গত ২৫ ডিসেম্বর, বুধবার, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে ‘তুলসী পূজন দিবস’। এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মহামায়া সেবা কল্প বাংলাদেশ’ তাদের ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে বিশেষ বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
রাজশাহীর দুর্গাপুর এবং খুলনার কয়রা উপজেলার দুটি ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে সংগঠনের পক্ষ থেকে পবিত্র তুলসীগাছ রোপণ করা হয়। কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংগঠনের রাজশাহী বিভাগের পরিচালক শ্রী সুকুমার চন্দ্র এবং খুলনা বিভাগের পরিচালক শ্রী অর্ঘ্য কুমার বৈদ্য।
কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
আয়োজকরা জানান, বর্তমান যান্ত্রিক যুগে মানুষ প্রকৃতি ও আধ্যাত্মিকতা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সনাতন ধর্মে তুলসী দেবীর বিশেষ স্থান রয়েছে। স্কন্দ পুরাণ ও পদ্ম পুরাণে তুলসীর মহিমা বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তুলসী একটি মহৌষধ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভেষজ উদ্ভিদের পরিচর্যায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

দায়িত্বশীলদের বক্তব্য:
কর্মসূচি চলাকালীন রাজশাহীর পরিচালক শ্রী সুকুমার চন্দ্র বলেন, “তুলসী শুধুমাত্র একটি গাছ নয়, এটি আমাদের ভক্তি ও পবিত্রতার প্রতীক। প্রতিটি সনাতনী পরিবারে তুলসী সেবা নিশ্চিত করা এবং যুবসমাজকে ধর্মের প্রতি অনুরাগী করতেই আমাদের এই প্রচেষ্টা।”
অন্যদিকে, খুলনার পরিচালক শ্রী অর্ঘ্য কুমার বৈদ্য বলেন, “মহামায়া সেবা কল্প বাংলাদেশ সর্বদা ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করে। আজকের এই দিনে আমরা মন্দিরে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি স্থানীয় ভক্তদের মাঝেও তুলসীর গুরুত্ব তুলে ধরেছি। ভবিষ্যতে আমরা আরও বড় পরিসরে এই কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে চাই।”
অন্যান্য কার্যক্রম:
বৃক্ষরোপণ ছাড়াও উভয় স্থানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তুলসী পূজন দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। কর্মসূচির শেষে উপস্থিত ভক্ত ও স্থানীয়দের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সংগঠনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ‘মহামায়া সেবা কল্প বাংলাদেশ’ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় উৎসব পালন, দুঃস্থদের সেবা এবং সামাজিক সচেতনতামূলক কাজ করে আসছে।
মতামত