ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের ক্ষত এখনও শুকায়নি। দেশজুড়ে যখন সেই নৃশংস হত্যার বিচার ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময় রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় আবারও এক হিন্দু যুবককে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হলো। এই নতুন ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক আরও গভীর হয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে।
নিহত যুবকের নাম অমৃত মন্ডল সম্রাট। স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের অভিযোগ, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিয়ে পরিকল্পিত হামলা চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
HindusNews-এর নিজস্ব প্রতিবেদককে নিহত অমৃত মন্ডল সম্রাটের জামাইবাবু জানান, অমৃত দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থান করার পর সম্প্রতি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর থেকেই স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে তার পূর্বশত্রুতা চলছিল। সেই শত্রুতার জের ধরেই তাকে টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের দৃঢ় বিশ্বাস।
স্বজনদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন অমৃত মন্ডল সম্রাটের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ছড়িয়ে একটি দল তার ওপর হামলা চালায়। তাকে প্রকাশ্যে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয় এবং এক পর্যায়ে তার মৃত্যু ঘটে।
তবে নিহতের পরিবারের প্রশ্ন,
“সে যদি সত্যিই চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ধরা পড়ে, তাহলে ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা আরও দুইজনকে কেন কোনো ধরনের মারধর বা হামলা করা হলো না? শুধুমাত্র অমৃতকেই কেন হত্যা করা হলো?”হিন্দু বলেই অমৃতকে মারা হয়েছে আর ওর সাথে আরো একজন ছিল ও ছিল মুসলিম ওকে একটা ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল,পরে পুলিশ আসলে তাকে অস্ত্র সহ ধরিয়ে দে।মানে ওকে পরে জামিনে বের করে আনতে পারবে।
তিনি আরও বলেন,
“এই ঘটনাটি কোনো গণপিটুনির ফল নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। শুরু থেকেই তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্য ছিল।”
নিহতের স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“অমৃত যদি কোনো অপরাধে জড়িত থাকত, তাহলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া যেত। কিন্তু প্রশাসনের কাছে না দিয়ে কেন তাকে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো? এটি সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত ও বর্বরোচিত।”
উল্লেখ্য, এর আগেই ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে মব তৈরি করে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক নিন্দা ও প্রতিবাদের জন্ম দেয়। সেই ঘটনার বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবি যখন জোরালো হচ্ছে, তখন রাজবাড়ীর পাংশায় অমৃত মন্ডল সম্রাট হত্যাকাণ্ড নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন আদৌ কতটা নিশ্চিত।

প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে বলা হয় :
পুলিশ জানায়, দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ সেলিম শেখ নামে অমৃত মণ্ডলের এক সহযোগীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা। তিনি পাংশার বসা-কুষ্টিয়া গ্রামের ইসলাম শেখের ছেলে।
অমৃত মণ্ডল নিজের নামে এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে আশপাশের এলাকায় ভয়ভীতি দেখিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও চাঁদাবাজি করতেন বলে অভিযোগ আছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভারতে পালিয়ে থেকেও সম্রাট বাহিনীর মাধ্যমে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি নিজ এলাকায় ফিরে আসেন।
আমাদের HINDUS NEWS থেকে ওই থানার এস আই মি: পরিতোষ কে ফোন করলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।শুধু বলেছেন এই ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা।
পরিশেষে নিহত অমৃত মন্ডল সম্রাটের পরিবার ও স্বজনরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন—এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করে প্রকৃত কারণ জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে এবং এর সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মতামত