চৈত্র মাস এলেই শুরু হয় ভগবান শিব-এর পবিত্র নীল সন্ন্যাস ব্রত। ভক্তদের কাছে এটি ভক্তি, ত্যাগ ও সংযমের এক মহান সাধনা। যুগ যুগ ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা গভীর শ্রদ্ধা ও আস্থার সঙ্গে এই ব্রত পালন করে আসছেন।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য—বর্তমানে অনেক জায়গায় এই পবিত্র ব্রত তার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে অনেকটাই সরে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কুঞ্জেরহাট হিন্দু যুব সংঘ। সংগঠনটির মতে, ধর্মীয় এই ব্রতকে ঘিরে কিছু স্থানে অপসংস্কৃতি ও অনিয়ম বাড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক নীলের দল মূলত লাভের উদ্দেশ্যে দল গঠন করছে। একটি দল তিন থেকে চার লক্ষ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করলেও পূজা ও ধর্মীয় কাজের জন্য ব্যয় করা হয় মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। বাকি অর্থ বিভিন্ন গানের দল, ডুলি ব্যান্ড, নাচের আয়োজন এবং ব্যক্তিগত ভাগাভাগিতে ব্যয় করা হয়।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো— নতুন প্রজন্মের একটি অংশ বিপথে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই বৈপরীত্য ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝেও নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ভোলা জেলায় এখনো কিছু নীলের দল রয়েছে যারা প্রকৃত ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে ভগবান শিব-এর ব্রত পালন করে আসছে। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে কুঞ্জেরহাট হিন্দু যুব সংঘ।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ধর্ম মানে শুদ্ধতা, সংযম ও ভক্তি। তাই ধর্মের নামে অপসংস্কৃতি, মাদক ও অশালীনতার বিস্তার রোধে সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে।
তাদের প্রত্যাশা—
মহাদেবের নীল সন্ন্যাস ব্রত হোক ভক্তি, শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় মর্যাদার প্রতীক; লাভ বা অপসংস্কৃতির মাধ্যম নয়।


মতামত