চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত শ্রী শ্রী জ্যোতিশ্বরানন্দ গীতা মন্দিরে গভীর রাতে সংঘটিত হয়েছে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা। দুর্বৃত্তরা মন্দিরের ৭টি কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মন্দিরের বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী, পূজার উপকরণ, দানবাক্স এবং ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রাতে এলাকায় প্রবল ঝড়ো বৃষ্টি হওয়ায় মন্দিরের সেবায়েত মন্দিরে উপস্থিত ছিলেন না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত মন্দিরে প্রবেশ করে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। মন্দিরের একাধিক কক্ষের তালা ভেঙে তারা ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ব্যবহার্য সামগ্রী তছনছ করে এবং পরে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়।
মন্দির সংশ্লিষ্টরা জানান, সকালে মন্দিরে এসে তারা দেখতে পান, মন্দিরের ৭টি কক্ষের তালা ভাঙা এবং ভেতরের বিভিন্ন সামগ্রী এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। মন্দিরের উঠোনে চোরদের পায়ের ছাপও স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ চক্র এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে মন্দিরের দানবাক্স, পিতলের বিভিন্ন সরঞ্জাম, কাঁসার বাসন, ঘণ্টা, পিতলের মূর্তি, ভোগের জন্য সংরক্ষিত চাল, মূর্তির অলঙ্কার, মন্দিরের ফ্যান, ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ পূজার জন্য ব্যবহৃত নানা গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। পাশাপাশি, শ্রী মগদেশ্বরী মন্দিরের কিছু সামগ্রীও চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মন্দির কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা দাবি করেছেন, এ ঘটনায় প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি হয়েছে। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির কারণে মন্দিরের দৈনন্দিন পূজা-অর্চনা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বর্তমানে নিয়মিত পূজা পরিচালনার মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী বা আর্থিক সামর্থ্য মন্দিরের হাতে নেই বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বলেন, পূজা কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক করতে হলে চুরি হওয়া সব সামগ্রী নতুন করে সংগ্রহ করতে হবে, যা তাদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানই নয়, স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতেও বড় ধরনের আঘাত লেগেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, এটি এই এলাকায় মন্দিরে প্রথম চুরির ঘটনা নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেও শ্রী মগদেশ্বরী মন্দিরে দানবাক্স ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদি চুরির ঘটনা ঘটেছিল। বারবার মন্দিরকে লক্ষ্য করে এমন চুরির ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের সদস্যরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত চোরদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, চুরি হওয়া সামগ্রী উদ্ধারের পাশাপাশি মন্দির ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে মন্দির এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
মতামত