হিন্দুস নিউজ

সম্প্রীতিির বান্দরবানে সনাতনী সমাজের চরম অবমূল্যায়ন: জেলা পরিষদ গঠনে থাকছে না সনাতনী প্রতিনিধি


| প্রিন্ট সংস্করণ

সম্প্রীতিির বান্দরবানে সনাতনী সমাজের চরম অবমূল্যায়ন: জেলা পরিষদ গঠনে থাকছে না সনাতনী প্রতিনিধি
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠনে সনাতনী সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত না করায় স্থানীয় সনাতনী সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যদিও প্রকাশিত তালিকায় বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে, কিন্তু সাতটি উপজেলায় উল্লেখযোগ্য সনাতনী ভোটার থাকা সত্ত্বেও তাদের কাউকে সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়নি। এই বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি নিরসনে এবং সনাতনী সম্প্রদায়ের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বান্দরবান ৩০০ নং আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী’র সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় সনাতনী নেতৃবৃন্দ।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সার্বিক উন্নয়ন ও সকল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সুষম প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে নতুনভাবে পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্তমান বিএনপি সরকার। তবে এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পর জেলার বিশাল একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ওই তালিকায় দেখা গেছে, বান্দরবান জেলা পরিষদ গঠনে প্রায় প্রতিটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলেও সেখানে কোনো সনাতনী বা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধির নাম রাখা হয়নি। এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বান্দরবানের স্থায়ী বাসিন্দা ও বিশেষ করে সনাতনী সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।


​বান্দরবান পার্বত্য জেলাটি দীর্ঘকাল ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে পরিচিত। এখানে মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক হিন্দু বা সনাতনী ধর্মাবলম্বী মানুষ অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করে আসছেন। ভাইরাল হওয়া তালিকায় যেখানে মারমা, চাকমা, বম, ত্রিপুরা, ম্রো, চাক এবং খিয়াং সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে সনাতনী সম্প্রদায়ের একজন প্রতিনিধিকেও রাখা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একটি জেলার সুষম উন্নয়নের জন্য সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অংশগ্রহণ জরুরি, কিন্তু এই তালিকার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বড় জনগোষ্ঠীকে পুরোপুরি প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
​বিশেষ করে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এই কারণে যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে সনাতনী সম্প্রদায়কে বরাবরই একটি শক্তিশালী ভোট ব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা সনাতনী সমাজকে মূল্যায়নের নানা প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার দিলেও বাস্তবে জেলা পরিষদ গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্তরে তাদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। বান্দরবানের সাতটি উপজেলাতেই সনাতনী সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের বসতি রয়েছে, তবুও কোনো একটি উপজেলা হতেও একজন প্রতিনিধিকেও জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনীত করার নাম আসেনি। এই বঞ্চনা সনাতনী সমাজকে গভীরভাবে বিষণ্ণ ও লজ্জিত করছে বলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক বান্দরবান জেলা সদরের সিনিয়র সাংবাদিক এস বাসু দাশের সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ওনি জানান এই তালিকার কোনো সত্যতা নেই। এটা কোনো একটা মহল সুকৌশলে গুজব ছড়াচ্ছে।  

প্রতিবেদন তৈরী করা অব্দি আর কারো সাথে হিন্দু'স নিউজের প্রতিনিধি যোগাযোগ করেননি। 

ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, বান্দরবানের অন্যতম বৃহত্তম উপজেলা লামায় বিপুল পরিমাণ সনাতনী জনগোষ্ঠীর বাস। সরকারি-বেসরকারি নানা কর্মকাণ্ডে এই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও জেলা পরিষদ গঠনে তারা বারবার বঞ্চিত হচ্ছে। প্রকাশিত তালিকায় লামা উপজেলা থেকে প্রতিনিধি থাকলেও সেখানে সনাতনী সমাজের কোনো ঠাঁই হয়নি। এই অবস্থায় বান্দরবান ৩০০ নং আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী'র প্রতি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন জেলার সনাতনী সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বিশ্বাস করেন, রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী একজন ন্যায়নিষ্ঠ অভিভাবক হিসেবে এই বৈষম্য নিরসনে দ্রুত হস্তক্ষেপ করবেন এবং জেলা পরিষদে সনাতনীদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ধারাকে আরও বেগবান করবেন। বর্তমান সরকারের সুশাসন ও সমঅধিকারের নীতি রক্ষায় এই দাবি এখন জেলার সচেতন মহলের প্রধান চাওয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সম্প্রীতিির বান্দরবানে সনাতনী সমাজের চরম অবমূল্যায়ন: জেলা পরিষদ গঠনে থাকছে না সনাতনী প্রতিনিধি

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠনে সনাতনী সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত না করায় স্থানীয় সনাতনী সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যদিও প্রকাশিত তালিকায় বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে, কিন্তু সাতটি উপজেলায় উল্লেখযোগ্য সনাতনী ভোটার থাকা সত্ত্বেও তাদের কাউকে সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়নি। এই বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি নিরসনে এবং সনাতনী সম্প্রদায়ের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বান্দরবান ৩০০ নং আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী’র সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় সনাতনী নেতৃবৃন্দ।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সার্বিক উন্নয়ন ও সকল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সুষম প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে নতুনভাবে পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্তমান বিএনপি সরকার। তবে এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পর জেলার বিশাল একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ওই তালিকায় দেখা গেছে, বান্দরবান জেলা পরিষদ গঠনে প্রায় প্রতিটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলেও সেখানে কোনো সনাতনী বা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধির নাম রাখা হয়নি। এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বান্দরবানের স্থায়ী বাসিন্দা ও বিশেষ করে সনাতনী সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।


​বান্দরবান পার্বত্য জেলাটি দীর্ঘকাল ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে পরিচিত। এখানে মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক হিন্দু বা সনাতনী ধর্মাবলম্বী মানুষ অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করে আসছেন। ভাইরাল হওয়া তালিকায় যেখানে মারমা, চাকমা, বম, ত্রিপুরা, ম্রো, চাক এবং খিয়াং সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে সনাতনী সম্প্রদায়ের একজন প্রতিনিধিকেও রাখা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একটি জেলার সুষম উন্নয়নের জন্য সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অংশগ্রহণ জরুরি, কিন্তু এই তালিকার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বড় জনগোষ্ঠীকে পুরোপুরি প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।

​বিশেষ করে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এই কারণে যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে সনাতনী সম্প্রদায়কে বরাবরই একটি শক্তিশালী ভোট ব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা সনাতনী সমাজকে মূল্যায়নের নানা প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার দিলেও বাস্তবে জেলা পরিষদ গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্তরে তাদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। বান্দরবানের সাতটি উপজেলাতেই সনাতনী সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের বসতি রয়েছে, তবুও কোনো একটি উপজেলা হতেও একজন প্রতিনিধিকেও জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনীত করার নাম আসেনি। এই বঞ্চনা সনাতনী সমাজকে গভীরভাবে বিষণ্ণ ও লজ্জিত করছে বলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক বান্দরবান জেলা সদরের সিনিয়র সাংবাদিক এস বাসু দাশের সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ওনি জানান এই তালিকার কোনো সত্যতা নেই। এটা কোনো একটা মহল সুকৌশলে গুজব ছড়াচ্ছে।  

প্রতিবেদন তৈরী করা অব্দি আর কারো সাথে হিন্দু'স নিউজের প্রতিনিধি যোগাযোগ করেননি। 

ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, বান্দরবানের অন্যতম বৃহত্তম উপজেলা লামায় বিপুল পরিমাণ সনাতনী জনগোষ্ঠীর বাস। সরকারি-বেসরকারি নানা কর্মকাণ্ডে এই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও জেলা পরিষদ গঠনে তারা বারবার বঞ্চিত হচ্ছে। প্রকাশিত তালিকায় লামা উপজেলা থেকে প্রতিনিধি থাকলেও সেখানে সনাতনী সমাজের কোনো ঠাঁই হয়নি। এই অবস্থায় বান্দরবান ৩০০ নং আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী'র প্রতি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন জেলার সনাতনী সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বিশ্বাস করেন, রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী একজন ন্যায়নিষ্ঠ অভিভাবক হিসেবে এই বৈষম্য নিরসনে দ্রুত হস্তক্ষেপ করবেন এবং জেলা পরিষদে সনাতনীদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ধারাকে আরও বেগবান করবেন। বর্তমান সরকারের সুশাসন ও সমঅধিকারের নীতি রক্ষায় এই দাবি এখন জেলার সচেতন মহলের প্রধান চাওয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
সম্প্রীতিির বান্দরবানে সনাতনী সমাজের চরম অবমূল্যায়ন: জেলা পরিষদ গঠনে থাকছে না সনাতনী প্রতিনিধি
0:00 0:00
1.0x