বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠনে সনাতনী সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত না করায় স্থানীয় সনাতনী সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যদিও প্রকাশিত তালিকায় বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে, কিন্তু সাতটি উপজেলায় উল্লেখযোগ্য সনাতনী ভোটার থাকা সত্ত্বেও তাদের কাউকে সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়নি। এই বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি নিরসনে এবং সনাতনী সম্প্রদায়ের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বান্দরবান ৩০০ নং আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী’র সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় সনাতনী নেতৃবৃন্দ।
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সার্বিক উন্নয়ন ও সকল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সুষম প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে নতুনভাবে পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্তমান বিএনপি সরকার। তবে এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পর জেলার বিশাল একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ওই তালিকায় দেখা গেছে, বান্দরবান জেলা পরিষদ গঠনে প্রায় প্রতিটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলেও সেখানে কোনো সনাতনী বা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধির নাম রাখা হয়নি। এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বান্দরবানের স্থায়ী বাসিন্দা ও বিশেষ করে সনাতনী সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক বান্দরবান জেলা সদরের সিনিয়র সাংবাদিক এস বাসু দাশের সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ওনি জানান এই তালিকার কোনো সত্যতা নেই। এটা কোনো একটা মহল সুকৌশলে গুজব ছড়াচ্ছে।
প্রতিবেদন তৈরী করা অব্দি আর কারো সাথে হিন্দু'স নিউজের প্রতিনিধি যোগাযোগ করেননি।

ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, বান্দরবানের অন্যতম বৃহত্তম উপজেলা লামায় বিপুল পরিমাণ সনাতনী জনগোষ্ঠীর বাস। সরকারি-বেসরকারি নানা কর্মকাণ্ডে এই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও জেলা পরিষদ গঠনে তারা বারবার বঞ্চিত হচ্ছে। প্রকাশিত তালিকায় লামা উপজেলা থেকে প্রতিনিধি থাকলেও সেখানে সনাতনী সমাজের কোনো ঠাঁই হয়নি। এই অবস্থায় বান্দরবান ৩০০ নং আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী'র প্রতি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন জেলার সনাতনী সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বিশ্বাস করেন, রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী একজন ন্যায়নিষ্ঠ অভিভাবক হিসেবে এই বৈষম্য নিরসনে দ্রুত হস্তক্ষেপ করবেন এবং জেলা পরিষদে সনাতনীদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ধারাকে আরও বেগবান করবেন। বর্তমান সরকারের সুশাসন ও সমঅধিকারের নীতি রক্ষায় এই দাবি এখন জেলার সচেতন মহলের প্রধান চাওয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মতামত