এসে স্থাপিত হয়েছেন? লোকগাঁথা এবং পৌরাণিক তথ্যের মেলবন্ধনে এই প্রশ্নের উত্তরটি অত্যন্ত অলৌকিক ও তাৎপর্যপূর্ণ।

জনশ্রুতি ও ঐতিহাসিক নথি অনুসারে, তৎকালীন ত্রিপুরার মহারাজা ধন্যমাণিক্য ১৫০১ সালে স্বপ্নাদেশ প্রাপ্ত হয়ে চট্টগ্রামের চন্দ্রনাথ তীর্থধাম থেকেই দেবীর বিগ্রহ উদয়পুরে এনেছিলেন।


​এই অলৌকিক কাহিনীর সূত্রপাত ঘটে চট্টগ্রামের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশের একটি গ্রাম থেকে। প্রচলিত আছে, সেখানে এক ধোপার গাভী প্রতিদিন বনের ভেতর একটি নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে নিজে থেকেই দুধ দিত। কৌতূহলী ধোপা সেখানে গিয়ে একটি সুন্দর দেবী বিগ্রহ ও একটি শিবলিঙ্গ খুঁজে পান। রাজা ধন্যমাণিক্য এই অলৌকিক সংবাদ পেয়ে সেখানে মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেন। কিন্তু অদ্ভুতভাবে, শত চেষ্টা করেও সেই শিবলিঙ্গ মাটি থেকে তোলা সম্ভব হয়নি। এমনকি হাতি দিয়ে টেনেও বিফল হতে হয়। সেই রাতেই রাজা ভগবান মহাদেবের স্বপ্নাদেশ পান যে, শিবলিঙ্গটি সরানো সম্ভব না হলেও তিনি দেবীর বিগ্রহ নিয়ে যেতে পারেন। তবে শর্ত ছিল, মধ্যরাত থেকে যাত্রা শুরু করে সূর্যোদয়ের আগে তিনি যতটুকু পথ যেতে পারবেন, সেখানেই দেবীকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

​রাজা দেবী বিগ্রহ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমান উদয়পুরে পৌঁছাতেই আকাশে সূর্যের উদয় ঘটে। দৈব আদেশ মেনে রাজা সেখানেই দেবীকে স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে এক বড় দ্বিধা দেখা দেয়; রাজা ওই স্থানে আগে থেকেই তাঁর ইষ্টদেবতা ভগবান বিষ্ণুর মন্দির তৈরি করেছিলেন। সেখানে মহাশক্তির মূর্তি কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে রাজা চিন্তিত থাকাকালীন আবারও স্বপ্নাদেশে দেবী জানান যে, ওই স্থানেই সতীর ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি বা দক্ষিণ পদ পতিত হয়েছিল। ফলে বিষ্ণু ও শক্তির আরাধনায় কোনো বাধা নেই। ১৫০১ সালে রাজা সেই বিষ্ণু মন্দিরকেই সতীপীঠ হিসেবে রূপান্তরিত করেন, যেখানে আজও বিষ্ণু ও শক্তি দেবীর একত্রে পূজা হওয়ার এক বিরল প্রথা বজায় রয়েছে।

​৭৫ ফুট উঁচু এই মন্দিরটি ত্রিপুরার নিজস্ব স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এবং কচ্ছপের পিঠের মতো আকৃতির টিলার ওপর অবস্থিত হওয়ায় একে 'কূর্ম পীঠ' বলা হয়। মন্দিরের অভ্যন্তরে দুটি কষ্টিপাথরের বিগ্রহ বর্তমান। বড় বিগ্রহটি রাজা ধন্যমাণিক্য চন্দ্রনাথ থেকে এনেছিলেন এবং ছোট মূর্তিটি 'ছোট মা' নামে পরিচিত, যা পরবর্তীকালে রাজা কল্যাণমাণিক্য তাঁর খনন করা 'কল্যাণসাগর' দীঘি থেকে উদ্ধার করে স্থাপন করেন। চট্টগ্রামের চন্দ্রনাথের সেই অপ্রকাশিত বিগ্রহ আর উদয়পুরের এই মহাপীঠ আজও দুই বাংলার ভক্তদের হৃদয়ে এক অবিচ্ছেদ্য আধ্যাত্মিক যোগসূত্র হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চন্দ্রনাথের সতীর অপ্রকাশিত বিগ্রহই কি আজকের ত্রিপুরেশ্বরী মা? ভক্তকুলের কৌতূহল মেটাতে পৌরাণিক ব্যাখ্যা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬

featured Image
ত্রিপুরার উদয়পুরস্থিত বিশ্ববিখ্যাত মা ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির বা 'মাতাবাড়ি'কে ঘিরে ভক্ত মহলে এক চিরন্তন জিজ্ঞাসা—মা ত্রিপুরেশ্বরী কি আসলেই বাংলাদেশের চট্টগ্রামের চন্দ্রনাথ ধাম থেকে আগরতলার সন্নিকটে এসে স্থাপিত হয়েছেন? লোকগাঁথা এবং পৌরাণিক তথ্যের মেলবন্ধনে এই প্রশ্নের উত্তরটি অত্যন্ত অলৌকিক ও তাৎপর্যপূর্ণ।

জনশ্রুতি ও ঐতিহাসিক নথি অনুসারে, তৎকালীন ত্রিপুরার মহারাজা ধন্যমাণিক্য ১৫০১ সালে স্বপ্নাদেশ প্রাপ্ত হয়ে চট্টগ্রামের চন্দ্রনাথ তীর্থধাম থেকেই দেবীর বিগ্রহ উদয়পুরে এনেছিলেন।


​এই অলৌকিক কাহিনীর সূত্রপাত ঘটে চট্টগ্রামের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশের একটি গ্রাম থেকে। প্রচলিত আছে, সেখানে এক ধোপার গাভী প্রতিদিন বনের ভেতর একটি নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে নিজে থেকেই দুধ দিত। কৌতূহলী ধোপা সেখানে গিয়ে একটি সুন্দর দেবী বিগ্রহ ও একটি শিবলিঙ্গ খুঁজে পান। রাজা ধন্যমাণিক্য এই অলৌকিক সংবাদ পেয়ে সেখানে মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেন। কিন্তু অদ্ভুতভাবে, শত চেষ্টা করেও সেই শিবলিঙ্গ মাটি থেকে তোলা সম্ভব হয়নি। এমনকি হাতি দিয়ে টেনেও বিফল হতে হয়। সেই রাতেই রাজা ভগবান মহাদেবের স্বপ্নাদেশ পান যে, শিবলিঙ্গটি সরানো সম্ভব না হলেও তিনি দেবীর বিগ্রহ নিয়ে যেতে পারেন। তবে শর্ত ছিল, মধ্যরাত থেকে যাত্রা শুরু করে সূর্যোদয়ের আগে তিনি যতটুকু পথ যেতে পারবেন, সেখানেই দেবীকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

​রাজা দেবী বিগ্রহ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমান উদয়পুরে পৌঁছাতেই আকাশে সূর্যের উদয় ঘটে। দৈব আদেশ মেনে রাজা সেখানেই দেবীকে স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে এক বড় দ্বিধা দেখা দেয়; রাজা ওই স্থানে আগে থেকেই তাঁর ইষ্টদেবতা ভগবান বিষ্ণুর মন্দির তৈরি করেছিলেন। সেখানে মহাশক্তির মূর্তি কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে রাজা চিন্তিত থাকাকালীন আবারও স্বপ্নাদেশে দেবী জানান যে, ওই স্থানেই সতীর ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি বা দক্ষিণ পদ পতিত হয়েছিল। ফলে বিষ্ণু ও শক্তির আরাধনায় কোনো বাধা নেই। ১৫০১ সালে রাজা সেই বিষ্ণু মন্দিরকেই সতীপীঠ হিসেবে রূপান্তরিত করেন, যেখানে আজও বিষ্ণু ও শক্তি দেবীর একত্রে পূজা হওয়ার এক বিরল প্রথা বজায় রয়েছে।

​৭৫ ফুট উঁচু এই মন্দিরটি ত্রিপুরার নিজস্ব স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এবং কচ্ছপের পিঠের মতো আকৃতির টিলার ওপর অবস্থিত হওয়ায় একে 'কূর্ম পীঠ' বলা হয়। মন্দিরের অভ্যন্তরে দুটি কষ্টিপাথরের বিগ্রহ বর্তমান। বড় বিগ্রহটি রাজা ধন্যমাণিক্য চন্দ্রনাথ থেকে এনেছিলেন এবং ছোট মূর্তিটি 'ছোট মা' নামে পরিচিত, যা পরবর্তীকালে রাজা কল্যাণমাণিক্য তাঁর খনন করা 'কল্যাণসাগর' দীঘি থেকে উদ্ধার করে স্থাপন করেন। চট্টগ্রামের চন্দ্রনাথের সেই অপ্রকাশিত বিগ্রহ আর উদয়পুরের এই মহাপীঠ আজও দুই বাংলার ভক্তদের হৃদয়ে এক অবিচ্ছেদ্য আধ্যাত্মিক যোগসূত্র হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
চন্দ্রনাথের সতীর অপ্রকাশিত বিগ্রহই কি আজকের ত্রিপুরেশ্বরী মা? ভক্তকুলের কৌতূহল মেটাতে পৌরাণিক ব্যাখ্যা
0:00 0:00
1.0x